×

প্রথম পাতা

রেলের শিডিউল বিপর্যয় চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রেলের শিডিউল বিপর্যয়  চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
কাগজ প্রতিবেদক : গাজীপুরের জয়দেবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা ও দুই দিন আগে সান্তাহার স্টেশনে রেলকর্মীদের মারধরের পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার সবচেয়ে ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয় ঘটে কমলাপুরে। সকালের ট্রেন দুপুরেও পৌঁছায়নি স্টেশনে, ফলে বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা। এদিকে জয়দেবপুরে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই গতকাল সিগন্যালের ভুলে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম স্টেশনের অদূরে একই লাইনে মুখোমুখি হয়ে পড়ে আন্তঃদেশীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস। তবে চালকদের তৎপরতায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এ স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ৫৩টি ট্রেনের মধ্যে গতকাল মাত্র ৪টি সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। বাকি অর্ধশত ট্রেনের অধিকাংশই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৮টায়, ৬টা ১৫ মিনিটের পর্যটন এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৮টায়, ৬টা ৪৫ মিনিটের চিলাহাটি এক্সপ্রেস ৯টায়, ৭টা ১৫ মিনিটের নীলসাগর এক্সপ্রেস সাড়ে ৯টায়, ৭টা ৪৫ মিনিটের মহানগর প্রভাতী ১০টার দিকে ঢাকা ছেড়ে যায়। আর সর্বোচ্চ সাত ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকা ছেড়ে গেছে রংপুর এক্সপ্রেস। কমলাপুর স্টেশন সূত্র বলছে, লাইন ক্লিয়ার না হওয়ার কারণে জয়দেবপুর হয়ে যে ট্রেনগুলো যাতায়াত করে সেগুলোর বেশি বিলম্ব হছে। গত শুক্রবার থেকেই এসব ট্রেন বিলম্বে ছাড়ছে। স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সব ট্রেনই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। এখনো লাইন পুরোপুরি ঠিক হয়নি। সকাল থেকে এ রুটে ৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে আর সবগুলোই বিলম্বে চলছে। এদিকে ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় ছুটির দিনেও কমলাপুর স্টেশনে ছিল যাত্রীদের ভিড়। সরজমিন দেখা যায়, সন্তান ও স্বজন নিয়ে কেউ বসে আছেন, কেউবা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছেন মেঝেতেই। স্টেশনের ভেতর অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এরই মধ্যে ঢাকা স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রীরা টিকেট রিফান্ডের দাবি নিয়ে আসেন। পরে যাত্রীদের দাবি মেনে তাদের টিকেট রিফান্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। রংপুর এক্সপ্রেসের এক যাত্রী জানান, গতকাল সকাল আটটায় কমলাপুর স্টেশনে এসেছেন তারা। সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা দুইটাতেও আসেনি। ট্রেনের অপেক্ষায় থেকে ক্লান্ত হয়ে স্টেশনেই ঘুমিয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী-সন্তান। অবশেষে ৭ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর ছেড়ে যায় ট্রেনটি। ঢাকা থেকে জামালপুরের তারাকান্দাগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল বেলা সাড়ে ১১টায়। দুই ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসে এবং তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জয়দেবপুর জংশনের দক্ষিণে আউটার সিগন্যালে তেল ও যাত্রীবাহী দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক ট্রেনের দুই চালকসহ চারজন আহত ও নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়ায় এ পথে শুধু এক লাইন (ডাউন) দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। পলে সিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে আন্তঃদেশীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ও রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস একই লাইনে মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষ হতে যাচ্ছিল। তবে লোকোমাস্টারের (চালক) তৎপরতায় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় ট্রেন দুটি। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলস্টেশনের দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের নিয়োগপ্রাপ্ত সাতজন অবসরপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার ও কয়েকজন পয়েন্টম্যান স্টেশনে যোগদান করেছেন। তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এনালগ পদ্ধতিতে লাইন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। গতকাল দুপুর সোয়া ২টার দিকে কলকাতা থেকে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন নতুন নির্মিত ৫ নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। এ সময় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন ৪ নম্বর লাইনে প্রবেশ করানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু দায়িত্বে থাকা প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার খায়রুল আলম ও পয়েন্টম্যান ভুল করে ৫ নম্বর লাইনে প্রবেশ করান। এ সময় চালক একই লাইনে আরেকটি ট্রেন দেখতে পেয়ে ট্রেন থামিয়ে ফেলেন। এতে ৫ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ও ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন মুখোমুখি সংঘর্ষের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। এ দুটি ট্রেনে প্রায় আট শতাধিক যাত্রী ছিল বলে তিনি জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App