×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

ফ্যাশন

সন্তান সামলে মায়ের যতœ

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সন্তান সামলে মায়ের যতœ

ডা. আশরাফুন্নাহার চৈতী

বেশ কিছু মাস হলো মা হয়েছেন। এমন অনুভূতি মুখে প্রকাশ করার মতো নয় বলেই সারাক্ষণ স্মিত হাসি লেগে থাকে মায়ের মুখে। সারা ঘরজুড়ে শিশুকে নিয়ে আনন্দের হই হুল্লোড় লেগেই থাকে। এমন সময়ে স্বভাবতই শিশুর কি করে যতœ আত্তি করা যায় তা নিয়েই সকলে ব্যস্ত থাকে। তার দেখাশোনাতেই সময় কেটে যায়। নাওয়াখাওয়ার সময়ই নেই মায়েদের। তার মধ্যে কি আর রূপচর্চা করা যায়? এ দিকে সন্তান জন্মের পরে ত্বক ও চুলের বেহাল দশা। শরীরেও বদল আসছে। হরমোনের তারতম্য ঘটছে যার ছাপ ভাল মতোই পড়ছে ত্বকে। তাই মাায়ের দিকেও এবার নজর ফেরানো প্রয়োজন।

একজন মেয়ে থেকে মা হবার পথে পরিবর্তনসমূহ

গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব পরবর্তী সময়গুলোতে একজন নারীর অনেক মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন হয়। বিশেষ করে ত্বক, স্বাস্থ্য ও চুলের ক্ষেত্রে অপরিমেয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যাতো আছেই।গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়াটাই স্বাভাবিক। প্রসব পরবর্তী সময়ে যেহেতু মা শিশুকে স্তন্যপান করান সেহেতু তার খুব বেশি খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করাও উচিত না। এসময়ে একজন নারীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্যালরিযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবার চেষ্ঠা

নতুন মা যেন প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টার মতো বিশ্রাম করতে পারে তা লক্ষ্য রাখা জরুরী। এই সময়ে শরীর অবসন্ন থাকে। তাই ঠিকঠাক বিশ্রাম না পেলে স্বাস্থ্য ভেঙে পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাতে হবে। তবে ডাক্তারের সাথে আগে পরামর্শ করে নিতে হবে। পরামর্শ অনুযায়ী আস্তে আস্তে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে হবে। নিজের দৈনন্দিন চলাফেরার নিয়মে ফিরতে পারলে শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই সুস্থ থাকতে পারবেন নতুন মায়েরা।

প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম

সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ছয় থেকে আট সপ্তাহ যেকোনো মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষত দুপুরের দিকে অন্তত এক দেড় ঘণ্টা হালকা ঘুম দেয়া ভালো। ঘুম শেষে উপুড় হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার অভ্যাস করাও ভালো। এতে জরায়ুর অবস্থান স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

ডায়েট নির্ধারণ করুন

প্রসবের পর একজন মায়ের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৫০০ ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যতালিকায় ফলমূল, সবজি বাড়াতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ঔষধ খাওয়ানো যেতে পারে।

যা আপনার পছন্দ তাই পরবেন

সন্তান জন্মের পর শারীরিক পরিবির্তন ও মুটিয়ে যাওয়ার কারণে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে মায়েরা হীনমন্যতায় ভুগেন। ভাবেন কোন পোশাকেই তাদের মানবে না। এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নিজের যা পছন্দ তাই পরবেন। নিজের পছন্দের পোশাকে নিজেকে সাজান, এতে করে মন ভালো থাকবে। নিজের পছন্দ মতো বই পড়ুন, গানও শুনতে পারেন। একজন নতুন মায়ের মন ফুরফুরে থাকলে সন্তানের উপরও ভালো প্রভাব পড়ে।

অন্য মায়েদের সাথে তুলনা বন্ধ করুন

পাশের বাড়ির ভাবী সন্তান জন্ম দেয়ার পরও কী সুন্দর শরীর ফিট রেখেছে বা ত্বক কত সুন্দর, কোন পরিবর্তন হয় নি, অনেক সুন্দর দেখায় তাকে অথচ আমি কেন এত মোটা হয়ে গেলাম, আমার ত্বক কেন উজ্জ্বলতা হারালো-এসব তুলনা বন্ধ করুন।

ঐ মানুষটা আর আপনিতো এক না, দু’জনেই আলাদা দুটো মানুষ। দু’জনের স্বভাব, ব্যক্তিত্ব, রুচি, মানসিকতা সব আলাদা। কাজেই কেন আপনি অন্য মায়েদের সাথে নিজেকে তুলনা করবেন? নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য আবার কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় আর ফিট হওয়া যায় সেইভাবে নিজের যতœ নিন।

