×

প্রথম পাতা

গাজা পরস্থিতিি : খান ইউনসিরে গণকবরে ৫০ মরদহে

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। যার পরিপ্রেক্ষিতে উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এবার গাজার খান ইউনিস শহরে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখান থেকে ৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় এ শহর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দুই সপ্তাহ পর এ গণকবর পাওয়া গেল। গাজার জরুরি সেবা বিভাগ বলেছে, ‘আমাদের দল অবশিষ্ট শহীদদের মরদেহ খুঁজে পেতে সামনের দিনগুলোতেও অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাবে। কেননা, সেখানে (শহরটিতে) এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শহীদের মরদেহ রয়েছে।’ গত ৭ এপ্রিল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় এ শহর থেকে ইসরায়েল তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর এ গণকবরের সন্ধান মিলল। কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের বিরামহীন গোলাবর্ষণ ও তাদের সেনাদের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ে শহরটির বড় অংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সবাই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ কোনো ধরনের আশ্রয় ছাড়াই বসবাস করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম ত্রাণবাহী ট্রাক এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে। ইসরায়েল গাজার ওপর ব্যাপকভাবে অবরোধ আরোপ করে রাখায় এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। এবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী : ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কুখ্যাত ইউনিট নেতজাহ ইয়েহুদার ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়েই নেতজাহ ইয়েহুদার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল এবং ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএনএস। এদিকে, মার্কিন এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটি বলছে, সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করা। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত শনিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আইডিএফের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত হবে না। আমাদের সৈন্যরা সন্ত্রাসী দানবদের সঙ্গে লড়াই করছে।’ ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভীর এবং বেজালেল স্মোট্রিচও মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন। গভির বলেন, ‘আমাদের সেনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করা।’ তিনি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টকেও মার্কিন আদেশের সামনে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল বলছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে নেতজাহ ইয়েহুদা নিষেধাজ্ঞায় পড়লে আইন অনুযায়ী এই ইউনিটের বৃহত্তর আল্ট্রা-অর্থোডক্স পদাতিক সৈন্যরা মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া এই ইউনিটের সৈন্যদের মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ বা মার্কিন অর্থায়নে যে কোনো কার্যকলাপে অংশ নিতে বাধা দেয়া হবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কুখ্যাত ইউনিট নেতজাহ ইয়েহুদার সদস্যরা একাধিক বিতর্কিত এবং সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এই ইউনিটের সৈন্যরা অতীতেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App