×

মেলা

টেলিভিশনের প্রিয় মুখ যখন সিনেমার খলঅভিনেতা

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টেলিভিশনের প্রিয় মুখ যখন  সিনেমার খলঅভিনেতা

ছিলেন ছোটপর্দার দর্শকের কাছে জনপ্রিয়। একসময় তাদের ডাক আসে বড়পর্দা থেকে। এখানকার দর্শকদেরও তৃপ্ত করেন তারা। তবে টেলিভিশনের প্রিয় মুখগুলো চলচ্চিত্রে গিয়ে বনে যান পুরোপুরি খলঅভিনেতা। এই অভিনেতাদের সিংহভাগই ভিলেন চরিত্রে দাপুটে অভিনয় করে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। হুমায়ুন ফরীদি থেকে ইরেশ যাকের, তালিকাটা মোটেও ছোট নয়। জানাচ্ছেন মেলা প্রতিবেদক

হুমায়ুন ফরীদি

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ভিলেন। কিন্তু সরাসরি চলচ্চিত্রে তাকে দেখতে পাননি দর্শকরা। টেলিভিশনেই দর্শকদের হৃদয়-হরণ করেছিলেন অভিনয়ের এক সশস্ত্র যোদ্ধা হুমায়ুন ফরীদি। ছোটপর্দায়ও তার জন্মস্থল নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মঞ্চে তার পদচারণা। ‘সন্ত্রাস’ ছবিতে তার অভিনীত ভিলেনের চরিত্র জনপ্রিয় হওয়ার আগেই হুমায়ুন ফরীদি জনপ্রিয়তার স্বাদ পেয়েছেন।

রাইসুল ইসলাম আসাদ

‘কুবের মাঝি’ কিন্তু শুরুতেই প্রধান চরিত্রের অভিনেতা ছিলেন না। ভিলেনের চরিত্র করে করেই তাকে গৌতম ঘোষ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন টেলিভিশনের একজন শক্তিমান অভিনেতা। তারও আগে তিনি ছিলেন মঞ্চের ত্রাস। ‘আয়না বিবির পালা’সহ বেশকিছু ছবিতে মন্দলোকের চরিত্রে তিনি তার অভিনয় সামর্থ্যরে অনেকটাই ঢেলে দিয়েছেন।

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

আসাদ, ফরীদির সমসাময়িক হলেও পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় চলচ্চিত্রে এসেছেন দুই সহকর্মীর অনেক পরে। নব্বই দশকের শেষের দিকে তিনি ‘শিল্পী’ ছবিতে ভিলেনের চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। খুব বেশি মন্দলোকের চরিত্রে পীযূষ অভিনয় করেননি। যেগুলো করেছেন, তাতে নজর কেড়েছেন। পীযূষও চলচ্চিত্রে নিজেকে ঝালানোর আগে মঞ্চ ও টিভির আঙিনা পেরিয়ে এসেছেন।

জহিরউদ্দিন পিয়ার

ছোটপর্দায় তার অভিনয় দেখে দর্শকরা শিহরিত হতেন। এই শিহরণ একসময় সঞ্চারিত হলো বড়পর্দার দর্শকদের ভেতরেও। নব্বই দশকের মাঝামাঝি জহিরউদ্দিন পিয়ার দুর্ধর্ষ ভিলেন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার ছবির সংখ্যা অগণিত নয়। কাজ করেছেন বেছে বেছেই। এসব কাজ দর্শকদের নজর এড়িয়ে থাকতে পারেনি। জহিরউদ্দিন পিয়ার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়।

তারিক আনাম খান

আশির দশকেই ভিলেনের খাতায় নাম উঠে যেতে পারত তারিক আনাম খানের। মঞ্চ থেকে টিভি, সর্বত্র ছিল তার সরব উপস্থিতি। তিনি এই দুটো মাধ্যমেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। টেলিভিশনের একটি সিরিজে ভিলেনের চরিত্রে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি অনিবার্য হয়ে ওঠে। ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ থেকে তারিক আনামের চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়।

