×

প্রথম পাতা

বিনয় কোয়াত্রার ঢাকা সফর

কার টাকায় তিস্তা খনন?

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কার টাকায় তিস্তা খনন?
** তিস্তায় টাকা ঢালতে চায় ভারত ** টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরছে চীনও ** টানাটানিতে প্রকল্পই অনিশ্চিত! ** কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য সফরে এসে তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক লড়াই শুরু করে দিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা। বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত তিস্তা নদী ড্রেজিং করে এর উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনা নেয়ার পর তাতে টাকা দেয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরেই ঘোরাঘুরি করছে চীন। উল্টোদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার পানি ভাগাভাগি চুক্তির কথা চলছে। কিন্তু সেটি না হওয়ায় বাংলাদেশ যখন চীনের অর্থায়নে তিস্তাকেই খনন করার পরিকল্পনা করছে; তখন ভারতও আচমকা সেই একই প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী বলে জানায়। এরকম পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে কার টাকায় তিস্তা খনন হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আদৌ তিস্তা খনন হবে, নাকি দুই দেশের কূটনৈতিক লড়াইয়ে তিস্তা যেমন আছে; তেমনি পড়ে থাকবে- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রসঙ্গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা সফরে আসেন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গেও দেখা করেন। এরপর তিনি পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের মধ্যেই চীনকে তিস্তা থেকে দূরে রাখতে ভারত তার পররাষ্ট্র সচিবকে নীরবে ঢাকা পাঠায়। তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন ধরে না হওয়ায় তিস্তাকে খননসহ একটি প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ। সেই প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করার প্রস্তাব আগেই দিয়েছে। গতকাল ঢাকা সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রাও জানিয়েছেন, ভারত তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চায়। বিশাল এই প্রকল্পের কাজ কে পাবে অথবা কখন এর কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো কাউকে দায়িত্ব দেয়নি। এরকম পরিস্থিতিতে তারা মনে করছেন, তিস্তায় ভারত ও চীন উভয়ের দৃষ্টি পড়ায় বাংলাদেশকে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর আগে, দিনভর ঠাসা কর্মসূচির মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হলেও তিস্তার অংশটিই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। হাছান-কোয়াত্রা আলোচনায় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা, তিস্তা প্রকল্পে ভারতের অর্থায়ন, ভিসা জটিলতা কমানো, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং নেপাল-ভুটানের ট্রানজিট দেয়া ও জলবিদ্যুতের দাম নির্ধারণের বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তায় আমরা একটা বৃহৎ প্রকল্প নিয়েছি। ভারত সেখানে অর্থায়ন করতে চায়। আমি বলেছি, তিস্তায় যে প্রকল্পটি হবে- সেটা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী হবে। আমাদের প্রয়োজন যেন পূরণ হয়। তিস্তায় চীনও অর্থায়ন করতে চাচ্ছে- এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত যে এক্ষেত্রে সহায়তা করতে চাইছে, সে বিষয় নিয়েই আজকে আলোচনা হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক। অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক। যে সম্পর্ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের সংযুক্তি নিয়ে বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা সহজ করার বিষয়ে বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশের ১৬-১৭ লাখ মানুষের জন্য ভিসা ইস্যু করে ভারত। বিশ্বে সর্বোচ্চ ভিসা ভারত ইস্যু করে বাংলাদেশে। অনেক সময় ভিসা পেতে অপেক্ষা করতে হয়। সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, এখানকার (বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র) সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তারা আরো লোকবল নিয়োগ করছেন। কোনো উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় কাজটি করা যায় কি না, তা তারা দেখছেন। তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) অনলাইনের কথা বলেছেন। অনলাইনে আবেদন করার কথা বলেছেন, যেন সহজে মানুষ ভিসা পায়। তারা (ভারত) এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। ভারত হয়ে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা ফিজিক্যাল কানেকটিভিটি নিয়ে আলোচনা করেছি। সেটা অনেক দূর এগিয়েছে। বিশেষ করে, নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিট দেয়া এবং এ দুদেশ থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। ইতোমধ্যে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করার ক্ষেত্রে সবকিছু চূড়ান্ত হয়েছে। ট্যারিফ নিয়েও আলোচনা অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে। সেটি আমাদের ক্রয় কমিটিতে যাবে। সেটি হলে ভারতের ওপর দিয়ে আমরা নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারব। সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী নয়, এমন অস্ত্র ব্যবহার করার ওপর আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। তিনি (কোয়াত্রা) জানিয়েছেন, তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এবং তারা সেটি অনুসরণও করেন। তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। এটি নিয়ে দুই দেশের সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়, উভয় পক্ষ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের জনগণের উন্নতির জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগকে আরো শক্তিশালী করার জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব কোয়াত্রা পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। আলোচনাটি দ্বিপক্ষীয় সমস্যা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার উপায়গুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। তারা