×

প্রথম পাতা

জনসাধারণের ক্ষতি এড়াতে নিজের প্রাণ দিলেন পাইলট

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জনসাধারণের ক্ষতি এড়াতে  নিজের প্রাণ দিলেন পাইলট
কাগজ প্রতিবেদক : নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনমানুষকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছেন চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ ও উইং কমান্ডার সোহান। দেশ মাতৃকা রক্ষার যে শপথ তিনি নিয়েছেন তা রক্ষা করলেন জীবন দিয়ে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাইলটদের বীরত্বের কথা জানিয়ে বলেছে, বৃহস্পতিবার ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে বিমান বাহিনীর ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এর আগে যান্ত্রিক ত্রæটিতে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে বিমানবন্দরের পাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে বিমানটিকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যান দুই পাইলট। এর ফলে অনেক বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় স্থানীয় মানুষ। আকাশে উড্ডয়নরত থাকা অবস্থায় প্রশিক্ষণ বিমানটিতে আগুন লাগার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়- বিমান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এর পরপরই আগুন লেগে যেতে দেখা যায় বিমানটিতে। তখনি পাইলটরা প্যারাসুট দিয়ে নিচে কর্ণফুলী নদীতে পড়েন। স্থানীয়দের মতে, প্রশিক্ষণ বিমানে আগুন ধরলেও সাহস হারাননি দুই বৈমানিক (পাইলট)। দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি ঘনবসতিপূর্ণ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকা থেকে জনবিরল স্থানে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে কর্ণফুলী নদীতে এসে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেন দুই পাইলট। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর জুলধা ১১ নম্বর মাতব্বর ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিমানটি ছিটকে পড়ে। এর আগে আগুন লাগার পরপরই বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেয়া দুই পাইলটকে উদ্ধার করেন কর্ণফুলী নদীতে চলাচলরত নৌকার মাঝিরা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের উপকমিশনার শাকিলা সোলতানা জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে অবস্থিত বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ শেষে নামার সময় যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয়। এ সময় জরুরি অবতরণের আগে বিমানটির চাকার নিচের অংশে আগুন ধরে যায়। পরে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিমানটি অবতরণ করা হয়। এ সময় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাশুট দিয়ে নিরাপদে নেমে আসেন। তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুই পাইলটের মধ্যে আসিম জাওয়াদ (৩২) মারা গেছেন। তিনি বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই দুর্ঘটনায় আহত হন পাইলট সোহান। তিনি বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার হিসেবে কর্মরত। মারা যাওয়া স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার গোপালপুর গ্রামের ড. আমান উল্লাহ ও নীলুফা আক্তারের ছেলে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পতেঙ্গায় যে মডেলের বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হলো ঠিক একই মডেলের আরেকটি বিমান ২০১৭ সালের জুলাইয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলো, তবে সেবার পাইলটরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App