×

মেলা

রবিঠাকুরের গল্পে সত্যজিতের চার কন্যা

Icon

মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রবিঠাকুরের গল্পে সত্যজিতের চার কন্যা
কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকী ছিল গত ২ মে, অন্যদিকে ২৫ বৈশাখ, ৮ মে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো। পরিচালনার বর্ণিল ক্যারিয়ারে অনেক ঔপন্যাসিকের গল্প-উপন্যাসেই কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়। তবে সব সময়ই তার একটা বিশেষ দুর্বলতা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মে। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় রবিঠাকুরের তিন ছোটগল্প সমাপ্তি, পোস্টমাস্টার ও মণিহারা নিয়ে একত্রে নির্মাণ করেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তিন কন্যা’। তার তিন বছর পর ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় নষ্টনীড় গল্প অবলম্বনে নির্মিত ছবি ‘চারুলতা’। যেখানে একজন নিঃসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে। সত্যজিতের জন্মদিনের এই বিশেষ প্রহরে তিন কন্যা আর চারুলতার এক কন্যা মিলে এই চার কন্যার গল্প শোনা যাক তনি কন্যা (১৯৬১) ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে শততম জন্মর্বাষকিী উপলক্ষে মুক্তি পায় সত্যজৎি রায় পরচিালতি ‘তনি কন্যা’। চলচ্চত্রিটি মূলত রবীন্দ্রনাথরে তনিটি ছোট গল্প পোস্টমাস্টার, মণহিারা ও সমাপ্তি থকেে করা তনিটি চলচ্চত্রিরে সংকলন। প্রতটিি গল্পরে তনিটি প্রধান চরত্রিই নারী বা কন্যা। এই তনি নারী চরত্রিকে বোঝাতে চলচ্চত্রিটরি নাম দয়ো হয়ছেে তনি কন্যা। প্রথম গল্প পোস্টমাস্টার-এ কন্যার বয়স ৮-৯ বছর। দ্বতিীয় গল্প মণহিারাতে কন্যা ববিাহতিা, তার বয়স ২০-২৫। আর তৃতীয় গল্প সমাপ্ততিে কন্যা ষোড়শী। প্রথম গল্প পোস্টমাস্টারে আমরা দখেতে পাই শহুরে পরবিশেে বড় হওয়া পোস্টমাস্টার নন্দলালক,ে যাকে চাকররি খাতরিে আসতে হয় এক অজপাড়াগাঁয়।ে তার জন্য কাজ করে ১২ বছররে এক কশিোরী, যার নাম রতন। পোস্টমাস্টার মূলত এই দুই চরত্রিরে মনস্তাত্ত্বকি সর্ম্পকরে গল্প। নন্দলাল বশে কছিুদনি সইে পোস্ট অফসিে কাজ করার দরুন রতনকে তার নজিরে ছোট বোনটরি মতো ভাবতে শুরু কর।ে রতনকে পড়ালখোও শখোয় স।ে নজিরে ভয়াবহ অসুখ তার সময় রতন তাকে দনিরাত সবো করে সারয়িে তোল।