×

প্রথম পাতা

রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত ১৯

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাবে রাজি হামাস

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাবে রাজি হামাস
কাগজ ডেস্ক : গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাস। প্রস্তাব মেনে নেয়ার বিষয়টি মিসর এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চুক্তিতে রাজি হওয়ার বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে হামাস। এতে বলা হয়, হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানিকে ফোন করে জানিয়েছেন হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। মিসরের গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস কামালকেও ফোনে একই কথা জানিয়েছেন ইসমাইল হানিয়া। হামাসের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘এখন বল ইসরায়েলের কোর্টে। সেখানেই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি ঝুলে আছে।’ এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এক প্রতিবেদনে বলেছে, মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে হামাসের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে ইসরায়েল। এটি এখন তারা খতিয়ে দেখছে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের রকেট হামলার জবাবে রাফায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাফার পূর্বাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গাজার দক্ষিণের এই শহরে অভিযান চালানো হবে জানানোর এক দিন পর গতকাল সোমবার এই নির্দেশ দেয়া হয়। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, রবিবার রাফা সীমান্তের কাছে হামাসের একটি সশস্ত্র শাখার রকেট হামলায় তাদের ৩ সেনা নিহত হয়েছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেড জানিয়েছে, হামলাটি ক্রসিং এবং এর আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি দলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, আহত ১২ জন সেনার মধ্যে ৩ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র পিটার লার্নার বলেন, দ্রুতগতিতে হামাসের হামলার জবাব দেয় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তারা ধেয়ে আসা রকেটগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। রাফায় ১০টি প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। এটি অগ্রহণযোগ্য এবং এই ঘটনার তদন্ত চলছে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখবে বিমানবাহিনী। ওই এলাকায় অবস্থানরত ভারী যন্ত্রপাতি, ট্যাঙ্ক এবং বুলডোজার পাহারা দেয়ার সময় সৈন্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, রবিবার মধ্যরাতের ঠিক আগে রাফা শহরের দুটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। একটি বাড়িতে এক শিশুসহ ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া ওই ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় মানবিক সহায়তা পাওয়ার কয়েকটি পথের মধ্যে অন্যতম কেরেম শালোম ক্রসিং। এদিকে রাফা ক্রসিং থেকে হামলা চালানোর ঘটনাকে উল্লেখ করে হামাস গাজায় বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। তবে হামাস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাফার ১ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ : গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা শহরের একাংশ থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার এই নির্দেশ দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শহরটিতে দেশটির সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর উপত্যকার প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা এই শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। মিসর সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাফা শহরে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। রাফার পূর্বাংশে থাকা ফিলিস্তিনিদের নিকটবর্তী একটি ‘মানবিক এলাকায়’ চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, বেসামরিকদের ধীরে ধীরে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় যেতে উৎসাহিত করতে পোস্টার, ক্ষুদে বার্তা, ফোন কল এবং গণমাধ্যমে তারা প্রচার চালাবে। তবে রাফার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়নি। ‘সীমিত পরিসরের’ অভিযানের জন্য রাফার ১ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে হবে বলে হিসাব করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম আর্মি রেডিও জানিয়েছে, লোকজনকে সরিয়ে রাফার প্রান্তীয় কিছু এলাকায় নেয়া হবে, সেখান থেকে তাদের খান ইউনিস ও আল মুওয়াসির নিকটবর্তী তাঁবুর শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। রাফা শহরের পূর্বাঞ্চলে দুপুরের পর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কয়েকটি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, সরে যাওয়ার এই ইসরায়েলি নির্দেশ উত্তেজনা বাড়াবে এবং এর পরিণতি থাকবে। নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় গাধার গাড়িতে যাত্রা : ফিলিস্তিনিদের কয়েকজনকে শিশু ও নিজেদের জিনিসপত্র গাধার গাড়িতে নিয়ে সরে যেতে দেখা গেছে। অনেকে বৃষ্টির মধ্যে জিনিসপত্র রেখে কর্দমাক্ত রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছেন। আবু রাইদ নামে এক শরণার্থী বলেন, ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা জানি না কোথায় যাব। আমি আশঙ্কায় ছিলাম এমন দিন আসবে। এখন আমাকে ভাবতে হচ্ছে পরিবার নিয়ে আমি কোথায় যাব। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেছেন, রাফা ঘিরে থাকা এলাকার মানুষদের এরই মধ্যে ভিড় থাকা অঞ্চলে নিয়ে যেতে চাইছে ইসরায়েল। এসব অঞ্চলে থাকার মতো কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি বলেন, বৃহত্তম গণহত্যা ও বৃহত্তম বিপর্যয় ঘটবে রাফায়। আমি পুরো আরব বিশ্বকে যুদ্ধবিরতির জন্য হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন হস্তক্ষেপ করুন এবং আমাদের রক্ষা করুন। ইসরায়েলে আল জাজিরা দপ্তরে অভিযান : কাতারভিত্তিক টেলিভিশন স্টেশন আল জাজিরার স্থানীয় স¤প্রচার বন্ধ করে দেয়ার পর তাদের দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা পূর্ব জেরুজালেমের একটি হোটেলের রুমে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গত রবিবার এ ঘটনা ঘটে। সামাজিকমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা পোশাক পরা কর্মকর্তারা একটি হোটেল রুমে ক্যামেরার সরঞ্জামগুলো খুলে নিচ্ছেন। গাজা যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন নেটওয়ার্কটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা। আল জাজিরা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছিল বলে অভিযোগ তাদের। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির সব অংশ থেকে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিবেদন প্রচার করে আসছে আল জাজিরা। এক প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছে, সম্প্রচার বন্ধ করা ও দপ্তরে অভিযান চালানো একটি অপরাধমূলক পদক্ষেপ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App