×

প্রথম পাতা

খাবার স্যালাইন বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ

গরমে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 গরমে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর
কাগজ প্রতিবেদক : দেশব্যাপী গরম চরম আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ তীব্র থেকে অতি তীব্র হয়েছে। গরমে মানুষের কষ্ট যেমন বেড়েছে; তেমনি বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগবালাইও। মহখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) জরুরি বিভাগে বাড়ছে রোগীদের ভিড়। প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেয়ার পর তাদের অবস্থা বিবেচনা করে স্যালাইন দেয়া কিংবা ভর্তি করানো হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে বাসায় পাঠানো হচ্ছে অধিকাংশ রোগীকে। আইসিডিডিআর,বির জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালটিতে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এযাবত সর্বোচ্চ রোগী ছিল ১২ এপ্রিল। ওই দিন ভর্তি ছিল ৫৯৫ জন রোগী। ১৩ এপ্রিল ৫২৫ জন, ১৪ এপ্রিল ৪৩৪ জন, ১৫ এপ্রিল ৪৯১ জন, ১৬ এপ্রিল ৪৭৪ জন, ১৭ এপ্রিল ৪৩২ জন, ১৮ এপ্রিল ৪৪৫ জন, ১৯ এপ্রিল ৪৫৬ জন, ২০ এপ্রিল ৫৪৩ জন, ২১ এপ্রিল ৫২২ জন আর গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৫৫ জন ডায়ারিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সব বয়সের মানুষ ভর্তি হলেও শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে জানায় জরুরি বিভাগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষত মে-জুন ও নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তবে এ বছর অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব আগেই শুরু হয় কিনা তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে। তবে আইসিডিডিআর,বির ডায়রিয়া ইউনিটের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বে থাকা ডা. বাহারুল আলম বলছেন, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, গত দুই মাস ধরেই গড়ে দৈনিক ৫০০ রোগীর মতো ভর্তি থাকছে। প্রতি বছরই এই সময়ে এ সংখ্যক রোগীই হাসপাতালে ভর্তি থাকে। তাই ডায়রিয়ার আগাম প্রাদুর্ভাবের যে শঙ্কা তা সঠিক নয়। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের (এমআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় ১ লাখ ৭০ হাজার ২৭৬ জন। এদের মধ্যে মারা যান ৩১ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭২১ জন। মৃত্যু হয় ১২ জনের। ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৪৪ জন। তবে এ সময়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহে অনেকের শরীরে দেখা দিচ্ছে পানিশূন্যতা। আর পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পেতে বেড়েছে স্যালাইনের চাহিদা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, গরমের তীব্রতা বাড়ার কারণে ওরস্যালাইনের বিক্রি বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরমের সময় স্বাভাবিকভাবেই স্যালাইনের চাহিদা বাড়ে। তবে এবারের গরম বেশি পড়ায় চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিক্রেতারা জানায়, অন্য সময় দৈনিক ৫ থেকে ৬ প্যাকেট স্যালাইন বিক্রি হতো। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৫ থেকে ২০ প্যাকেট। অনেকে আবার পুরো বক্সই কিনে নিচ্ছেন। এদিকে তীব্র দাবদাহে কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারাদেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে গত রবিবারই নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। মহাখালীতে করোনা চিকিৎসার জন্য ডিএনসিসি হাসপাতালে শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদাভাবে বেড রাখতেও বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তাপদাহের কারণে কোল্ড কেস (যাদের এখন ভর্তি হওয়ার দরকার নেই) এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি না করানোর এবং বয়স্ক ও শিশুদের প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App