×

প্রথম পাতা

তাপমাত্রা বেড়েছে

সাগরে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে মের শেষার্ধে

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : মাস ধরে চলা তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি আভাস পাওয়া গেছে। সামনের মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। এদিকে এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রবিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৯ ডিগ্রিতে। আর দুই দিন সর্বোচ্চ তাপ দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে পারদ নেমেছে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে। তবে রাজশাহী ও যশোরে বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি। দেশের ১৫টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এ পরিস্থিতিতে আবারো তিন দিনের জন্য তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সারাদেশে সপ্তম দফায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে গতকাল সিলেটের কয়েকটি অঞ্চলে ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিলেটে গতকাল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার এবং শ্রীমঙ্গলে ১৮ মিলিমিটার। আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার সিলেট ছাড়া দেশের আর কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে গতকাল বলেন, মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় যদি বাস্তবে সৃষ্টি হয় তাহলে এর নাম হবে ‘রিমাল’। এ নামটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের দেয়া। যেহেতু বর্ষার পূর্বের ঘূর্ণিঝড় মৌসুম মার্চ মাসে শুরু হলেও ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড়, নি¤œচাপ কিংবা লঘুচাপও সৃষ্টি হয়নি; তাই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি জমা হয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ১৩ থেকে ১৭ মে সৃষ্টি ও খুবই শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তবে ৩ থেকে ৫ মের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে। মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা উপকূল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ২০ থেকে ২৪ মে’র মধ্যে। বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম উপকূলে আঘাত করলে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার এবং পূর্ব উপকূলে আঘাত করলে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগ হবে ঘূর্ণিঝড়টির। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে গতকাল ছিল ৪২ ডিগ্রি, যা শনিবার ছিল ৪১ দশমিক ৫, চুয়াডাঙ্গায় কিছুটা কমে ৪১ দশমিক ৮, শনিবার ও শুক্রবার ছিল ৪২ দশমিক ৭। ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে, যা শনিবার ছিল ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি, আগের দিন শনিবার এ মাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি। ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬২ শতাংশ। এছাড়া গতকাল রবিবার সাতক্ষীরায় তাপমাত্রা বেড়ে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি হয়েছে, শনিবার যা ছিল ৩৯ দশমিক ৪, কুমারখালী ও মোংলায় ছিল ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি। গোপালগঞ্জে গতকাল ছিল ৪০ দশমিক ৬, শনিবার ছিল ৩৮ দশমিক ২, টাঙ্গাইলে ৪০ দশমিক ৩, শনিবার ছিল ৩৬ দশমিক ছয়, ফরিদপুরে ৪০ দশমিক ২, শনিবার ছিল ৩৮ দশমিক ৪, খুলনায় ৪০, শনিবার ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, যশোর ও রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা ও নীলফামারী জেলাসহ খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এছাড়া ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও বান্দরবান জেলাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তিভাব বিরাজমান থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারাদেশে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তাপমাত্রা কমতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App