×

প্রথম পাতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের পক্ষে বিতর্কিত বিল পাস

হামাস-ফাতাহ ঐক্যের পথে চুক্তি

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হামাস-ফাতাহ ঐক্যের পথে চুক্তি
কাগজ ডেস্ক : নিজেদের মধ্যকার দ্ব›দ্ব ঘুচিয়ে ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আশায় চীনে বৈঠক করেছে ফিলিস্তিনের দুই প্রতিদ্ব›দ্বী গোষ্ঠী হামাস ও ফাতাহ। বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। উভয়পক্ষই ঐক্য দৃঢ় করার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে আরো সংলাপ চালানোর এক চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে একটি বিল পাস হয়েছে। এটি সিনেটে পাস হওয়ার পর আইনে পরিণত হলে ইহুদি বিদ্বেষের চর্চা হওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তহবিল বন্ধ করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগ। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি যুদ্ধে ফিলিস্তিনের পুনর্মিলন নিশ্চিত করতে বেশ কিছুদিন ধরেই হামাস ও ফাতাহ নিজেদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছে। গত মার্চেই তারা মস্কোয় বসেছিল। সেখান থেকে ইসরায়েলকে মোকাবিলায় ফিলিস্তিনের ফাতাহ ও গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস নিজেদের মধ্যে ‘একতাবদ্ধ হওয়ার পদক্ষেপ’ খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মার্চের শুরুতে মস্কোয় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। এতে ইসলামিক জিহাদসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এক মাস পর এবার চীনের মধ্যস্থতায় বেইজিংয়ে বৈঠকে বসল বছরের পর বছর ধরে রেষারেষিতে জড়িত এ দুই গোষ্ঠী। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জাতীয় মুক্তি আন্দোলন এবং ইসলামিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পুনর্মিলন নিয়ে গভীর ও স্পষ্ট আলোচনার জন্য কয়েক দিন আগে বেইজিংয়ে আসেন। তবে এই দুই গোষ্ঠীর কবে বৈঠক হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি। লিন জিয়ান বলেন, দুই পক্ষই সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমে পুনর্মিলন অর্জনে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা অনেক সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি করেছে। চীন ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা ফিলিস্তিনি দলগুলোকে সমঝোতা অর্জনে এবং সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমে সংহতি বৃদ্ধিতে সমর্থন করি। আমরা সেই লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাব। লিন বলেন, তারা প্রথম দিকে ফিলিস্তিনি সংহতি ও ঐক্যের উপলব্ধি অর্জনের জন্য আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। উভয়পক্ষই ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দৃঢ় করার এবং এ নিয়ে আরো সংলাপের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সমঝোতা প্রচেষ্টার জন্য বেইজিংকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তারা। চীন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান অব্যাহত রেখেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি ঐক্য এবং ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পক্ষপাতী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে কূটনৈতিক কর্মকর্তা ওয়াং কেজিয়ান হামাসের প্রেসিডেন্ট ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই শান্তি সংলাপের প্রস্তাব দেন ওয়াং কেজিয়ান এবং হানিয়াও তাতে সম্মতি দেন। প্রসঙ্গত, গাজা পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম তিন ভূখণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিন। ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করছে সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। অন্যদিকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ক্ষমতায় রয়েছে রাজনৈতিক দল ফাতাহর নেতৃত্বাধীন জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি বা পিএ)। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফাতাহর শীর্ষ নেতা। এক সময় গাজা উপত্যকায়ও ক্ষমতায় ছিল ফাতাহ। কিন্তু ২০০৭ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে গাজার ক্ষমতা গ্রহণের পাশাপাশি ফাতাহকে উপত্যকা থেকে উচ্ছেদ করে হামাস। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধিতার প্রধান ইস্যু স্বাধীনতা অর্জনের পন্থা নিয়ে। ফাতাহ সংলাপ এবং রাজনৈতিক তৎপরতার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। অন্যদিকে হামাস বিশ্বাস করে, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমেই শুধু ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন সম্ভব। ইহুদিদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত বিল পাস : যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে একটি বিল পাস হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার থাকা সংগঠনগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও গত বুধবার বিলটি পাস হয়। এটি এখন অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। সিনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি যদি আইনে পরিণত হয়, তবে এর মধ্য দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল হলোকস্ট রিমেমব্র্যান্স অ্যালায়েন্সের (আইএইচআরএ) দেয়া ইহুদি বিদ্বেষের সংজ্ঞাকে বিধিবদ্ধ করা হবে। আইএইচআরএর সংজ্ঞাকে আইনে যুক্ত করা হলে ইহুদি বিদ্বেষের চর্চা হওয়ার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তহবিল বন্ধ করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগ। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩২০ জন সদস্য। আর বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় যে বিক্ষোভ চলছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিলটি পাস করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, আইএইচআরএর ইহুদি বিদ্বেষের সংজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করা হতে পারে। আইএইচআরএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ইহুদি বিদ্বেষ হলো- ইহুদিদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধারণা, যা ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে ব্যবহার করা হতে পারে। ইসরায়েল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করে কিছু বলাকেও ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ ইসরায়েলকে ইহুদিদের সম্মিলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে এমন সময়ে ইহুদি বিদ্বেষ-বিরোধী বিলটি পাস হলো, যখন দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন ইসরায়েলকে বর্জন করে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা : লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা চলাকালে পুলিশ সময়মতো উপস্থিত না হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর। ক্যাম্পাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকার আগে মুখোশপরা ইসরায়েলপন্থি একটি দল ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসোমের মুখপাত্র বলেছেন, দেরি করে আসার পর পুলিশের এই সংক্ষিপ্ত হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর ২-৩ ঘণ্টা ধরে চলে, পরে পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করে। বুধবার পরিস্থিতি শান্ত ছিল। ক্যাম্পাসে কয়েকশ পুলিশ মোতায়েন আছে। গাজায় ৩৪,৫৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত : গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। সেখানে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে খাদ্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) বলেছে, ইসরায়েল গত এপ্রিলে গাজার উত্তরে সহায়তা মিশনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়েছে। তবে ইসরায়েল বরাবরই বিষয়গুলো অস্বীকার করে আসছে। ওসিএইচএ বলছে, নতুন করে সহায়তা কার্যক্রমের অনুমতি দেয়া হলেও ধারাবাহিকতা না থাকলে ৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই খাদ্য সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। সেখানে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ত্রাণ কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে এবং তা চলমান রাখতে হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি গাজায় যুদ্ধ বন্ধসহ হামাসের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবেন না। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, প্রায় ৬ লাখ ফিলিস্তিনি শিশু রাফা শহরে আটকা পড়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৬৮ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ৭৭ হাজার ৭৬৫ জন। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App