ে কন্তিু নন্দলাল যখন চাকরি ছড়েে সখোন থকেে চলে যাওয়ার সদ্ধিান্ত নয়ে, যাওয়ার সময় অভমিানে রতন তার সঙ্গে কথা বলা দূরে থাক, ফরিওে তাকায় না! এই ছবতিে অভনিয় করছেনে চন্দনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনলি চট্টোপাধ্যায়, নৃপতি চট্টোপাধ্যায়। অন্যদকি,ে মণহিারা গল্পটি অনকেটা রহস্য ও ভৌতকিতার আবশে তরৈি করে র্দশকমন।ে ছবতিে গহনার লোভে চত্তিবকিারগ্রস্ত কন্যা মণমিালকিার ভূমকিায় অভনিয় করনে কণকিা মজুমদার আর তার স্বামী জমদিার ফণীভূষণ সাহার ভূমকিায় অভনিয় করনে কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবরি কাহনিতিে দখো যায়, সোনার গহনাতে আসক্ত জমদিার ফণীভূষণরে স্ত্রী মণমিালকিা। সন্তান না হওয়ার পরবিাররে লোকজনরে নানা কটুকথা শুনে সবার কাছ থকেে দূরে চলে আসে তারা। ওদকিে তাদরে খােঁজ পয়েে ছুটে আসে মণমিালকিার পুরনো প্রমেকি ও দূর সর্ম্পকরে ভাই মধুসূদন ছোট একটা চাকররি খােঁজ।ে জমদিাররে গুদামে লাগে আগুন, সবকছিু পুড়ে হয় ছাই, প্রয়োজন হয় প্রচুর র্অথরে। সে র্অথরে জোগাড় করতে মণমিালকিাকে একা রখেে শহরে যায় জমদিার। ওদকিে মণমিালকিা, লোভী মধুসূদনকে নয়িে সব গহনাসহ পালয়িে যায়। জমদিার ফরিে এসে মণমিালকিার কোনো খােঁজ পায় না। এরপর জমদিার স্ত্রীর শোকে কাতর হয়ে পাগল হয়ে যায়। ছবটিকিে ভূতরে ছবরি তকমাও পুরোপুরভিাবে দয়ো যায় না। কারণ এতে কতকটা রহস্য আর নারী মনরে নতুন একটা দকিও উঠে এসছে।ে ছবরি শষোংশে সোনার কঙ্কণ পরা কঙ্কালরে হাত ফণীভূষণরে পাশে রাখা গহনার দকিে নাটকীয়ভাবে এগয়িে এলে সটেি ত্রাসরে সঞ্চার কর।ে কন্তিু এতে রহস্য উন্মোচন হয় না পুরোপুর-ি মণমিালকিা আদৌ বঁেচে আছে কনিা! র্সবশষে গল্প সমাপ্ততিে অভনিয় করছেনে সৌমত্রি চট্টোপাধ্যায়, অর্পণা সনে। ব্লাউজ ছাড়া শাড়,ি নাকে ফুল আর জবজবে তলে বাঁধা চুল; ডানপটিে দস্যি ময়েে মৃন্ময়ীর চরত্রিে অর্পণা সনেরে অনবদ্য অভনিয় এখনো চোখে লগেে আছ।ে সারাদনি গাছে ঝুলে দস্যপিনা করা, গহনা গায়ে বাসর ঘর থকেে পালয়িে যাওয়া, পোষা কাঠবড়িালরি সঙ্গে তার ছলেমোনুষী খলো, ছবরি শুরুর দৃশ্যে পালতোলা নৌকা, গ্রামরে র্কদমাক্ত মঠেোপথ- এসবই যনে আবহমান বাংলাকে ফুটয়িে তোল।ে উল্লখ্যে, তনি কন্যা থকেে সত্যজৎি তার চলচ্চত্রিরে সংগীত নজিইে রচনা করতনে। ছবটিি বস্টে ফচিার ফল্মিরে ন্যাশনাল অ্যাওর্য়াড পায়। এছাড়া শ্রষ্ঠে চলচ্চত্রিরে খতোব জতেে মলের্বোন ও র্বালনি আর্ন্তজাতকি চলচ্চত্রি উৎসব।ে চারুলতা (১৯৬৪) ১৯০১ সালে রবঠিাকুর তার ছোটগল্প নষ্টনীড় লখেনে। এটি তার রচতি শ্রষ্ঠে ছোট গল্পগুলোর মধ্যে একটি বলে ববিচেতি। কথতি আছ,ে এই গল্পটি রচতি হয় রবীন্দ্রনাথরে বড় ভাই জ্যোতরিন্দ্রিনাথ ঠাকুর, তার স্ত্রী কদম্বরী দবেী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররে মধ্যকার সর্ম্পকরে ওপর নর্ভির কর।