×

মেলা

সংসদে যেতে সায়নীর প্রস্তুতি

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদে যেতে সায়নীর প্রস্তুতি

লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন থেকে সংসদীয় রাজনীতি। যাদবপুর দেখছে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিমি চক্রবর্তী পা রেখেছিলেন সংসদ ভবনে, সঙ্গী ছিলেন বন্ধু নুসরাত জাহান। সে দিন তাদের পোশাক ঘিরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। এবার সায়নী ঘোষ যাবেন একেবারে সাবেক পোশাকে। পরবেন সাদা শাড়ি সঙ্গে হাওয়াই চপ্পল। বাংলার তৃণমূল সংসদ সদস্য হিসেবে এর থেকে ‘আইকনিক’ আর কী-ই বা হতে পারে! বলা যায়, রীতিমতো ভাবনাচিন্তা করেই পদক্ষেপ করছেন নতুন সংসদ সদস্য। গত মঙ্গলবার ভোট গণনার দিন সময় যত গড়িয়েছে, লাফিয়ে বেড়েছে তার জয়ের ব্যবধান। একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তায় বানভাসি মুঠোফোন। আক্ষেপ রয়েছে একটি বিষয়ে, ‘আজ যদি আমার মা আর দাদা থাকত!’ মাত্র ৩১ বছর বয়সেই লোকসভার সংসদ সদস্য, আপাতত জয়ের ঘোরে আচ্ছন্ন তিনি। গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জানেন, জেতার পর খুব মাকে মনে পড়ছিল। মনে হলো, মা একাই বোধহয় ৫০ হাজার ভোট দিয়ে দিয়েছে। তাই এই ফলাফল। নইলে এতটাও আশা করিনি!’

জয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশার চাপও ঘিরে ধরছে তাকে। প্রথমবার প্রার্থী হয়েই আড়াই লাখের ব্যবধানে জিতেছেন। প্রথম থেকেই রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়া সায়নী ভেবে ফেলেছেন পরবর্তী নির্বাচনের কথা। আগামীবার জয়ের ব্যবধান পাঁচ লাখে তুলে নিয়ে যেতে হবে এটাই তার টার্গেট।

তার বাবা রেজাল্ট বের হওয়ার পর একটু থমকে গিয়েছিলেন। তার পর খুব খুশি। অভিনেত্রী থেকে তার যুবনেত্রী হয়ে ওঠার বিষয়টা সহজেই মেনে নিয়েছিলেন। মেয়ে বক্তব্য রাখছে, তিনি দেখেছেন। তবে মাঝখানে কিছুটা সময় অন্ধকার। জেলবন্দি থাকা বা ইডির তলব- সেই সময় তার মা-বাবার মনে হয়েছিল, মেয়ে কোনো ভুল করছেন না তো! বুধবার সেই মেয়েই আচমকা এমন উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন জেনে খুব খুশি সায়নীর বাবা। তবে প্রাথমিকভাবে ধাতস্থ হতে একটু সময় নিয়েছেন।

এদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একটা মুহূর্তও নষ্ট করতে চান না তিনি। বুধবার দুপুরে তিনি বারুইপুর (পূর্ব) এলাকায় যান। সেখানকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে সেরে যান সোনারপুর (উত্তর)-এ। সেখানেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। সন্ধ্যায় পা রাখেন নির্বাচনী এলাকা যাদবপুরে। কাউন্সিলরদের নিয়ে পূজা দেন স্থানীয় এক মন্দিরে। সংলগ্ন বাজারে গিয়ে সেরে নেন জনসংযোগ।

জনসংযোগ, বৈঠকের পাশাপাশি সংসদ ভবনে পা রাখার প্রস্তুতিও জোর কদমে শুরু করে দিয়েছেন সায়নী। ওখানেও গায়ে কি সাদা শাড়ির আঁচল জড়িয়ে, পায়ে সাদা চপ্পল পরেই যাবেন? সায়নীর বিনীত জবাব, ‘হ্যাঁ, ওভাবেই যাব। সবার বক্তব্য শুনব। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা করব। বাংলার যখন যা প্রয়োজন তাই নিয়ে কথা বলব। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করব। আমি তো কোনোদিনই ভয় পাইনি।’

পরিচালক রাজ চক্রবর্তী সায়নীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। নতুন সংসদ সদস্যও তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি।

জানিয়েছেন, রাজ তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হাতে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই আজ তিনি এই উচ্চতায়। আগামী দিনে কি তা হলে শুধু রাজের ছবিতেই দেখা যাবে সায়নীকে? ‘একেবারেই না’, দাবি তার। জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির অনেক পরিচালক তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা তাকে নিয়ে ছবি করার বিষয়ে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তাই অভিনয়েও সায়নীকে দেখা যাবে। আগের মতো রিল বানাবেন, নতুন ভøগও আনতে চলেছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে? এবার ঝটতি জবাব, ‘বাবা আর প্রিয় পোষ্যকে নিয়েই সংসার আমার। মন দিয়ে কাজ করতে গেলে এটুকুই যথেষ্ট। বিয়ে করলে মনঃসংযোগ নষ্ট হতেই পারে। আমার মুখ চেয়ে বসে আছেন এত মানুষ। আগে তাদের সামলে নিই।’

- মেলা ডেস্ক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App