×

প্রথম পাতা

গরমে ক্রেতা কম

চাল ডাল মাছ মাংস সবজি চড়া

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ক্রেতা কম থাকায় অনেক বিক্রেতাকে অলস বসে থাকতে দেখা যায়। তবে নিত্যপ্রয়েজনীয় কোনো পণ্যেরই দাম কমেনি। চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সয়াবিন সেই উচ্চ মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আদা-রসুনের দামও বাড়তি। চড়া দাম কিনতে হচ্ছে শাকসবজিও। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গরমের কারণে চাষিদের ক্ষেতে সবজি নষ্ট হচ্ছে। বারবার সেচ দেয়ার কারণে সবজি উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে চাহিদাও বেড়েছে, তাই দাম বাড়তি। ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে। এমন বিরূপ আবহাওয়ায় অনেকেই ঘর থেকে বের হতে চায় না। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ানবাজার, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর, মগবাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ ও মাংসের দোকানগুলোতে ভিড় কম। তাই অনেক দোকানিই ক্রেতা আকর্ষণে হাঁকডাক করছেন। তবে সবজির বাজারে ক্রেতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের কর্মচারি সোহেল গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, ঈদের পর থেকে বাজারে ক্রেতার ভিড় কম ছিল। এখন গরমের কারণে অনেক পণ্যের চাহিদাও কমেছে। অনেক সময় অলস বসে থাকি। কারওয়ান বাজারের মাংস ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, ঈদের পর থেকে বাজারে ক্রেতা নেই। তার ওপর প্রচণ্ড গরম। লোকজন আরো কমে গেছে। যারা আসছেন তারাও এক-দুই কেজির বেশি মাংস কিনছেন না। ক্রেতা কম হলেও মাছ মাংসসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যই চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে চাল। প্রতি কেজি নাজির চাল (সরু) বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৭৬ টাকা, পাইজাম চাল (মাঝারি) ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল ২ টাকা বেড়েছে। গতকাল বিক্রি হয় ৫৪ টাকা কেজি। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। খাসির মাংসের দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম অবশ্য কিছুটা কমেছে। কেজিপ্রতি আড়াই শটাকা থেকে কমে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম কমেনি, বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। বাদামি রঙের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১২০ টাকা। আর সাদা ডিম ১০ টাকা কম। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন দামের সয়াবিন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি নতুন দাম ধরা হয়েছে ১৬৭ টাকা, যা আগের চেয়ে ৪ টাকা বেশি। চিনির দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৬-৬২ টাকায়। মানভেদে মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০৫ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। কিছুটা বাড়তির দিকে আদা ও রসুনের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে দেশি রসুন বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। বিদেশি রসুনের দাম এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। দেশি রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে বেশি চড়া সবজির দাম। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেপে প্রতি কেজি কিনতে গুণতে হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। ঈদের পরে কেজিপ্রতি আলুর দাম ১৫ টাকা বেড়ে মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি আলু ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দুল, ঝিঙে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বাজারে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরমে লেবুর চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। মগবাজারে ক্রেতা খালিদ হোসেন বলেন, গরমে বাজারে লোকজনের আনাগোনা কম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গরমে সবজিই ভালো। মাছ-মাংস তেমন খাওয়া যায় না। বেশ কয়েক পদের সবজি কিনলাম। তবে দাম বেশি নিয়েছে। সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, গরমে সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কম। গ্রামের মোকামে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ছে। তাই ঢাকার বাজারেও দাম বেড়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App