ে এই উপন্যাসরে গল্প তনিটি কন্দ্রেীয় চরত্রি চারু, অমল ও ভূপতকিে নয়িে গড়ে উঠছে।ে ১৯৬৮ সালে মুক্তপ্রিাপ্ত সত্যজৎি রায়রে নর্মিতি ছবি চারু, অমল ও ভূপতরি চরত্রিে সৌমত্রি চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং শলৈনে মুখোপাধ্যায় অভনিয় করছেলিনে। চত্রিায়ণরে খাতরিে মূল গল্পরে কাহনিি থকেে ছবরি গল্পরে কাহনিি কতটা পরর্বিতন করা হয়ছে।ে চলচ্চত্রিটরি কাহনিতিে দখো যায়, উচ্চবত্তি এক বাঙালি পরবিাররে বড়র্কতা ভূপতি তৎকালীন রাজনতৈকি চন্তিায় মগ্ন ও অনুপ্রাণতি হয়ে নজি বাড়তিইে একটি ইংরজেি পত্রকিা প্রকাশ করনে, যার নাম দনে ‘সন্টেনিলে’। পত্রকিার কাজে তনিি দনিরাত এক করে খাটনে, কন্তিু ওদকিে তার ব্যস্ততা সদ্য যৌবনে পর্দাপণকারী স্ত্রী চারুলতার প্রতি সময় না দয়ো কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রী চারুর সময় কাটে নঃিসঙ্গতায়। চারুর ভাই উমাপদ তার স্ত্রী মন্দাকনিীসহ তাদরে বাড়তিে এসে উঠলওে তাতে নঃিসঙ্গতা কাটে না চারুর। এক সময় তাদরে পরবিারে আগমন ঘটে ভূপতরি পসিতুতো ভাই অমলরে। চারুলতা আর অমলরে দুজনইে আগে থকেে বশে ঘনষ্ঠিতা ছলি, তবে সটেি বৌঠান-ঠাকুরপোর স্বাভাবকিতায় সীমাবদ্ধ। আস্তে আস্তে সময়রে ব্যবধানে প্রতীয়মান হয় চারুর সঙ্গে অমলরে সর্ম্পক তখন আর কবেল বৌঠান-ঠাকুরপোর নয়, এর মধ্যে অন্য কছিুও রয়ছে।ে এরপর অমলরে বয়িরে প্রস্তাব আসে র্বধমান থকে।ে নজিরে প্রতি চারুর র্দুবল হওয়ার ব্যাপারটি আঁচ করতে পরেে অমল সদ্ধিান্ত নয়ে দাদার বশ্বিাসরে র্মযাদা রাখতে তাকে এ বাড়ি থকেে সরে পড়তে হব।ে কন্তিু চারুর ভাই উমাপদ বশ্বিাসঘাতকতা করে তাদরে পত্রকিার টাকা মরেে দয়িে সে সস্ত্রীক বাড়ি থকেে সটকে পড়।ে এই অবস্থায় ভঙেে পড়ে ভূপত,ি আর সে অমলকে বাড়ি ছড়েে না যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কন্তিু অমল সে রাতইে দাদার উদ্দশেে একটা ছোট চঠিি রখেে বাড়ি ছড়েে পালায়। পত্রকিা প্রকাশরে ভ্রম কাটলে স্ত্রীর দকিে মনোযোগী হয় ভূপত।ি কন্তিু মনরে মধ্যে এখনো অমলরে প্রতি অনুরাগ কমে না চারুর। ছবরি শষেে অমলরে চঠিি পয়েে চারু জানতে পারে অমল বয়িে করে ফলেছে শগিগরিই। এ খবর জানার পর কান্নায় ভঙেে পড়ে চারু, যা দখেে ফলেে ভূপত।ি ভাইয়রে সঙ্গে তার স্ত্রীর সর্ম্পক বড় রকমরে অশান্ততিে ফলেে দয়ে ভূপতকি।