পজেটিভ চিন্তা করুন

নিজেকে নিয়ে পজেটিভ চিন্তা করুন। এতে আপনার, আপনার সন্তান এবং পরিবার সব কিছুতেই ভালো প্রভাব পরবে। সন্তান ধারন থেকে জন্ম দেয়ার পর আপনাকে যেসব সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয় এগুলো সব সাময়িক সমস্যা। সময়ের সাথে সাথে আর আপনার চেষ্টায় সব আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এই পজেটিভ চিন্তা যদি সবসময় মাথায় রেখে চলেন তাহলে আপনি দ্রুত আপনার আগের ফিটনেস ফিরে পাবেন।

মানসিক অবসাদ

সন্তান জন্মের পর অনেক মায়েরাই মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরেন। একে তো নিজের শারীরিক পরিবর্তন তার সাথে পুরোনো রুটিন পরিবর্তন আর বাড়ির সবার বাচ্চার প্রতি মনোযোগের কারণে নতুন মায়ের প্রতি অমনোযোগ সব মিলিয়ে মায়েরা অবসাদে ভুগতে থাকেন।

পোস্টপার্টাম হেয়ার লস

সন্তানের জন্মের পর থেকে বেশি চুল পড়ছে? এই সময়ে হরমোনের তারতম্যের কারণে এমন অনেকেরই হয়। অন্তঃসত্ত্বাদের প্রোজেস্টেরন হরমোন অনেকটা বেশি থাকে। কমতে থাকে ইস্ট্রোজেন। তার ফলেই বেশি চুল পড়ে। আবার সন্তানের জন্মের তিন থেকে ছ’মাস পর ধীরে ধীরে নতুন চুল উঠতে শুরু করে। তাই এই সময়টাতে খাওয়াদাওয়ায় নজর দেওয়া জরুরি। নানা রকম ফল-সব্জি রোজ খাওয়া হলে শরীর যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট পাবে। তাতে চুলের গোড়া শক্ত হবে।

চাই ত্বকের যতœও

সদ্য মায়েরা বেশির ভাগ সময়েই ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যায় ভোগেন। ত্বকে কালো দাগছোপও পড়তে পারে। সন্তান প্রসবের পরে হরমোনের বদল ও ওষুধপত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। অনেকের ত্বকে ‘এগজিমা’ বা লাল লাল র‌্যাশ দেখা দেয়। সে জন্য নিয়মিত ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। ত্বকে যাতে ময়লা না জমে, সেটা দেখতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করার পর রোজ এক বার অন্তত ভাল ভাবে ক্রিম মাখুন। তা হলেই অনেকটা যতেœ থাকবে ত্বক।

তবে কী ধরনের ক্লিনজার ব্যবহার করবেন, সেটা চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়াই ভাল।

বাড়িতেই চন্দন, মুলতানি মাটি বা অ্যালো ভেরা দিয়ে ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। অনেক মা-ই ভাবেন গর্ভাবস্থায় বা সন্তান জন্মের পরে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত নয়। সেটা একেবারেই নয়।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গর্ভাবস্থার আগে ও পরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে অসুবিধা নাই । ভাল ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিন ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাবে। সন্তান জন্মের পরেও নিয়ম করে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে, এতে ত্বকে দাগছোপ পড়বে না। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করুন।

এতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকবে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসবে। সময়মতো ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস নতুন মায়ের ত্বক ও শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের তারতম্যের কারণে মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বাদামী বা কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে।

এগুলোকে মেলাজমা বা মেছতা বলে। গর্ভাবস্থার পর এই হরমোন ধীরে ধীরে হ্রাস পায় যার কারণে দাগগুলোও ধীরে ধীরে মুছে যায়। ব্রণের জন্য ভালো ক্লেনজার ব্যবহার করুন ও মুখ পরিষ্কার রাখুন। আর সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহারতো অবশ্যই করতে হবে। এছাড়াও সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান। সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চুলের যতœও নিতে হবে। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন-ই, আইনোসিটোল, জিংক, বায়োটিন ও কো-এনজাইম কিউ-১০ চুলের উপকারী বন্ধু।

ব্যায়াম করতে পারলে ভালো

প্রসব পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যায়ামের প্রয়োজন আছে। প্রসবের সময় প্রচুর রক্তপাত হয়ে থাকে। রক্তস্বল্পতা কাটাতে আয়রন ফলিক ট্যাবলেট আর মাতৃদুগ্ধদানের জন্য ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সেবন করতে হয় তিন মাস। এ ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা দরকার। প্রসব পরবর্তী ছয় মাস ভারী ব্যায়াম বা ভারী কাজ না করাই ভালো। তবে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শেখানো কিছু নিরাপদ ব্যায়াম করা যেতে পারে ফিটনেস ফিরে পেতে। এমন সময় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, হেলথ লাইন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App