×

প্রথম পাতা

টাঙ্গুয়ার হাওর

নজরখালী বাঁধ ভাঙল পানির তোড়ে

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নজরখালী বাঁধ ভাঙল পানির  তোড়ে
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্ (সুনামগঞ্জ), রাহদ হাসান মুন্না (তাহিরপুর) ও রাসেল আহমদ (মধ্যনগর) থেকে : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী ফসলরক্ষা বাঁধ গতকাল রবিবার ভোরে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। তবে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত নজরখালী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হাওরে ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। তারা বলেন, হাওরে এ পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বোরো জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধের ভিতরে যে সব হাওর আছে, সেগুলো হলো- মোকতার খলা হাওর, লুঙ্গাচুঙ্গা হাওর, সেনাডুবি হাওর, ইকরছই হাওর, শালদিঘা হাওর, সামসাগর হাওর, কলমা হাওর, গনিয়াকুড়ি হাওর, উলান হাওর, ছটাইন্না হাওর ও রউয়্যা হাওর। এ হাওরগুলোর প্রায় ১০ হাজার একর বোরো জমি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরটি রামসার সাইট হওয়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করেনি। এ কারণে প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওর পাড়ের কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি নির্মাণ করে থাকেন। টাঙ্গুয়ার হাওরের ভৌগলিক অবস্থান হচ্ছে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৮২টি গ্রাম নিয়ে। ইউনিয়নগুলো হলো- তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর ও মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন। টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের গোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক ডালিম মিয়া বলেন, গতকাল ভোর ৪টার দিকে নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে হাওরের ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। নদীর পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এ নিয়ে হাওরবাসীর মধ্যে ফসল ডুবির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের শালদিঘার হাওরের কৃষক রাসেল মিয়া বলেন, নজরখালি বাঁধের ভেতরে যে সব বোরো ফসল আছে, ইতোমধ্যে তার ৬০ শতাংশ ধান কাটা শেষ। এখন শুধু টানের (উঁচু) জমির ধান রয়েছে। বাঁধ ভাঙায় এগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না। উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের পাড়ের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, এভাবেই পাহাড়ী ডলের পানিতে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের সোনালি ফসল কৃষকের চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওর পাড়ের কৃষক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় জেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওর শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওরটি এখন নিরাপদ হয়ে গেল। কারণ টাঙ্গুয়ার হাওরটি হচ্ছে জলাভূমি। তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি এখন সহজেই টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকবে। এতে করে হাওরের বাঁধে পানির চাপ কম থাকবে। উপজেলার মাটিয়াইন হাওর পাড়ের কৃষক নূর আহমদ বলেন, বৃষ্টি হলেই দুশ্চিন্তায় আর ঘুম আসেনা। এভাবে একাধারে বৃষ্টি হলে হাওরের সোনালি ফসল গোলায় তোলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা বলেছেন, নজরখালি ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙে গেছে কিন্তু এতে হাওরের ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এ বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার বৃহৎ শনি এবং মাটিয়াইন হাওরটি নিরাপদ হলো। ঈানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, এখানে বাঁধ দেয়ায় রামসার নীতিমালা রয়েছে। তাই আমরা এখানে কোনো বছরই বাঁধ নির্মাণ করতে পারিনি। তিনি আরো জানান, আমাদের উপজেলা কর্মকর্তারা সব উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধে সারাক্ষণ নজর রাখছেন। এখন পর্যন্ত উপজেলাগুলোর কোনো বাঁধই নিরাপদ নয়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতেও আমাদের নজরধারী রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App