×

প্রথম পাতা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু  বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি
কাগজ প্রতিবেদক : দেশে সর্বপ্রথম ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয় ১৯৬০ সালের দিকে। ২০০০ সালের জুন মাসে ডেঙ্গু মহামারি আকারে দেখা দেয়। ওই বছর মোট ৫ হাজার ৫৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়, মারা যায় ৯৩ জন। এরপর কম-বেশি প্রতি বছরই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু সেই সংখ্যা কখনোই ২০২৩ সালের মতো এত প্রকট আকার ধারণ করেনি। তবে তথ্য বলছে, গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হয়েছে চলতি বছর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ জন। আর চলতি বছর প্রথম ৪ মাস ৩ দিনে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আর গত বছর এই একই সময়ে রোগী ছিল ৯৬৮ জন, ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর রোগী ও মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এ বছর ডেঙ্গুর ব্যাপকতা যে বিশ্ব জুড়ে বাড়বে সেই তথ্য এরই মধ্যে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেটস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন আশঙ্কা করে বলেছে, চলতি বছর বিশ্বে ৪০ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যেতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ থাকায় এডিসসহ মশা কমেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মে মাস থেকেই শুরু হবে বৃষ্টি। ফলে মশা বাড়বে। বৃষ্টি না হলেও এডিস মশা বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ কিছু কারণে থাকছেই। ঢাকা সিটি করপোরেশনের অভিযানে পুরনো টায়ার, ড্রাম, বালতি বা ফেলে দেয়া বোতল ও পাত্র, নারিকেলের খোলে জমা পানি, চৌবাচ্চা, নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, ইটের গর্ত এসব স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই বৃষ্টি না হলেও পানি জমে মশার বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ থাকছেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের জন্য একটি সুখবর হলো অতিরিক্ত গরমের কারণে মশা কমে গেছে। কিন্তু এই গরম কমে আসবে। কিছুদিনের মধ্যেই বৃষ্টি শুরু হবে। বৃষ্টি শুরু হলে মশা বাড়বে। তবে বৃষ্টি ছাড়াও এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। ঢাকা শহরে প্রচুর বহুতল ভবনের বেইজমেন্টে পার্কিং রয়েছে। পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার পাশাপাশি গাড়ি ধোয়াও হয়। গাড়ি ধোয়ার পানি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকছে। সেখানে সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মী বা ভবনের কেউ যান না। এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনেও এডিস মশা প্রজননের আরেক স্থান। নির্মাণাধীন ভবনের কাজে ব্যবহৃত পানি বিভিন্ন স্থানে জমা হয়ে মশার বংশবিস্তারে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এই মুহূর্তে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নাজুক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘হোম টু হোম ইন্টারভেনশন’ জরুরি বলে মনে করেন এই গবেষক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হওয়ার পরও মানুষের মধ্যে অসচেতনতা আছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবার আগে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমাদের দেশে এখন চারপাশে অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। যেসব জায়গায় নির্মাণ কর্মকাণ্ড চলছে, সেসব জায়গায় অপরিচ্ছন্ন থাকে, পানি জমে থাকে। যেসব ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে, সেখানে যেন পানি না জমে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মশা মারার ওষুধও দিতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App