আফজাল শরীফ

মূলত কৌতুকাভিনেতা হলেও চলচ্চিত্রে তার সূচনা ভিলেন হিসেবেই। ‘স্বার্থপর’সহ কয়েকটি ছবি করার পর আফজাল শরীফ তার নিজের চেনা রাস্তায় ফিরে আসেন। দর্শকদের ভয় দেখানোর বদলে হাসাতে শুরু করেন। অন্যদের মতো আফজালও আশির দশকে পরিচিতি অর্জন করেন টিভি ধারাবাহিক থেকে। তার অভিনীত ‘মোবারক’ চরিত্রটি দর্শকদের মনে ধরেছিল। সেখান থেকে তিনি লাফ দেন চলচ্চিত্রে।

মামুনুর রশীদ

থিয়েটার ও টেলিভিশনের প্রভাবশালী অভিনেতা মামুনুর রশীদ চলচ্চিত্রে আসেন অনেক বয়স খরচের পর। তবে ভিলেনের তালিকায় নাম তুলতে যত দেরি, প্রশংসা পেতে তার দেরি হয়নি অন্যান্য মাধ্যমের মতোই। ‘মনপুরা’, ‘মৃত্তিকা মায়া’র মতো অল্পকিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ। কাজের সংখ্যা স্বল্প হলেও সমালোচকরা তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন অল্পতেই।

শহীদুজ্জামান সেলিম

ছোটপর্দায় তাকে বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন দর্শকরা। বড়পর্দার দর্শকরা পরে তার অভিনয়ের ক্ষমতা দারুণভাবেই টের পেয়েছেন। শহীদুজ্জামান সেলিমের ‘চোরাবালি’ ছবিতে কাজ করার কথা ছিল না। ভয়ংকর এক গডফাদারের চরিত্রে তিনি চলে এসেছিলেন দায়ে পড়েই। অথচ এই চরিত্রই তাকে মন্দলোকের শ্রেষ্ঠত্ব এনে দেয়। এখন তিনি নির্মাতাদের নির্ভরযোগ্য ভিলেন।

শতাব্দী ওয়াদুদ

স্যাটেলাইটের দর্শকদের কাছে শতাব্দী ওয়াদুদ ছিলেন একজন চাহিদাসম্পন্ন অভিনেতা। আর এমন অভিনেতারাই বছরের বছর চলচ্চিত্রে গিয়ে ভিলেনের দায়িত্বটি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘গেরিলা’য় অন্যরকমভাবে শতাব্দী নিজেকে উপস্থাপন করেন। সমালোচকরা তাকে কাছে টেনে নেন।

শহীদুল আলম সাচ্চু

নব্বই দশকে বোকা বাক্সে এক তুখোড় অভিনেতার বিচরণ শুরু হয়। সেই অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু পূর্বসূরিদের পথ ধরে পা রাখেন রুপালি পর্দায়ও। মন্দলোকের চরিত্রে তিনি নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণ করতে সক্ষম হোন ‘চারিদিকে শত্রæ’র মতো বেশকিছু বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক ছবিতে। তিনি সঠিক সময়ে চলচ্চিত্রে এসেছেন। তার আরো ব্যস্ততা প্রত্যাশিত ছিল।

ইরেশ যাকের

বাবা আলী যাকের ভিন্নধর্মী মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে রাজাকারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রক্তে অভিনয় নিয়ে টেলিভিশনে আবির্ভূত ইরেশ যাকেরও চলচ্চিত্রে মন্দলোকের চরিত্রে অভিনয়ের হাতছানি থেকে দূরে থাকতে পারেননি। ‘ছুঁয়ে দিলে মনে’ অভিষেক হওয়া তরুণ ভিলেন ইরেশ যাকেরকে গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’সহ আরো কয়েকটি ছবিতে দুষ্টুলোকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App