×

ফ্যাশন

সুস্থ থাকা ঠেকায় কে

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুস্থ থাকা ঠেকায় কে
আমরা সবাই চাই যেন বয়সের ছাপ না পড়ে শরীরে, এজন্য থাকতে হবে শারীরিক ভাবে ফিট। তবে সুস্থ থাকার গুরুত্ব যে কতখানি, তা কেবল অসুস্থ হলেই টের পাওয়া যায়। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকবে না। তাই শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য সচেষ্ট হতে হবে আপনাকেই। আর তার জন্য বাড়তি কিছু করার দরকার নেই। প্রতিদিনের কাজগুলো একটু নিয়ম মেনে করলেই আপনার সুস্থ থাকা ঠেকায় কে! সাদিকুর রহমান সাকিব ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। অর্থাৎ, সকালই বলে দেয় পুরো দিনটা কেমন যাবে। শুরুটা সুন্দর মানেই হলো সুস্থ থাকার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া, যা আমাদের রাখবে তারুণ্যে ভরপুর। সচেতনভাবেই হোক অথবা নিজের অজান্তে সবারই দিন শুরু করার কিছু নিজস্ব কায়দা বা অভ্যাস থাকে। সেটা হতে পারে ফোন স্ক্রল করার মতো অস্বাস্থ্যকর কোনো কিছু। আবার ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, হাঁটার মতো ভালো কোনো অভ্যাস। রোজ সকালে স্বাস্থ্যকর কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে তারুণ্য অনেকটা ধরে রাখা সম্ভব বলে লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। রাত না জাগা সকালে ভোর ৬ টার পর পরই ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করা উচিত। এতে করে সকালের আলো দেহে ভিটামিন ডি তৈরি করে এবং বাতাস মস্তিষ্ক ও চোখকে সতেজ রাখে। অনেকেরই খারাপ অভ্যাস হচ্ছে, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয় না, যদি রাতে সময়মতো ঘুমানো যায়। ত্বককে বয়সের ছাপ থেকে বাঁচাতে ও মস্তিষ্ককে সচল রাখতে ছয় থেকে আট ঘণ্টার নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের অভ্যাস খুবই জরুরি। তা ছাড়া ভোরের নির্মল বাতাস ফুসফুসের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনকেও তৃপ্ত করে। বেলা করে ঘুম থেকে উঠলে কম সময় পাওয়া যায় কাজ করার। নিয়ম করে সকালের খাবার সকালের খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেহের সুস্থতার জন্য। সকালে ২/৩ গøাস পানি পান করা উচিত। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যারা ওজন কমাতে চান, তারা না জেনেই যে ভুলটি করেন তা হলো, সকালে না খেয়ে থাকা। এতে লাভের বদল ক্ষতিই বেশি হয়। ডায়েটেশিয়ানরা বলে থাকেন, সকালেই খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার, যা থেকে সারা দিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যাবে। তাই সকালের নাশতায় মনোযোগী হওয়া উচিত। মুখ ধুয়েই পানি পান সকালে মুখ ধুয়েই এক থেকে দুই গøাস পানি পান করলে সহজে কোন পেটের রোগও হয় না। বলা হয়ে থাকে আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশই জলীয় অংশ। তাই কোষগুলোকে সতেজ রাখতেও প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানি। রাতে যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, আমাদের শরীর ছয় থেকে আট ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ সময় পানি পায় না। তাই ঘুম ভাঙার পরপরই শরীরের রিহাইড্রেশনের জন্য উচিত এক গøাস পানি পান করা। কারণ, শরীর পানিশূন্য থাকলে ক্লান্ত লাগে সারা দিন। ডায়েটেশিয়ানরাও ব্যাপারটিতে জোর দিতে বলেন। চা, কফি বা অন্যান্য নাশতা খাওয়ার আগে এক গøাস পানি নিয়মিত পান করে হজমের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সকালে হাঁটা সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম, হাটাহাটি ও জগিং এর অভ্যাস করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। দেহ থাকে সুস্থ। হাঁটার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, ‘বাঁচতে হলে হাঁটতে হবে।’ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খোলা বাতাসে হাঁটলে শরীর ও মন দুটিই ভালো থাকে। হাঁটার অভ্যাস শরীরের কোষগুলোকে সচল রাখে, সজীব করে। কারণ, তখন প্রতিটি কোষে বিশুদ্ধ রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায়। উপকারী কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় হাঁটা। সপ্তাহে প্রতিদিন আলো-বাতাসযুক্ত জায়গায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরের বাড়তি মেদ কমে। কার্যতালিকা তৈরি দুপুরে খাবার সময় ১ টা এবং রাতে খাবার সময় ৮ টার আগে হওয়া উচিত। কারণ দুপুরে দেরি করে খেলে আপনার খাওয়া বেশি হবে ফলে আপনার ওজন বাড়বে এবং বেশি রাতে খাবার খেলে খাবার ঠিকমত হজম হওয়ার সময় পাওয়া যায় না যা আপনার রাতের ঘুমও নষ্ট করে দেবে। রাতে খাওয়ার অন্তত এক ঘন্টা পরে ঘুমাতে যওয়া উচিত। পাশাপাশি সকালে উঠেই ঠিক করে ফেলতে হবে সারা দিনের কাজগুলো। সামনে কাজের তালিকা থাকলে কাজ করার তাগিদ বেড়ে যায় বহুগুণ। এ সবকিছুকে ধীরে ধীরে রপ্ত করে ফেললেই কিছুদিন পর আর তাগিদ দিয়ে কিছু করতে হবে না, সবই পরিণত হবে অভ্যাসে। গরম চা খালি পেটে চা/কফি পান করবেন না একেবারেই। ভারী নাস্তার শেষে চা/কফি পান করুন। তবে চিনি ও দুধ ছাড়া গ্রিন টি, ব্ল্যাক টিসহ বিভিন্ন হারবাল টি শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে দিনের দারুণ শুরুতে সাহায্য করে। নেদারল্যান্ডসে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের ধমনি, যারা পান করেন না তাদের তুলনায় কোলেস্টেরলমুক্ত থাকে। চায়ে বিদ্যমান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। চায়ে থাকা পনিফেনল নামের উপাদান ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। তা ছাড়া এক কাপ গরম চা সকালবেলা মনকে ফুরফুরে করে তোলে। তবে খালি পেটে চা পান করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অবশ্যই সকালের নাশতা শেষে আধা ঘণ্টা পর চা খাওয়া উচিত। সঠিকভাবে পানি পান কড়া রোদ থেকে এসেই পানি পান করা উচিৎ নয়। এতে আমাদের দেহ হুট করে নিজের অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে পারে না যার ফলে দেহের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং কড়া রোদ থেকে এসে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে পানি পান করা ভালো। এছাড়া খাবার খাওয়ার মাঝে কখনোই পানি পান করবেন না। খাবার খাওয়ার পূর্বে পানি পান করে নিন। এতে খাবার কম খাবেন যা দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করবে। খাওয়ার মাঝে পানি পান করলে পরিপাকক্রিয়াতে বাঁধা আসে এবং হজমে সমস্যা হয়। খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করবেন। প্রচ্ছদ মডেল : মেহজাবীন চৌধুরী

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App