ে সইে দনিটতিইে যে চারু আর ভূপতরি নীড়টা ভঙেে গছেে সইে রশে নয়িে ছবি শষে হয়। চলচ্চত্রিটতিে যে বাড়তিে শুটংি হয়, সটেি মূলত মাটি থকেে তনি-চার তলা উঁচু হতে নর্মিতি এক তলা একটি সটে, যটেি নর্মিাণ করছেলিনে বংশী চক্রর্বতী। দোতলার আদল দখোনোর জন্য বাড়রি বারান্দা থকেে কোনো হাই এঙ্গলে শটরে ব্যবহার করনেনি ছবটিরি চত্রিগ্রাহক সুব্রত মত্রি। ওদকিে পান খাওয়ার অভ্যাসরে কারণে মাধবী মুর্খাজকিে অভনিয়ে নতিে গয়িে খানকিটা ঝামলোয় পড়তে হয়ছেলি সে সময়। পান খাওয়ার বদ অভ্যাসরে ফলে দাঁতে প্রায় স্থায়ী দাগ হয়ে যাওয়ায় চত্রিগ্রাহক ডায়লগরে সময় আই লভেলেরে চয়েে কছিুটা উঁচু থকেে শট নয়িছেলিনে। দশেরে বাইরে চারুলতা নয়িে বাহবা পলেওে নজি দশেে ছবটিরি চত্রিনাট্য নয়িে বর্তিকরে মুখে পড়ছেলিনে সত্যজৎি। বশেকছিু চত্রি সমালোচক ছবটিকিে ‘নষ্টনীড়’ এর মূলানুগ না হওয়ায় অভযিোগরে আঙুল তোলনে। কন্তিু সত্যজৎি এসব সমালোচকদরে কড়া জবাব দতিে একবন্দিু ভাবনেন।ি কশিোর কুমাররে কণ্ঠে গাওয়া ছবটিরি গান ‘আমি চনিগিো চনি’ি আজো র্দশকমনকে শীতল কর।ে চারুলতা চলচ্চত্রিরে শুটংি চলাকালীন সত্যজৎি রায় ও ছবরি নায়কিা মাধবী মুখোপাধ্যায় দুজনইে ববিাহতি ছলিনে। সত্যজতিরে স্ত্রী ছলিনে বজিয়া রায় আর মাধবীর স্বামী অভনিতো নর্মিল কুমার। সে সময়রে চলচ্চত্রি অঙ্গনে গুজব উঠছেলি একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে প্রমেরে সর্ম্পকে জড়য়িে গয়িছেলিনে সত্যজৎি আর মাধবী। ঘটনাটরি সত্যতা পাওয়া যায়, ২০০৪ সালে প্রকাশতি সত্যজতিরে স্ত্রী বজিয়া রায়রে আত্মজীবনীমূলক ‘আমাদরে কথা’ বইটতি।ে অবশ্য নর্মিল কুমাররে সঙ্গওে সংসার টকিনেি মাধবী মুর্খাজরি। কন্তিু সত্যজৎি সব ভুলে আবারো ফরিছেলিনে বজিয়া রায়রে সঙ্গে সংসার।ে বাস্তবে তাদরে নীড়টি আর নষ্ট হয়ন।ি এই চলচ্চত্রিটি ১৯৬৪ সালে র্বালনি চলচ্চত্রি উৎসবে প্রর্দশতি হয় এবং সখোন থকেে সলিভার বয়োর পুরস্কার পায়। ১৯৬৫ সালে সরো চলচ্চত্রি হসিবেে ভারতরে জাতীয় চলচ্চত্রি পুরস্কাররে গোল্ডনে লোটাস পুরস্কার র্অজন করে এবং ওই একই বছর ১৯৬৫ সালে ওসআিইসি পুরস্কার পায়। নষ্টনীড় উপন্যাসকে কন্দ্রে করে ২০১১ সালে চারুলতা নামে আরকেটি চলচ্চত্রি নর্মিাণ করনে পরচিালক অগ্নদিবে চট্টোপাধ্যায়। এই ছবটিতিে চারুলতার চরত্রিে অভনিয় করছেনে ঋতুর্পণা সনেগুপ্ত। তনি কন্যা ও চারুলতা ছাড়াও সত্যজৎি রায় ১৯৮৪ সালে নর্মিাণ করনে ঘর-েবাইরে সাহত্যির্কম থকেে একই নামরে একটি চলচ্চত্রি, যখোনে অভনিয় করনে সৌমত্রি চট্টোপাধ্যায়, ভক্টির বন্দ্যোপাধ্যায়, জনেফিার কাপুর ও স্বাতীলখো সনেগুপ্ত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App