ভাগাভাগি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং উদীয়মান সুযোগগুলোকে পুঁজি করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা সবুজ শক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রযুক্তি স্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা, সংযোগ, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার ওপর জোর দেন। দিল্লি কাছে, বেইজিং একটু দূরে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিল্লি নাকি বেইজিং সফর করবেন এমন প্রশ্নে কৌশলী জবাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দিল্লি তো আমাদের সবচেয়ে কাছে; বেইজিং একটু দূরে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রার সঙ্গে বৈঠক শেষে সরকার প্রধানের দিল্লি সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন কৌশলী জবাব দেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সফর হবে। ভারতে এখন নির্বাচন চলছে। নির্বাচনের পর সরকার গঠন হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রীর সফর কখন হবে সেটা ঠিক হবে। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর নিয়ে কথা হচ্ছে। কোনটি আগে হতে পারে বেইজিং না দিল্লি, হাছান মাহমুদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়। জবাবে তিনি বলেন, দিল্লি তো আমাদের সবচেয়ে কাছে। বেইজিং একটু দূরে। প্রধানমন্ত্রীর অনেক আগে থেকে ভারত সফরের কথা রয়েছে। তাদের সেখানে যেহেতু নির্বাচন সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কখন সফর হবে সেটি নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিল্লি সফরের পরই সরকারপ্রধান বেইজিং সফর করবেন। ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পর দিল্লি সফর করার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, জুনের কোনো এক সময় দিল্লি সফরে যাবেন সরকারপ্রধান। তবে সফরটি জুনের শেষ নাগাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দেয়নি ভারত : তিস্তায় একটি বৃহদাকার প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন নিয়ে কয়েক বছর ধরে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ৫২ নদীর অন্যতম তিস্তায় চীনের অর্থায়ন নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে নয়াদিল্লির। এবার ঢাকা সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা তিস্তা প্রকল্পে তার দেশের অর্থায়নের আগ্রহের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে জানিয়েছেন। তিস্তায় অর্থায়নে আগ্রহের কথা জানালেও ভারতীয় পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়নি, তবু বেশ কিছু সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। উল্লিখিত সূত্রের একজন বলেছেন, কৌশলগত এবং নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে আমরা চাই না- এই প্রকল্পটি সুনির্দিষ্টভাবে চীনকে দেয়া হবে। চীনকে এমন বড় বড় যেসব প্রকল্প দেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়ন করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। চীনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পানি প্রবাহের যে ডাটা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়া হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ আছে ভারতের। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প চীনা কর্মকর্তাদের শিলিগুঁড়ি করিডোরের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করবে। শিলিগুঁড়ি করিডোর কথিত ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত। এটি হলো একটি সংকীর্ণ উপত্যকা, যা ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশকে চীনা কূটনীতিকদের চাপ দেয়ার দিকেও ভারতের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে চীনা দূত ইয়াও ওয়েন একটি ঘোষণা দিলে দুই দেশেই বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকা উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব পেয়েছে বেইজিং। ২০২২ সালের অক্টোবরে তার পূর্বসূরি লি জিমিং লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেন এবং বলেন, চীনা ইঞ্জিনিয়াররা এই নদী ড্রেজিং করার সম্ভাবতা যাচাই করছেন এবং এ প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে গবেষণা করছেন। ইয়াও এর মন্তব্যের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছিলেন, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ঢাকা ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে বিবেচনায় নেবে। গত বছর নয়াদিল্লি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেছেন, তিস্তায় বাংলাদেশ অংশে যে কোনো কাজ করতে ভারতের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। উল্লেখ্য দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যে ৫৪টি নদী আছে, তার মধ্যে তিস্তা অন্যতম। এটি একটি মাত্র নদী, যেখানে দুপক্ষ এখনো পানি বণ্টন নিয়ে কোনো চুক্তিতে আসতে পারেনি। ২০১১ সালে এই নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি চুক্তি করার কথা ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আর হয়নি। ভারতের সংবিধানের অধীনে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারের সম্মতি বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগ, এই চুক্তি করা হলে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে খরা দেখা দেবে। ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বাংলাদেশ। এই সুবিধা পেয়েছে সংযুক্তি বা কানেক্টিভিটির মাধ্যমে। যার ফলে জ¦ালানি, সড়ক ও রেল সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ভারত ও চীন থেকে উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে একটি সতর্ক ভারসাম্য বজায় রেখেছে। কোয়াডে ভারতের অংশীদার জাপান। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রচেষ্টা ঘনিষ্ঠভাবে চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের দৃষ্টি রয়েছে চীনের ওপর। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বাংলাদেশকে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে জাপান। যাতে একটি নতুন শিল্পমূল্যভিত্তিক চেইন সৃষ্টি করা যায় এবং তাতে উপকৃত হয় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App