×

প্রথম পাতা

তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গরমে স্বস্তি নেই কোথাও

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও  গরমে স্বস্তি নেই কোথাও
কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীসহ সারাদেশে একদিনের ব্যবধানে তাপপ্রবাহের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। তবুও ঘরে-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। দু-একটি এলাকা ছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশেই গরম চরম আকার ধারণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র প্রবাহ। ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে তাপমাত্রা। সূর্য যেন সম্পূর্র্ণ তাপ ঢেলে দিচ্ছে ধরায়। চৈত্রের শেষ দিক থেকেই বাড়তে থাকা খরতাপে গত কয়েকদিন ধরে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ঘর থেকে বের হলেই গরম বাতাস শরীরে জ¦ালা ধরাচ্ছে। কিছু বাতাস অনুভূত হলেও ঢাকার অলিগলি ও কোলাহলপূর্ণ স্থানগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে লোকসমাগম একেবারেই কম। এ পরিস্থিতির মধ্যে আবহাওয়াবিদরা ঢাকাসহ দেশের কয়েক জায়গায় বৃষ্টির আভাস দিলেও গরম থেকে স্বস্তির সম্ভাবনা আপাতত নেই। চলমান এ তাপপ্রবাহ পুরো সপ্তাহজুড়েই বাড়া-কমার মধ্যে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশজুড়ে তিন দিনের হিট এলার্ট বা তাপপ্রবাহের সতর্কবাতা জারি রয়েছে শনিবার থেকে। তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি এত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে- মানুষ পারতপক্ষে বাইরে বের হচ্ছে না। তবে চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র তাপ মাথায় নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন তারা। রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর ও হকারদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাপ সহ্য করে কাজে বের হলেও খদ্দের কম থাকায় বিকি-বাট্টা কম। আর আয়ও কম হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে জীবন নির্বাহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। মুদি দোকানিরা বলছেন, ভরদুপুরে ক্রেতার সংখ্যা একেবারেই কম থাকে। মূলত সন্ধ্যার পর ক্রেতাসমাগম কিছুটা বাড়ে। রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, অফিস করতে হয়, তাই সকালে বের হয়েছি। এরপর অফিসের কাজে একটু বের হয়েছিলাম। কিন্তু এ রোদে শরীর পুড়ে যাচ্ছে, বেশিক্ষণ বাইরে থাকা যায় না। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগী ছাড়া ভর্তি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) জরুরি বৈঠক ডেকে গতকাল প্রচণ্ড গরমের কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ সময়ে চলমান পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার আওতাধীন বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত শনিবার শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সারাদেশে স্কুল-কলেজে চলমান ঈদ নববর্ষের ছুটি ৭ দিন বাড়িয়েছে সরকার। তবে ঢাকায় গত শনিবারের চেয়ে গতকাল রবিবার তাপমাত্রা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি। শনিবার তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। টাঙ্গাইলে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ এবং ফরিদপুরে ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাসে বলা হয়, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবারের চেয়ে তাপমাত্রা কিছু কমেছে খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায়ও। গতকাল সন্ধ্যায় পূর্বাভাসে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। খুলনায় তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ২, মোংলায় ৩৯ দশমিক ৮, সাতক্ষীরায় ৩৯ দশমিক ৬, যশোরে ৪০ দশমিক ২, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালে ৩৬ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৬ দশমিক ৫, ময়মনসিংহে ৩৭ দশমিক ৮, সিলেটে ৩৩ দশমিক ২, শ্রীমঙ্গলে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ মৌসুমে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম বিরাজ করছে। গতকাল চট্টগ্রামে তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বিভাগে (চাঁদপুর) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি। পূবাভাসে আরো বলা হয়, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। শ্রীমঙ্গল ও চাঁদপুর জেরাসহ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে এবং অন্যত্র প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া রাতের তাপমাত্রাও অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে। বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, তাপমাত্রা একেবারে কমবে না। তাপমাত্রা বাড়া-কমার মধ্যে থাকবে। ঢাকায় দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। মাসজুড়েই এ অবস্থা থাকতে পারে। তাপমাত্রা রবিবার আরেকটু বেড়েছে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে এ সপ্তাহজুড়ে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি তাপমাত্রার তুলনায় বেশি। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এ গরমে বাইরে কাজ না করতে পারলে ভালো। নিতান্ত প্রয়োজনে বাইরে কাজকর্ম করলেও সতর্কতা নেয়া উচিত। তীব্র গরমের মধ্যে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App