×

প্রথম পাতা

নিত্যপণ্যে অস্বস্তি

অস্থির সবজির বাজার, উত্তাপ আমিষেও

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, এমনকি মসলাজাত পণ্যের দামে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের। বাজারে সরবরাহে খুব একটা ঘাটতি না থাকলেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে অন্তত ১০ থেকে ২০ টাকা। বিশেষ করে সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছেছে। এছাড়া আগের মতোই উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে আলু, চিনি, চাল, আটা ও ডাল। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দাম বেড়ে গেলে আমাদের বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়ানো-কমানো আমাদের হাতে নেই। আমরা যেভাবে কিনি সেভাবেই বিক্রি করি। এদিকে বাজার করতে আসা ক্রেতারা সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলছেন, এভাবে তো চলতে পারে না। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের কারণে প্রান্তিক খামারিদের কয়েক লাখ মুরগি মারা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। এই প্রভাব আরো কিছুদিন থাকবে। গতকাল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় উঠেছে। কোথাও আরো ১০ টাকা বাড়তি। রোজার মধ্যেও যা প্রতি কেজি ৩৫০ টাকার আশপাশে ছিল। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে ডিমের দাম ডজনে ২০ টাকা বেড়েছে। ফার্মের বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকা। সাদা রঙের ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংসের দাম ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, গরমের তীব্রতা কমার সঙ্গে সঙ্গে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে বিশেষ নজর দিতে হবে। অন্যথায় বাজার দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদনে না ফিরতে পারলে বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়বে। মাংসের মতো মাছের বাজারেও দামের উত্তাপ। আকারভেদে চাষের তেলাপিয়া ও পাঙাশ কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। চাষের রুই মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ইলিশের বাজারের ঠিক নেই। এক কেজি আকারের ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। দেশি মাছের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। এক কেজি শোল ও মাগুর আকারে ছোট হলেও দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা। মাঝারি আকারের বাইম ও বোয়ালের কেজি হাজার টাকার মতো। এদিকে বেগুনের দাম আবারো শতক ছুঁয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বেগুনের দাম চাওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। বরবটির কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। কিছুটা কমে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পটল ও ঢ্যাঁড়শ। এছাড়া আলুর কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। স্থান ও মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখী ৬০-৭০ টাকা, গাজর ৬০-৭০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা ও প্রতি হালি কাঁচকলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, প্রচণ্ড তাপের কারণে মাঠে সবজি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই বাজারে সবজির সরবরাহ কম, দামও বেড়েছে। নতুন করে কৃষকরা যেসব সবজি লাগাচ্ছেন, তা আসতে সময় লাগবে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে মনে হচ্ছে। চড়া হচ্ছে মসলার বাজার : সামনে কোরবানির ঈদকে ঘিরে সব ধরনের মসলার দাম বাড়ছে। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম গত বছরের এ সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেছে। সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও তাতে দেশের বাজারে কোনো প্রভাব পড়ছে না বরং সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকার মতো বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এখন দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা আলম হোসেন বলেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। তবে দাম এখনো সেভাবে কমেনি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু করলে দেশের বাজারে দাম কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশি ও আমদানি করা রসুনের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেশি রসুন প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২১০ টাকা। আর আমদানি করা রসুনের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। আমদানি করা আদার কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। আর দেশি আদার দাম ৩৫০ টাকার ওপরে। চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মনির হোসেন বলেন, রোজার শেষ দিকে এসে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমতির দিকে ছিল। এখন আবার নতুন করে দাম বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কিনে খাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App