×

প্রথম পাতা

চলতি সপ্তাহেই ফের শুরু হচ্ছে তাপপ্রবাহ

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি সপ্তাহেই ফের শুরু হচ্ছে তাপপ্রবাহ
কাগজ প্রতিবেদক : একটানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পর জনমনে স্বস্তি নিয়ে আসা বৃষ্টি আপাতত বিরতিতে যাচ্ছে। ফলে ফের খরতাপের কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশ। আগামীকাল রবিবার থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আর ১৫ মে থেকে বাকি মাসজুড়েই তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবারও দেশে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। আরো কয়েকটি জায়গায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তাপমাত্রা আগের থেকে কিছুটা বেড়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। এদিকে ২০ থেকে ২৭ মের মধ্যে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আমেরিকান ও ইউনিরোপিয়ান ইউনিয়নের আবহাওয়ার পূর্বাভাস মডেল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, রবিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে থাকবে। এরপর ১৫ তারিখ থেকে আরো বাড়বে। তখন রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেটের কিছু কিছু জায়গায় হয়তো বৃষ্টি থাকবে, কিন্তু অন্যান্য জায়গা থেকে কমে যাবে। বিরতি দিয়ে পুরো মাসেই তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, ২৩-২৫ মের মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আঘাত করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থলভাবে আঘাতের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে পশ্চিম উপকূলে ১৫০ থেকে ১৮০ এবং পূর্ব উপকূলে ১৭০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য এ ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘রিমাল’, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের দেয়া। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ও বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পর। বাংলাদেশের উপরে মৌসুমি বায়ু প্রবাহ শুরু হয় সাধারণত ৩০ মে থেকে ৭ জুনের মধ্যে। বর্ষাকাল শুরুর আগে মার্চ মাসে ‘ঘূর্ণিঝড় মৌসুম’ শুরু হলেও ১০ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড়, নি¤œচাপ কিংবা লঘুচাপও সৃষ্টি হয়নি। ফলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি জমা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি যেহেতু চলতি মাসের ২০ তারিখের পরে সৃষ্টি হতে পারে, তাই এটি খুবই শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে গত ৩১ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ২ মে পর্যন্ত টানা ৩৩ দিন ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। ৫১ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০ এপ্রিল যশোরে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা তাপপ্রবাহেরও সর্বকালের রেকর্ড ভাঙে এবার। আবহাওয়া অধিদপ্তরে পূর্বাভাস অনুসারে, ২ মে থেকে সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেকে বৃষ্টি ধীরে ধীরে সারাদেশে বিস্তৃত হতে থাকে। ৬ মে থেকে সারাদেশে বজ্রঝড় বা কালবৈশাখী শুরু হয়। তখন বলা হয়েছিল, ৭ মের পর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসবে। ওই পূর্বাভাসের পর থেকেই সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা চলছে কয়েকদিন ধরে। আট বিভাগের উপর দিয়েই ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টি কমছে। এদিন তাপমাত্রাও নেমেছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। তবে তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে বাগেরহাটের মোংলায়, ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি। খুলনা বিভাগেও তাপমাত্রা চড়তে শুরু করেছে। গতকাল খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭, যশোরে ৩৫ ও চুয়াডাঙ্গায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া টাঙ্গাইল ও রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ২, ঈশ্বরদীতে ৩৫ দশমিক ২, রংপুরে ৩৩ দশমিক ৩, সিলেটে ৩১ দশমিক ৩, ময়মনসিংহে ৩১ দশমিক ৭, চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৫, বরিশালে ৩৪ দশমিক ৬, পটুয়াখালী ও খেপুপাড়ায় ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ফরিদপুর ও রংপুরে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে গতকাল শুক্রবার সর্বোচ্চ ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। এছাড়া দিনাজপুরে ১৫, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও চুয়াডাঙ্গায় ৩, পটুয়াখালীতে ২, কুমারখালীতে ৮, কুতুবদিয়া ও যশোরে ১, মোংলায় ৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা, নিকলী, নেত্রকোনা, সৈয়দপুর ও চাঁদপুরে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App