×

প্রথম পাতা

সবজি-আমিষের বাজার গরম, সিন্ডিকেট তৎপর

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সবজি-আমিষের বাজার  গরম, সিন্ডিকেট তৎপর
কাগজ প্রতিবেদক : সরকারের নানা পদক্ষেপের পরও কমার বদলে বাজারে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম। তাপদাহে মাঠের ফসল তুলতে পারছে না কৃষক- এমন অজুহাতে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থির রয়েছে সবজির বাজার। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মুরগির দাম। চড়া আলু, পেঁয়াজের বাজারও। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ২১০ টাকায়। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। দাম বেড়েছে আলু, পেঁয়াজেরও। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। ৫ টাকা বেড়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে শাক-সবজি। ষাট টাকার নিচে মিলছে না তেমন কোনো সবজি। মাছ-মাংসের বাজারেও আগুন। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির দাবি ভোক্তাদের। তাদের মতে, রোজার মাসেও দেশের বাজার এতটা বেসামাল ছিল না। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাছ-মুরগি, আলু-পেঁয়াজসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু হয়েছে। অথচ বাজারে এসব পণ্যের কোনো সংকটও নেই। ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। খিলগাঁও কাঁচাবাজারে আলু কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি দাম ছিল। কিন্তু এখন তার চেয়েও প্রায় ১০ টাকা বেশি দামে আলু কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে প্রচুর আলু, অথচ দাম বেশি। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। কারওয়ান বাজারে আসা গার্মেন্টসকর্মী আলেয়া বেগম বলেন, বাসায় মেহমান আসছে। এজন্য একটা মুরগি কিনতে এসেছি। কিন্তু গত সপ্তাহেও ফার্মের মুরগি ১৯০ টাকা কেজি ছিল। আর আজ (শনিবার) তা ২২০-২৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ আমার বেতন বাড়েনি এক টাকাও। আলেয়া বেগম বলেন, এমনভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়েই থাকেত হবে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল হাকিম জানান, গরমে সবজির চাহিদা বেড়েছে; কিন্তু সে অনুপাতে সরবরাহ নেই। এছাড়া সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে একধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। হাকিম বলেন, এজন্য বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বৃষ্টির কারণে কারওয়ান বাজারে সবজি সরবরাহ কিছুটা কম ছিল বলেও জানায় বিক্রেতারা। এখন সবচেয়ে বেশি টালমাটাল মুরগির বাজার। রোজার মাসেও প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ছিল ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা। অথচ এখন প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। অর্থাৎ রোজার মাসের চেয়ে এখন প্রতি কেজি সোনালি মুরগির দাম বেশি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি রোজার মাসের মাঝামাঝিতে ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ এখন ২০-৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। একই হারে এখন দেশি মুরগির দামও বেশিতেই বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসও প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। আলু-পেঁয়াজের বাজারেও একই অবস্থা। রোজার মাসে যে আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ক্রেতাকে বেশি দিতে হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এদিকে বাজারে নতুন করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকার মধ্যে। রোজার শুরুর দিকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। সরকার আমদানি করায় এবং দেশীয় নতুন পেঁয়াজ ওঠায় রমজান মাসের শেষার্ধে দাম কমে এসেছিল। একপর্যায়ে ৫০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ। অথচ গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া বাজারে আদা, রসুনের দামও বাড়তি। প্রতি কেজি আমদানি করা আদা ও রসুন বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা দরে। তবে গত সপ্তাহের চড়া দামে স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, আটা, ময়দাসহ মাছের বাজার। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, ঢাকা মহানগরীর খুচরা বাজারগুলোতে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ ৫৮ থেকে ৭৫ টাকা, রসুন ১৭০ থেকে ২৪০ ও আদা ১৯০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে মাত্র ২০ দিন আগে পেঁয়াজের খুচরা দাম ছিল ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ২২০ ও আদার দাম ছিল ১৯০ থেকে ২৫০ টাকা। সবজির বাজারে দেখা গেছে, সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখী ১৪০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, সজনে ১৬০ টাকা এবং কাঁচা আম প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, ব্রুকলি ৪০ টাকা পিস, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লেবুর হালি ২০ থেকে ৬০ টাকা, ধনে পাতা ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। মাছের বাজারে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ ১৫০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ (চাষ করা) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাঙাশ ২১০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি-টেংরা ১৬০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৬০০ টাকা, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা, রূপচাঁদা ১২০০ টাকা, বাইম মাছ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, দেশি কই ১২০০ টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০ টাকা এবং কাইক্কা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App