×

ফ্যাশন

জলের নীলে বর্ষাকালে

Icon

নাজমুল হক ইমন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জলের নীলে বর্ষাকালে

বসনে বর্ষার রং

বৃষ্টি মানেই তো জল। তাই ধরে নেওয়া হয়, বর্ষা মানেই নীল। বৈশ্বিক ফ্যাশনেও বর্ষাকালে নীলের নানা সমন্বয় দেখা যায়। শাড়ি, টপ, কুর্তা, স্কার্ট, লম্বা পোশাক যেটিই পরা হোক না কেন, নানাভাবেই আপনার পোশাকে ফুটে উঠতে পারে বর্ষা। পোশাকের নীলের সঙ্গে যোগ হতে পারে সাদা কিংবা সাদার মধ্যেই থাকতে পারে নীলের পরশ। হ্যান্ডপেইন্টে, এমব্রয়ডারিতে হতে পারে বর্ষার চিত্রায়ণ। আবার বর্ষায় ঘন কালো মেঘের সঙ্গে ছাই রঙের মিল থাকে। আবার মেঘ সরে গিয়ে নীল আকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্ষার নীল আকাশ অন্যরকম সুন্দর। হালকা নীল, গাঢ় নীল হলো বর্ষার প্রধান রং। এমনটাই মনে করেন অঞ্জন’স এর শীর্ষ নির্বাহী ও ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে ভ্যাপসা গরম এমন আবহাওয়ায় হালকা রঙের পোশাক প্রাধান্য দেন ডিজাইনাররা। ডিজাইনারদের মুন্সিয়ানাতে আর শৈল্পিক উপস্থাপনে বৃষ্টিতে ভিজে বর্ষার নীল রং আরও সতেজ হয়ে ওঠে। এ সময় নীলের অনেক শেড লক্ষ্য করা যায় বলে জানান শাহীন আহম্মেদ। তবে তিনি আরো যোগ করে বলেন, নীলের আবেদন সব ঋতুতেই থাকে। বর্ষায়ও আছে। এ ঋতুতে পরিধানের পাশাপাশি চোখের আরামের বিষয়টি মাথায় রেখে পোশাকের রং নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি ফেব্রিক নির্বাচনে এই সময়ের উপযোগিতা বিবেচনা করা হয়। বলা যায়, মেঘলা আবহাওয়ায় উজ্জ্বল নানা রংই চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে। তাই নীল তো বটেই, বেগুনি, সবুজ বা প্রকৃতির অন্য কোনো উজ্জ্বল রংও এ সময় দেখায় দারুণ।

নিজেকে দেখাবে প্রাণবন্ত

বর্ষায় ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। এতে বৃষ্টিতে ভিজলেও কাপড় গায়ের সঙ্গে লেগে অস্বস্তি হবে না। আর বর্ষায় নিত্যব্যবহার্য কিছু জামা বানানো যেতে পারে ফ্রক স্টাইলে এবং কুঁচি রেখে।

কখনো কখনো দেখা যায় খুব ঢিলেঢালা পোশাক পরার সুযোগ থাকে না বা নির্দিষ্ট পোশাক পরেই কাজে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে বৃষ্টিতে প্রতিকূল অবস্থা এড়াতে গায়ে শর্ট কিংবা লং কোটি, ডাবল জর্জেট বা শিফন জর্জেটের শ্রাগ জড়িয়ে নিয়ে বের হওয়া যায়। জর্জেট ওজনে হালকা বলে পরে ব্যাগে রেখে দিলেও ওজন লাগবে না।

তবে শাড়ি পরে বের হতে হলে বর্ষার দিনগুলোতে পছন্দের শীর্ষে থাকতে পারে গাঢ় রঙের হাফসিল্ক, পাতলা সিল্ক, শিফন, জর্জেট বা মসলিনের শাড়ি। এতে শাড়ি ভিজে গেলেও তা সহজে শুকিয়ে যাবে এবং গায়ের সঙ্গে লেগে থাকবে না। চলাচলের সুবিধা হবে। তবে নীল সুতি শাড়ির ক্যানভাস গায়ে মোড়ালেও আপনাকে দেখাবে প্রাণবন্ত।

ছিমছামে সুন্দর

বর্ষায় অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য উজ্জ্বল ধরনের পোশাক বাছাই করতে হবে। কারণ এইসময় আবহাওয়ার কারণে স্বভাবতই চারিদিক অন্ধকার থাকে। তাই এমন পোশাক বাছাই করতে পারেন যাতে নিজেকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত দেখায়। তবে

