×

প্রথম পাতা

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বন্ধের আশঙ্কা

রাফা সীমান্ত দখল করে নিল ইসরায়েলি সেনারা

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 রাফা সীমান্ত দখল করে নিল ইসরায়েলি সেনারা
কাগজ ডেস্ক : মিসর ও গাজার মধ্যে একমাত্র সীমান্ত পথ রাফা ক্রসিংয়ের গাজা অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রাফায় ভয়াবহ বিমানহামলা ও শহরের কিছু অংশ থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশের পরই এই উদ্যোগ নিল ইসরায়েল। রাফা ক্রসিং ছিল একমাত্র পথ যেখান দিয়ে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেতেন গাজার ফিলিস্তিনিরা। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের অতর্কিত হামলার পর গাজার বাকি সব প্রবেশপথ বন্ধ করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সীমিত আকারে গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর একমাত্র স্থলপথ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পায় রাফার সীমান্ত। এ ছাড়াও, সীমিতসংখ্যক ফিলিস্তিনি (মূলত গুরুতর অসুস্থ মানুষ) ও বিদেশি নাগরিকও এই সীমান্ত পথে গাজা ছেড়ে বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যবর্তী কেরেম শালম ক্রসিংয়ের গাজা অংশে গত রবিবার রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানায়, তাদের বাহিনী রাফার পূর্বাংশের বিশেষ এলাকায় সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যবর্তী কেরেম শালম ক্রসিং বন্ধ থাকবে। সেখানে নিরাপত্তা পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল ক্রসিংটি পুনরায় খুলে দেয়া হবে। গাজা অংশে রাফা ক্রসিংয়ের সব কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এখন ইসরায়েলের হাতে। ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ক্রসিংয়ে এ মুহূর্তে সামরিক অভিযান চলছে। তবে তিনি জানাননি সামরিক বাহিনী কতক্ষণ এই ক্রসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ গাজার সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং দখল করেছে ইসরায়েলি ট্যাংক। এরপর থেকে এই পথে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, রাফা সীমান্ত দখলে গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষত, খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহে বিঘœ দেখা দিতে পারে। ইসরায়েলি পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট এক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানায়, রাফার চলমান অভিযানটি ‘খুবই সীমিত’ আকারে পরিচালনা করা হবে। এর উদ্দেশ হামাসকে চাপের মুখে রাখা, যাতে তারা ইসরায়েলের শর্ত মেনে জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মতি দেয়। সূত্র আরো জানায়, রাফায় চলমান অভিযানটি ইসরায়েলের পূর্বপরিকল্পিত বড় আকারের ‘স্থল অভিযান’ নয়। রাফার হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। ইসরায়েলি নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা থেকে পালানোর পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। গত ৭ মাসে ১০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি রাফায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। উত্তর গাজায় তাদের আগের বাসস্থানের বেশির ভাগ অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। রাফায় পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হলে তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। রাফা অভিযান ‘চালিয়ে যাবে’ ইসরায়েল : কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব হামাস মেনে নিলেও ইসরায়েল বলছে, এর শর্তগুলো তাদের দাবি অনুযায়ী হয়নি আর তারা রাফায় সামরিক অভিযান নিয়ে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এবারের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ছিল দুই ধাপের। প্রতিটি ধাপ ৪২ দিন স্থায়ী হবে। প্রথম ধাপে জিম্মি করা নারী ইসরায়েলি যোদ্ধাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে। বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিতে হবে, যাদের কেউ কেউ যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। এই সময়ের মাঝে ইসরায়েলি সৈন্যরা গাজায় থাকবে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১১ দিনের মধ্যে ইসরায়েল গাজা ভূখণ্ডের কেন্দ্রে গড়ে তোলা তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা শুরু করবে এবং সালাহ-আল-দীন সড়ক থেকে সরে যাবে। এটি গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণের উপকূলীয় প্রধান সড়ক। ১১ দিন পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। গাজার অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেয়ার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়টি শেষ হবে। ইসরায়েলের প্রধানমনন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলো ইসরায়েলের দাবি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। তারপরও চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টায় মধ্যস্থতকারীদের সঙ্গে বৈঠক করতে তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির যে পরিকল্পনা হামাস অনুমোদন করেছে তা মিসরীয় প্রস্তাবের একটি দুর্বল সংস্করণ আর এতে এমন উপাদান আছে যা ইসরায়েল মেনে নিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেয়া নিয়ে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবে আর একটি চুক্তি ‘পুরোপুরিভাবেই অর্জনযোগ্য’। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। এ সময় মোট ২৫৩ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় সশস্ত্র যোদ্ধারা। ওইদিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ৭ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৩৫ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ৭৮ হাজার ১০৮ জন। গত নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এক সপ্তাহের সেই যুদ্ধবিরতিতে হামাস ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ২৪০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তির বিনিময়ে ১০৫ জন জিম্মিকে মুক্তি দেয়। ইসরায়েল বলছে, গাজায় ১২৮ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন সত্যিই যদি কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয় তাহলে তা নভেম্বরের সপ্তাহব্যাপী ‘মানবিক বিরতির’ পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App