×

প্রথম পাতা

ইসরায়েলি হামলায় মৃত মায়ের পেট থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ইসরায়েলি হামলায় মৃত মায়ের পেট থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার
কাগজ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। মিসর সীমান্তবর্তী রাফা নগরীতে ইসরায়েলের হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা মায়ের মৃত্যু হয়েছে, তবে তার পেটের সন্তানকে বাঁচাতে পেরেছেন চিকিৎসকরা। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যাকে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। শনিবার রাতে রাফায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দুটি বাড়িতে এ হামলা হয়। নিহতদের মধ্যে একটি পরিবারের ১৩টি শিশু রয়েছে। প্রথম বাড়িতে হামলায় শুকরি আহমেদ জাওদা নামের এক যুবক, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবরিন আল-সাকানি ও তাদের এক মেয়ে নিহত হন। তবে অস্ত্রোপচার করে নিহত মায়ের পেটে থাকা সন্তানকে বাঁচিয়েছেন রাফার কুয়েতি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মোহাম্মদ সালামা নামের এক চিকিৎসক শিশুটির দেখভাল করছেন। ১ দশমিক ৪ কেজি ওজনের এই কন্যা শিশুকে জরুরিভাবে অস্ত্রোপচার করে মায়ের পেট থেকে বের করা হয়। তার মা মৃত্যুর সময় ৩০ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। হাসপাতালে শিশুটিকে অন্য শিশুদের সঙ্গে একটি ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছে। তার বুকে টেপ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে লেখা, শহীদ সাবরিন আল-সাকানির সন্তান। শিশুটির চাচা রামি আল-শেখ জানিয়েছেন, হামলায় নিহত হওয়া তার বোন মালাক শিশুটির নাম রাখতে চেয়েছিল ‘রুহ’, যার বাংলা অর্থ ‘আত্মা’। তিনি বলেন, পৃথিবীতে বোন আসছে ভেবে খুবই খুশি ছিল মালাক। চিকিৎসক বলেছেন, শিশুটি হাসপাতালে তিন থেকে চার সপ্তাহ থাকবে। এরপর শিশুটিকে তার পরিবার, ফুপু, চাচা না দাদা-দাদি, কার কাছে দেয়া যায় সেটি দেখা হবে। যদিও শিশুটি বেঁচে গেছে, কিন্তু তার জন্ম হয়েছে এতিম অবস্থায়- সেটিই সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়। দ্বিতীয় বাড়িতে ইসরায়েলের হামলায় আব্দেল আল আল পরিবারের ১৩ শিশু নিহত হয় বলে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে দুই নারীও নিহত হয়েছেন। মোহাম্মদ আল বেহাইরি নামের এক ফিলিস্তিনি বলেছেন, তার মেয়ে এবং নাতি এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ইসরায়েলের হামলায় উদ্বাস্তু হওয়া গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার বেশির ভাগই রাফায় আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু গাজার অন্যান্য স্থান ধ্বংসের পর এখন রাফায় হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। ইসরায়েলি গণহত্যাকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা প্রায় ৭ মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এমন অবস্থায় গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যাকে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস। এমনকি মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে বলেও অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি। বার্তা সংস্থা আনাদোলু গত রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলুকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রতারণামূলক, যদিও দেশটি বলে, তারা বেসামরিক লোকদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না, তবে এটি তাদের একটি কৌশল। গাজায় নিহত সমস্ত বেসামরিক নাগরিক, হাজার হাজার শহীদ, মার্কিন অস্ত্র, মার্কিন রকেট, মার্কিন রাজনৈতিক সুরক্ষায় নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে মার্কিন ভেটোর অর্থ কী? এর মানে হলো- গাজায় গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সুরক্ষা দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণ সদস্যপদে মার্কিন ভেটো এটিই দেখায় যে- ওয়াশিংটন ইসরায়েলি অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের বিরোধিতা করছে। এদিকে হানিয়া রাফা শহরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণকে গণহত্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, আমি সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশকে, আমাদের মিসরের ভাইদের, আমাদের তুরস্কের ভাইদের, আমাদের কাতারের ভাইদের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে (ইসরায়েলি) আগ্রাসনকে দমন করতে এবং রাফা শহরে অভিযান প্রতিরোধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে এবং সেই সঙ্গে গাজা উপত্যকা থেকে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং গাজায় হামলার সমাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা : ইসরায়েলের সঙ্গে কেন আলোচনা করতে রাজি হয়েছিলেন এর কারণ ব্যাখ্যা করে হানিয়া বলেন, আমরা আলোচনায় রাজি হয়েছিলাম, কিন্তু এই শর্তে যে- ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করা হবে। আমাদের শর্ত হচ্ছে- এই আলোচনার ফলে অবশ্যই একটি ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সম্পূর্ণভাবে সৈন্য প্রত্যাহার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি হতে হবে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দাখিল করা কয়েক ডজন প্রস্তাব নিয়ে এ পর্যন্ত সব আলোচনা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি। ইসরায়েল যা চায় তা হলো- বন্দিদের ফিরিয়ে নেয়া এবং তারপর গাজায় যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা। এটা সম্ভব নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। ইসরায়েলও চায় না বাস্তুচ্যুত মানুষ উত্তর গাজায় ফিরে আসুক। তারা (ইসরায়েল) কেবল সীমিত পরিসরে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে ফিরে আসতে দিতে চায়। এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল বন্দি বিনিময়ের জন্য অল্পসংখ্যক লোকের প্রস্তাব দিচ্ছে। যদিও গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর এবং গাজা থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েল। হানিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র (ইসরায়েলের ওপর) কোনো চাপ প্রয়োগ করে না এবং ওয়াশিংটন এ বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতেও বাধা দিচ্ছে। অবশ্য ইসরায়েল এই দাবিগুলো মেনে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App