×

প্রথম পাতা

তাপপ্রবাহে গলছে সড়কের পিচ

নির্মাণ-সংস্কারে দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামল দুদক

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নির্মাণ-সংস্কারে দুর্নীতি  অনুসন্ধানে নামল দুদক
কাগজ প্রতিবেদক : তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের বিটুমিন গলে যাচ্ছে। বিটুমিন গলে যাওয়ার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। গত কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর আসছে। পরিবহন শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতাসহ সচেতন মহলের দাবি, দুর্নীতি করতে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করায় পিচ গলে যাচ্ছে। এতে করে যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা। এবার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক, শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক ও বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের গলা পিচ পরীক্ষার পাশাপাশি সড়কের তাপমাত্রা পরীক্ষা করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় সরজমিন বিটুমিন গলে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছেন তারা। দুদক টিমের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, চলতি মৌসুমে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে গলতে শুরু করে যশোর-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কের পিচ। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরিবহন শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতাসহ সচেতন মহলের দাবি, দুর্নীতির করতে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মাণ করায় পিচ গলে যাচ্ছে। এতে করে যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন চালকরা। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সড়ক পরিদর্শনকালে দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক চিরঞ্জন নিয়োগী, সহকারী পরিদর্শক সাফিউল্লাহসহ সড়ক বিভাগের দুজন সহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। দুদকের যশোরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আল আমিন বলেন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশে যশোর-নড়াইল সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের গলা পিচ পরীক্ষা করেছি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ করে আমরা প্রধান কার্যালয়ে পাঠাব। সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, চার মাস আগে যশোর-নড়াইল আঞ্চলিক মহাসড়কে পাথর কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সরজমিন যশোর-নড়াইল সড়কের যশোর অংশের ঝুমঝুমপুর এলাকাতে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবারও সড়কের পিচ গলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সড়কে যান চলাচলের সময় পিচ চাকায় লেগে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও যানবাহনের চাকার দাগ বসে যাচ্ছে সড়কে। এ সড়কে চলাচলকারীরা জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে সড়ক সংস্কারের সময়। এ সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ জায়গার পিচ গলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একইভাবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন গলে যাচ্ছে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের বালিবাড়ীর মোড় থেকে নরসিংহপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটারের অন্তত ১৫টি স্থানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। গত বছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়কের ওই অংশ সংস্কার করা হয়েছিল। গতকাল সড়কটি পরিদর্শন শেষে দুদকের সমন্বিত মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, সড়কটি পরিদর্শনে এসে প্রাথমিকভাবে বিটুমিন গলে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। এই সড়কের বিটুমিনসহ অন্যান্য সামগ্রীর মান ঠিক ছিল কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। যদি ঠিক না থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া জেলা দুদক কার্যালয় থেকেও একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদক টিম সরজমিন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বগুড়ার একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করে। বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কয়েকটি জায়গায় সড়কের পিচ গলে যাওয়ার প্রমাণ পায় টিম। এ সময় দুদক টিম সড়কের নমুনা সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নমুনা ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাপূর্বক টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা এসব সড়কের নির্মাণকাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুদক ও সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের সামনে। স্থানীয় জনগণ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানান। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা সাধারণত সড়কে যে পিচ ব্যবহার করেন তা ৬০-৭০ গ্রেডের। এর গলনাঙ্ক ৪৮ থেকে ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলে এই পিচ গলার কথা। কিন্তু তার অনেক আগেই পিচ গলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সারাদেশের মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পিচ গলে যাচ্ছে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে গত কয়েকদিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশে ইতোমধ্যে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে নেমেছেন। সরজমিন নমুনা ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করছেন। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা তদন্ত করে বের করা হবে। অনিয়ম পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App