হালকা কাজের নীল পোশাক হতে পারে আপনার ভ্রমণের সঙ্গী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকেন যারা, তারা বেছে নিতে পারেন ছাপা নকশা, স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্টের পোশাক। বর্ষায় বেশি কারুকাজের পোশাক এড়িয়ে ছিমছাম ও আরামদায়ক পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতেই আপনাকে পরিপাটি লাগবে। দিনের বেলা হালকা রঙের পাশাপাশি হালকা কাজের পোশাক আপনাকে স্বস্তি দেবে। রাতের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে বেছে নিতে পারেন কিছুটা কম ভ্যালু এডিশনের ছিমছাম এবং গাঢ় রঙের পোশাক।

ডিজাইন ও মোটিফ

আকাশে ছুটে যাওয়া মেঘ, মেঘের রাজ্য থেকে অনবরত ঝরে পড়া বৃষ্টি, জলে ভাসা পদ্ম, এক কাপ চা, ধোঁয়া ওঠা কফি, ব্যাঙ ও ব্যাঙ্গাচি কী নেই পোশাকে? নিত্যদিনের যাপনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ যেন উঠে এসেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং অনলাইনের পেজের পোশাকে। সেই সঙ্গে বৃষ্টিদিনের গানও উঠে আসছে। মোট কথা, এখনকার পোশাকের মোটিফ ও ডিজাইনে ফিউশন রাখার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকে দেশীয় ডিজাইনের পাশাপাশি পশ্চিমা ডিজাইনের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।

আরামে, ফ্যাশনে রঙিন বর্ষা

সহজে শুকিয়ে যায়, একই সঙ্গে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে না এমন ধরনের পোশাক বর্ষায় পরার জন্য আরামদায়ক। মিহি সুতার কাপড় এ ঋতুতে কম পরা ভালো। জর্জেটের পোশাক দ্রুত শুকিয়ে যায়। যারা জর্জেটের পোশাকে আরামবোধ করেন, তারা জর্জেটের পোশাক বেছে নিতে পারেন। মনে রাখবে, এ সময় ভারী বুননের বা জমকালো নকশার পোশাক এড়িয়ে চলাই উত্তম। বৃষ্টিতে ভিজলে এ ধরনের কাপড় শুকাতে দেরি হয়।

কাপড়ের রং যাচাই করে পরুন

বৃষ্টিতে ভিজে কাপড় থেকে রং উঠতে পারে এমন কাপড় বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। বর্ষায় পরার উপযোগী কি না, আগেই যাচাই করে নিতে কাপড়ের এক কোনা একটু সাবান পানিতে অথবা সুযোগ না থাকলে কোনাটা একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে পারেন। এরপর কয়েক মিনিট রেখে ঘষে হাত দিয়ে পরখ করে নিন রং উঠছে কি না। যদি ওঠে, তাহলে ওই পোশাক বদলিয়ে অন্য পোশাক পরুন।

যতœটা জেনে নিই

বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এ সময় পোশাকের সঠিক যতœ নিতে হবে। নয়তো দ্রুতই ছত্রাক পড়ে নষ্ট হবে প্রিয় পোশাক। তাই আলমারিতে ন্যাপথলিন কিংবা নিমপাতার গুঁড়া রেখে দেওয়া যেতে পারে। এতে সহজে কাপড় নষ্ট হবে না। এছাড়া বৃষ্টির কাদাজলে যদি কাপড় নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই সাবান পানিতে তা ধুয়ে নিতে হবে। রোদে কাপড় ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। যদি পর্যাপ্ত রোদ না থাকে, তাহলে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে। কাপড়কে ফাঙ্গাস থেকে বাঁচাতে ভিনেগার বা সিরকা ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য গুঁড়া সাবানের সঙ্গে পরিমাণমতো ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এ পানিতে কাপড় ভিজিয়ে রাখুন। এতে ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর হবে।

বৃষ্টির দিনগুলোতে আলমারিতে তুলে রাখা কাপড়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। তুলে রাখা শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক রোদে মেলে দেওয়া যেতে পারে। যে আলমারি বা ওয়ার্ডরোব পোশাকটি রাখা আছে, সেই আলমারি বা ওয়ার্ডরোব ভালো করে মুছে রাখতে হবে। এতে স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর হবে। মসলিন, জামদানি কিংবা এ জাতীয় পোশাকের সালোয়ার-কামিজ কিংবা শাড়ি যদি বৃষ্টিতে ভিজে যায় তাহলে অবশ্যই তা কাটা ওয়াশ করে এমন লন্ড্রিতে দিতে হবে। ঘরে যদি সাবান পানিতে এ ধরনের ফেব্রিকের পোশাক ধোয়া হয়, তাহলে কাপড়ের সৌন্দর্য দ্রুত মলিন হয়ে যাবে।

মডেল: মৌরী মাহদী

ফটোগ্রাফার: রাহুল লুনা চৌধুরী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App