×

প্রথম পাতা

লোকসভা নির্বাচন

ভারতে দ্বিতীয় দফা শান্তিপূর্ণ ভোট

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : ভারতে ১৮তম লোকসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়, শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। এদিন ৮৮ আসনে ভোট হয়েছে। হওয়ার কথা ছিল ৮৯ আসনে। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের বেতুল কেন্দ্রের বিএসপি প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়। তৃতীয় দফায় সেখানে ভোট নেয়া হবে। প্রথম দফায় ভোটের হার বেশি ছিল না। সব মিলিয়ে ভোট পড়েছিল ৬৩ শতাংশ। দ্বিতীয় দফায় যেন বেশি মানুষ ভোট দিতে আসেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত আবেদন জানান। সেই সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা নেয় নির্বাচন কমিশন। কেরালার ২০ আসনেই ভোট হয়েছে। এই রাজ্য থেকেই লড়ছেন কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, শশী থারুর, কে সি বেনুগোপাল। বিজেপি এ পর্যন্ত এই রাজ্যে একটিও আসন জেতেনি। এবার তারা দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর ও ভি মুরলীধরন। রাহুলের বিপক্ষে তারা দাঁড় করিয়েছে রাজ্য সভাপতি কে সুরেন্দ্রনকে। কেরালায় যারাই জিতুক, তাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পাল্লাই ভারী হবে। এই রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণ বিজেপি একটি আসনও জিততে পারে কিনা। একই রকম আকর্ষণ কর্ণাটকে। গতবারের ভোটে এই রাজ্যের ২৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২৫টি জিতেছে। গতকাল এ রাজ্যে ভোট হয়েছে ১৪ আসনে। এখন দেখার বিষয়- রাজ্যে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস কয়টি আসন পায় এবং বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জেডিএস কোথায় দাঁড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের ৩টি আসনে ভোট : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বালুরঘাট, দার্জিলিং ও রায়গঞ্জ আসনে ভোট হয়েছে। ৩টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের আসন বালুরঘাটে। আর দার্জিলিং ও রায়গঞ্জে সহিংসতা ঘটেনি বললেও চলে। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে সব দলের পক্ষ থেকে ৪১১টি অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে কোনো রকম হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই কাজ করে বেড়িয়েছেন তিনি। দার্জিলিংয়ের ১৬৩ নম্বর কেন্দ্রে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল। বেশ কিছুক্ষণ পর নতুন ইভিএম নিয়ে আসা হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দার্জিলিংয়ের বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তাকে ঘিরে শিলিগুড়িতে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। দার্জিলিংয়ের চোপড়ার আমতলা বুথে ১০০ মিটারের মধ্যে জমায়েত করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা এসে সেই জমায়েত ভেঙে দেন। ৩টি আসনেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুথের বাইরে ১০০ মিটারের মধ্যে জমায়েতের অভিযোগ পাওয়া যায়। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষেরই অভিযোগ জমা পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। দার্জিলিংয়ের বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তা একাধিক বুথে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। বিজেপির অভিযোগ, রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের ভোট দিয়ে দিয়েছেন তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন। স্থানীয় কংগ্রেস প্রার্থী আলী ইমরান রসম আলী ওরফে ভিক্টরকে দেখে জয়বাংলা সেøাগান দেন তৃণমূল কর্মীরা। জবাবে ভিক্টর বলেন, জয় বাংলা সেøাগানে অসুবিধা কোথায়? বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সেøাগান ধার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মোট ৭ দফায় শেষ হবে লোকসভার নির্বাচন। বাকি ৫ দফার মধ্যে ৭ মে তৃতীয় দফা, ১৩ মে চতুর্থ দফা, ২০ মে পঞ্চম দফা, ২৬ মে ষষ্ঠ দফা ও সপ্তম বা শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১ জুন। ভোট গণনা হবে ৪ জুন। ইভিএম মামলার রায় : ভোটের মধ্যে ইভিএম মামলার রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই রায় বিরোধীদের হতাশ করেছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নিছক সন্দেহের বশে একটি ব্যবস্থাকে ওলটপালট করা উচিত নয়। ইভিএমে দেয়া ভোটের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের সিøপ ১০০ শতাংশ মিলিয়ে দেখার আর্জিও সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রপিছু মাত্র ৫টি ভিভিপ্যাট মেশিনে পড়া ভোটার সিøপ ইভিএমের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি দীপংকর দত্ত এই মামলার শুনানির সময়েই জানিয়েছিলেন, ইভিএম বাতিল করে ব্যালটে ফেরা সম্ভব নয়। ব্যালটের যুগে কী হতো, তা সবার জানা। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, ইউরোপের দেশগুলো ইভিএম ছেড়ে পুরনো ব্যালট প্রথায় ফিরে যাচ্ছে। ভারতেরও তা-ই করা উচিত। বিচারপতিরা উত্তরে বলেছিলেন, সব সময় বিদেশের উদাহরণ খাটে না। এই রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিরোধীরা এতদিন ধরে ইভিএম নিয়ে কান্নাকাটি করত। এবার তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App