×

প্রথম পাতা

আইসিসির গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেতানিয়াহু

বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ বিশ্ববিদ্যালয়, চলছে গণগ্রেপ্তার

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের ৪০  বিশ্ববিদ্যালয়, চলছে গণগ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে একাধিক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঠেকাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দপ্তর। ওয়ালা নামের একটি ইসরায়েলি নিউজ সাইটে বিশ্লেষক বেন কেসপিট লিখেছেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন, তার বিরুদ্ধে হেগের আদালত কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে তা রাষ্ট্র হিসেবে ইসারায়েলের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে। তাই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের সঙ্গে লাগাতার ফোন কল করে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজের বিশ্লেষক আমোস হারেল লিখেছেন, ইসরায়েলি সরকার মনে করে আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান এই সপ্তাহে নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং আইডিএফ চিফ অফ স্টাফ হারজি হালেভির গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করতে পারেন। সংবাদমাধ্যম হারেলের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী ১২৪টি দেশের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরায়েল এর সদস্য না হলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বিক্ষোভে উত্থাল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস : এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে আরো উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামলাতে আরো শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। গণগ্রেপ্তারেও দমানো যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত সপ্তাহে প্রায় ৫৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থি এই বিক্ষোভ প্রথমে শুরু হয় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা এখনো শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে আছে। গত সপ্তাহে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বিবৃতিতে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, বোস্টনের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদকারীদের স্থাপিত একটি শিবির সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছে তারা, এই শিবির ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানো ১০২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হবে। অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে ৬৯ জন প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলা প্রতিবাদে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি যেসব কোম্পানি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক ত্যাগ করার দাবি জানাচ্ছে তারা। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধেরও দাবি জানাচ্ছে তারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যেসব শিক্ষার্থী ও ফ্যাকাল্টি সদস্যদের প্রতিবাদে অংশ নেয়ার জন্য বহিষ্কার বা শাস্তি দেয়া হয়েছে তাদের সাধারণ ক্ষমার দাবি। দ্য গার্ডিয়ান এবং রয়টার্স জানায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ, গড়ে উঠেছে ফিলিস্তিনপন্থি প্রতিবাদশিবির। নজিরবিহীন এই বিক্ষোভ সামাল দিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চাপে পড়েছে প্রশাসন। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের, নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, শুক্রবার রাতেই অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বেশির ভাগই বোস্টনের এমারসন বিশ্ববিদ্যালয়ের। এছাড়া ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ২৪ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এদিকে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত ৬২-১৪ ভোটে পাস হয়েছে। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক পুলিশকে ক্যাম্পাসে তলব করায় এবং শিক্ষার্থীদের তাঁবু ভেঙে ফেলার জন্য তাদের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট নেমাত মিনোচে শফিকের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শফিকের ওই আদেশের পর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তবে শফিকের এমন সিদ্ধান্তে ইউনিভার্সিটির সিনেট তিরষ্কার করেছে তাকে। শুক্রবার দুই ঘণ্টার বৈঠকের পর প্রতিষ্ঠানটির সিনেট একটি রেজ্যুলেশন অনুমোদন করেছে। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট শফিক একাডেমিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন, পুলিশকে ডেকে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বন্ধ করে ছাত্র ও অনুষদের সদস্যদের গোপনীয়তা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকারকে অবজ্ঞা করেছেন। রয়র্টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ইতিহাসে বৃহৎ ছাত্র বিক্ষোভ বা এর জেরে জনমতে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে ক্যাম্পাসের এ বিক্ষোভ। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি সার্বিকভাবে মার্কিনিদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ ও গাজায় হামলা ও যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ গাজা উপত্যকায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করেন। এবার কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ : স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি বলছে, বিক্ষোভকারীরা ম্যাকগিল এবং কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে জায়নবাদী রাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তহবিল প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর এভাবে তাঁবু টানানো অনুমোদিত নয় এই ধরনের কার্যকলাপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সিবিসি নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলন মন্ট্রিল শাখা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। গ্রুপটি বলছে, তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে গণহত্যায় অংশীদার হতে দিতে চায় না। ফিলিস্তিনপন্থি একাধিক গ্রুপ এই আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সিবিসি নিউজকে জানিয়েছে, তারা ছাত্রদের অন্দোলন সম্পর্কে অবগত আছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন যে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে অনুমোদন করে সেই সীমা পর্যন্ত তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে তারা সম্মান করবে। ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, ভাবছে হামাস : ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ বন্ধে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতার জন্য মিসরের একটি দল ইসরায়েলে গেছেন। আলোচনা চলছে সৌদি আরবেও। সেখানে যাচ্ছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এছাড়া সৌদি আরবে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনসহ বিভিন্ন দেশের নেতা সেখানে যাচ্ছেন। সেখানেও ফিলিস্তিন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস বলেছে, তারা ইসরায়েলের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যবেক্ষণ করছে। ইসরায়েলের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে হামাসের উপপ্রধান খলিল আল-হাইয়া জানান, ইসরায়েলের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি তাদের কাছে পৌঁছেছে। এই প্রস্তাব কাতার ও মিসরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল। ইসরায়েলের দেয়া প্রস্তাবটি নিয়ে হামাস এখনো আলোচনা-পর্যালোচনা করছে। এই পর্যবেক্ষণ শেষে হামাস তাদের অবস্থান তুলে ধরবে। ইসরাইলি হামলায় আরো ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফায় শরণার্থী শিবিরে আবারো হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন। আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন শিশু রয়েছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App