×

প্রথম পাতা

আওয়ামী লীগ

নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিষয়ে আসছে কড়া বার্তা

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নির্দেশনা অমান্যকারীদের  বিষয়ে আসছে কড়া বার্তা
মুহাম্মদ রুহুল আমিন : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক বসছে আগামীকাল মঙ্গলবার। সন্ধ্যা ৭টায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা সভায় অংশ নেবেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এবারের বৈঠকে সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সারাদেশে চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করা যায়- সে বিষয়ে দলের করণীয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনে মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের প্রার্থিতা বিষয়েও আলোচনা হবে। নানা দলীয় ও জাতীয় দিবসভিত্তিক কর্মসূচি কীভাবে উদযাপন হবে তা নিয়েও সভায় আলোচনা হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিটি সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। এবারের সভায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে আরো কীভাবে শক্তিশালী করা যায়; তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মূল আলোচনা থাকবে। বিশেষ করে নির্বাচনে মন্ত্রী ও এমপির স্বজন যারা নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এর মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের রিপোর্ট তৈরি করেছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে যেসব এমপি ও মন্ত্রীর স্বজনরা উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের তালিকাও করেছেন তারা। সভায় তা উপস্থাপন করবেন। এরপর সবার সঙ্গে আলোচরা করে তাদের বিষয়ে কি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে দল। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দলের সভায় দলীয় নানা বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে। এমপিদের স্বজন যারা নির্বাচনে আছেন, তাদের বিষয়েও আলোচনা হবে। সেখান থেকে হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত আসবে। জানা গেছে, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হবে কালকের সভায়। বিশেষ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয়ভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। সেই নির্বাচনে দলের যাকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল, তাদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন আওয়ামী লীগেরই কোনো না কোনো নেতা। অনেক এলাকায় তারা নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ীও হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও পছন্দমতো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন। ফলে দলের ভেতরেই নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। কোথাও কোথাও নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে দ্ব›দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। একে অপরের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। এসব সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। নির্দেশও দেয়া হয়েছে। তারপরও এখনো কোথাও কোথাও কোন্দল রয়েছে। সেগুলো আরো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যেই সারাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। এবার উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন বা প্রতীক দেয়া হয়নি। ফলে যে যার মতো করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, অনেক এলাকায় নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বাড়াতে আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করেছেন। এমপিরা নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এতে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা বিভেদ তৈরি হচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে- নির্বাচন উন্মুক্ত থাকলেও দলীয় এমপি ও যারা মন্ত্রী রয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা প্রার্থী হতে পারবেন না। দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কেউ কেউ প্রথম দফার উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, অনেকেই প্রত্যাহার করেননি। কেন্দ্রীয় নির্দেশে সেসব প্রার্থীর তালিকা করা হয়েছে। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সাংগঠনিক সম্পাদকরা স্ব স্ব বিভাগের রিপোর্ট ও সেই তালিকা দলীয় প্রধানের কাছে তুলে ধরবেন। সেখান থেকে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন, তাদের বিষয়ে পরবর্তী সময় কী করণীয়। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। উপজেলা নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করা যা, সে বিষয়েও আলোচনা হবে। মন্ত্রী ও এমপির নিকটাত্মীয়দের প্রার্থিতা বিষয়েও আলোচনা হবে। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনের পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তী সময় সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে টানা চতুর্থ মেয়াদে যাত্রা শুরু করলেও থেমে নেই নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি ও জামায়াতসহ তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র। নতুন করে তারা আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের সেসব ষড়যন্ত্র কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসতে পারে। এছাড়া ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, জুনে ছয় দফা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, শোকাবহ আগস্ট মাসের কর্মসূচিসহ নানা দিবসভিত্তিক কর্মসূচি কীভাবে উদযাপন করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা করা হবে দলীয় সভায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App