×

প্রথম পাতা

তাপপ্রবাহ কী, হিট অ্যালার্ট কেন?

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : পক্ষকালেরও বেশি সময় ধরে দেশে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে রাজধানীসহ গোটা দেশের জনজীবনে নাজেহাল অবস্থা। জীববৈচিত্র্য ও প্রাণিকুলেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। এ পরিস্থিতিতে সারাদেশে হিট অ্যালার্ট বা তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার উষ্ণতা কতটুকু হলে তাপপ্রবাহ ও সতর্কবার্তা কখন জারি করা হয় এবং এ সময় করণীয় কী- সে সম্পর্কে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাপপ্রবাহ কী? : আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, তাপপ্রবাহ (হিট ওয়েভ) অতিরিক্ত উষ্ণ অবস্থা বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া। যদি কোনো স্থানে বাতাসের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় অর্থাৎ ৩ থেকে ৫ দিন অতি বাড়ে এবং সেই সঙ্গে আর্দ্রতা বেড়ে যায় তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপপ্রবাহ শুধুই গরম আবহাওয়ার তারতম্য বুঝায় না বরং স্বল্পকালব্যাপী এর অস্বাভাবিক স্থায়িত্বকেও বুঝায়- যা শতাব্দীতে মাত্র কয়েকবার সংঘটিত হতে পারে। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে, হাইপারথার্মিয়ায় হাজার হাজার মৃত্যু হয়ে থাকে, খরা প্রবণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও বাতানুকূল ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটে থাকে। তাপদাহকে চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং মানব স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। কারণ তাপ ও সূর্যালোক মানবদেহের শীতলকারী তন্ত্রকে গ্রাস করে ফেলে। আবহাওয়াবিদরা জানান, তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গেলে তাকে তাপপ্রবাহ ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রির উপরে হলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপদাহ ও দাবদাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সূর্যের তীব্র আলোর কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত গরম বা তাপের ফলে যে উত্তাপ অনুভূত হয় বা আগুন জ্বলে উঠে তাই তাপদাহ। আর দাবদাহ হলো দাবানলে সৃষ্ট উত্তাপ। অর্থাৎ সূর্যের অতিরিক্ত গরমে বা তাপে ঘনজঙ্গলের শুকনো গাছ বা ডালে বাতাসের চাপে তীব্র ঘর্ষণের ফলে যে আগুন জ্বলে উঠে। হিট অ্যালার্ট কী? : তাপপ্রবাহ সম্পর্কে যে সতর্কতা জারি করা হয় সেটাই মূলত হিট অ্যালার্ট বা হিট ওয়েভ অ্যালার্ট বা তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা। তাপপ্রবাহ চরম মাত্রায় বাড়লে আরো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়। তাছাড়া মানুষের সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে হতে পারে মৃত্যুর কারণ। তাই সবাইকে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই হিট অ্যালার্ট জারি করে থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মানবদেহে প্রভাব : অতি তাপপ্রবাহের ফলে মানুষ হিটস্ট্রোক করে মারা যেতে পারে। দেহের পানির পরিমাণ কমে গিয়ে হতে পারে ডিহাইড্রেশন বা পানি শূন্যতা। এছাড়াও এ সময় অন্যান্য অনেক রোগও বেড়ে যায়। তাই সব মিলিয়ে তাপপ্রবাহের সময় সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন। এছাড়া অতি তাপপ্রবাহে মানুষের শরীরও অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং সারা শরীরে তখন রক্ত সঞ্চালন করা হৃৎপিণ্ডের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর ক্লান্ত লাগা, ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া, চুলকানি এবং পা ফুলে যাওয়া নিয়মিত উপসর্গ হিসেবে ধরা হয় তীব্র তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি প্রচুর ঘাম হওয়ার কারণে শরীরের তরল পদার্থ ও লবণের পরিমাণ কমে যায়, গুরুতর ক্ষেত্রে দেহে এসব তরল উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে ডিমেনশিয়া রোগও দেখা দিতে পারে। এ সময় করণীয় : হিট অ্যালার্ট জারি হলে বিশেষজ্ঞরা বাইরে প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বের হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন বা ত্বক সুরক্ষার কোনো উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। ধুলোবালির প্রকোপ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরতে হবে। চোখে সানগøাস দিতে হবে। ছাতা ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন এ সময়। তবে সেক্ষেত্রে কালো রঙের ছাতা ব্যবহার না করাই ভালো। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে। লেবুর শরবত, স্যালাইন এবং পানীয় সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খেতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল ও মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App