×

প্রথম পাতা

বাইডেনের হুঁশিয়ারি উপেক্ষিত

রাফায় তুমুল ভারী গোলাবর্ষণ আল শিফা হাসপাতালে আরেকটি গণকবর

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 রাফায় তুমুল ভারী গোলাবর্ষণ আল শিফা হাসপাতালে আরেকটি গণকবর
কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা নগরীতে ভারী গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েল। রাফার একজন ত্রাণকর্মী বিবিসিকে বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তুমুল বোমা হামলা হয়েছে। এমন বোমা হামলা গত দুই সপ্তাহেও দেখা যায়নি। রাফা নগরীতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন এরই মধ্যে প্রতিশ্রæত বোমার চালান ইসরায়েলে পাঠানো স্থগিত করে তাদের বড় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইসরায়েলের সেনারা স্থল অভিযানে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ রাফা নগরীতে ঢুকলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্র ও গোলা সরবরাহ করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাইডেন। এরপরও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কয়েকটি ব্যাটালিয়ন রাফায় সক্রিয় থাকার দাবি করে ইসরায়েল সব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সেখানে ট্যাংকবহর পাঠিয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কর্মী লুইস জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক মাইল দূরে রাফার পূর্বাঞ্চলে ঘন ঘন বোমা হামলা হয়েছে। আর সেই বোমার আঘাতে কেঁপে কেঁপে উঠছে পশ্চিম রাফার ভবন- যেখানে তিনি রয়েছেন। এমন হামলার মুখে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে বেশকিছু গাড়ি। তিনি বলেন, রাফায় এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেশিদূর যেতে অপারগ। কারণ তাদের অনেকেই বৃদ্ধ, আবার অনেকেই শিশু। নিরাপদ বলতে জায়গা খুব কম। গাজায় অল্প কিছু অবকাঠামোই দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া গাজার আর কোথাও নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সরব বিরোধিতা সত্ত্বেও, ইসরায়েল রাফায় একটি বড় আকারের আগ্রাসন চালাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। দক্ষিণ গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকা হামাসের শেষ প্রধান শক্ত ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, গাজার অন্যান্য শহর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের কারণে পূর্ণ এই শহরে এখন অভিযান চালালে ব্যাপক বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটবে। বাইডেনের সতর্কবার্তা : সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েল যদি রাফায় হামলা চালায়, তাহলে সেখানে এখন পর্যন্ত যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এমন অস্ত্র আর আমরা সরবরাহ করব না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চালিয়ে যাবে। গত বুধবার প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাফার বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থল অভিযান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি। তারা জনবহুল এলাকাগুলোয় যায়নি। সীমান্তে তারা যা করেছে সেটা ঠিক সীমান্তে। কিন্তু আমি (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু) এবং তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভাকে এটা পরিষ্কার করেছি যে তারা যদি জনবহুল এলকায় যায় তবে আমাদের সমর্থন পাবে না। আমরা অস্ত্র ও আর্টিলারি শেল সরবরাহ করব না। মিসর সীমান্তের কাছে রাফা নগরীর অবস্থান। গাজার অন্যান্য অংশ থেকে এসে রাফায় আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। এর মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাফা শহরে ভারী গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের নিশানায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারিকে ‘খুবই হতাশাজনক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরডান। ১০ সেকেন্ড পরপর বিস্ফোরণের শব্দ : রাফায় জাতিসংঘ ত্রাণসংস্থা থেকে স্কট মরিসন বলেছেন, লড়াই নগরীর কেন্দ্রস্থলের দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। গত বুধবার রাতেও রাফায় অবিরাম গোলাবর্ষণ হয়েছে। প্রতি ১০ সেকেন্ড পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৮৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৭৮ হাজার ৪০৪ জন। অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে বাইডেন : গাজায় অনবরত বেসামরিক লোকের মৃত্যু ও মানবিক পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় ইসরায়েলি অভিযানে লাগাম দিতে ডেমোক্র্যাট ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একাংশের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দক্ষিণ রাফায় এই সপ্তাহে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক প্রবেশ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্তের গাজা অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে দক্ষিণের দুই প্রবেশপথ দিয়ে নতুন কোনো ত্রাণ সহায়তা সরবরাহ করা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ‘অভূতপূর্ব’ নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মিত্রদের মধ্যে যেসব বিরোধ ছিল সেগুলো ‘বন্ধ দরজার আড়ালে একটি বাস্তব উপায়ে’ সমাধান করা হয়েছে। তবে, বুধবার বিবিসির নিউজআওয়ারকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন বোমার সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে। গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাফা ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার সকালে ক্রসিংটি বন্ধ ছিল। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা নিকটবর্তী কেরেম শালোম ক্রসিংটি আবার খুলছে। হামাসের রকেট হামলার কারণে এটি ৪ দিন ধরে বন্ধ ছিল। আল শিফা হাসপাতালে আরেকটি গণকবর : গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের শিকার হওয়া আল শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নতুন করে আরো একটি গণকবর শনাক্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্যকর্মীরা গত বুধবার সেখান থেকে ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এবং হামাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান মোতাসসেম সালাহ সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের ভেতরে তৃতীয় গণকবর পাওয়া গেছে। গাজা উপত্যকায় হামাস শাসিত সরকারের গণমাধ্যম শাখা আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে, আল শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ওই স্থানটি থেকে কমপক্ষে ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ইসরায়েল হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আল শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কমপক্ষে ১২টি মরদেহ কালো রঙের প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। মার্চে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের লড়াইয়ে আল শিফা হাসপাতালটি বিধ্বস্ত হয়। গত মাসে এই হাসপাতাল প্রাঙ্গণের দুটি গণকবর থেকে প্রায় ৩০টি মরদেহ উদ্ধার হয়। এ পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন হাসপাতালের ৭টি গণকবর থেকে ৫২০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App