×

প্রথম পাতা

ঢল-বন্যার শঙ্কা

বৃষ্টির প্রভাবে গরম সামান্য কমেছে

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের কিছু জায়গায় বয়ে যাওয়া বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে তাপমাত্রায়। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও গতকাল শুক্রবার সারাদেশেই তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। তাপমাত্রা নেমেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সূর্যরশ্মির প্রখরতাও কমেছে। কোথাও কোথাও আকাশও মেঘলা। তাই তাপও অনুভূত হচ্ছে আগের তুলনায় কম। আপাতত মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল যশোরে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিকে আগামী ৭ মে থেকে সিলেট বিভাগে পাহাড়ি ঢল ও বন্যা ধেয়ে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও আবহাওয়া অফিস। খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, সূর্যরশ্মির তীব্রতা একটু কম এবং আকাশ মেঘলা থাকায় তাপ আগের চেয়ে একটু কম। এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার প্রভৃতি এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বাতাস কিছুটা আদ্র ও ঠাণ্ডা। এ কারণে মানুষের অসহনীয় অবস্থা সামান্য হলেও লাঘব হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দুই দিন ধরে দমক হাওয়া সহ ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। গতকাল শুক্রবার মোংলায় বৃষ্টি হয়েছে। এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আগের দিনের মতো গতকালও বেশি বৃষ্টিপাত ও বজ্রঝড় হয়েছে রাঙামাটিতে ৪৪ মিলিমিটার। কুমিল্লায় ২৪ মিলিমিটারসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হলেও তা রেকর্ডে আসেনি। এছাড়া রংপুরেও কিছু বৃষ্টি হয়েছে। তবে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরবর্তী সময় ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তিভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চাঁদপুর ও মৌলভীবাজার জেলাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামন্য বাড়তে পারে। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ৪১ দশমিক ২, খুলনায় ৩৮ দশমিক ৮, মোংলায় ৪০, সাতক্ষীরায় ৩৯ দশমিক ২ ও কুমারখালীতে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৬ দশমিক ২ থেকে ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ থেকে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ দশমিক ২ থেকে ৩৮ ডিগ্রি, রংপুর বিভাগে ৩৩ দশমিক ৮ থেকে ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৬ থেকে ৪০ (ঈশ্বরদীতে) ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি থেকে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ গতকাল বিকালে তার ওয়েবসাইট আবহাওয়াডটকমে আগামী ৭ মে থেকে সিলেট বিভাগে পাহাড়ি ঢল ও বন্যা হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আাগামী সোমবার থেকে প্রায় সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আজ শনিবার ও কাল রবিবার সারাদেশে বৃষ্টিপাত বা বজ্রবৃষ্টি কিছুটা কম হবে। তবে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App