×

মেলা

প্রতিটা দিনই মায়ের ভালোবাসার

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিটা দিনই মায়ের ভালোবাসার
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ হচ্ছে মা। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোর জন্য কোনো দিবসই যথেষ্ট নয়, তবু মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সারা বিশ্ব মা দিবস হিসেবে পালন করে। মা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন শোবিজের কয়েকজন তারকা মায়ের সেক্রিফাইসকে আমাদের ধারণ করতে হবে চঞ্চল চৌধুরী আমাদের জীবনে মায়ের গুরুত্ব, স্মৃতি সবটাই জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। মা দিবসের সার্থকতা নিহিত রয়েছে মায়ের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের মধ্যে। তারা তাদের জীবন যেভাবে আমাদের মানুষ করার জন্য সেক্রিফাইস করেছেন সে শিক্ষা আমরা ধারণ করে, সামান্য হলেও যদি মায়ের পাশে থাকি তবে মা সুখী হবেন এবং মা দিবস সার্থক হবে। মা আমার অনুশীলনের কো-আর্টিস্ট তারিন আমার মা আমার জীবনের আদর্শ, আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা। আমার সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা, মাটি, দেশ- এই তিনটি বিষয় মানুষের জীবনে অবদান অনস্বীকার্য। মা শব্দটি পৃথিবীতে একটি শ্রদ্ধার শব্দ। এই পৃথিবীর আলো-বাতাস এই যে নিঃশ্বাস নিচ্ছি তা মায়ের ত্যাগের কারণেই জন্মের শুরু থেকেই নিতে পারছি। মায়ের যেমন বিকল্প হয় না, মায়ের কোনো তুলনাও হয় না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। ছোটবেলা থেকে আমার বেড়ে ওঠা, আমার শিক্ষা, আমার নৃত্যশিল্পী হয়ে ওঠা, সর্বোপরি একজন অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে আমার মায়েরই অবদান সবচেয়ে বেশি। যখন কোনো স্ক্রিপ্ট হাতে পেতাম তখন মা-ই হতেন আমার কো-আর্টিস্ট। অভিনয়ের চর্চা করতাম এভাবেই। মা নিজের ইচ্ছেগুলোকে সেক্রিফাইস করেছেন সারা জীবন ফারজানা ছবি আমার জীবনে মায়ের বড় ভূমিকা আমাকে জন্ম দেয়া। আজকে এই যে আমি অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের একটা সত্তা তৈরি করেছি এটাও আমার মায়ের তৈরি করে দেয়া। ছোটবেলায় নাচের প্র্যাকটিস করানো থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মা আমার পাশে থাকছেন। আমি যখন অভিনয় শুরু করি তখন আমার ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। তখন একটা শুটিংয়ের কস্টিউমের জন্য মা ঝড়ের মধ্যে বের হন সেটা নিয়ে আসার জন্য। শুটিং শেষে বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রয়েছি, একটা গাড়িও পাচ্ছি না- তখন আমার মা আমার পাশে ছিলেন। আমার মা কখনো তার নিজের ইচ্ছেগুলোকে প্রকাশ করেননি। আমাদের ইচ্ছে পূরণ করার জন্য তিনি নিজের ইচ্ছেগুলোকে সেক্রিফাইস করেছেন সারা জীবন। এখনো যদি মাকে কেউ শাড়ি উপহার দেন, সেটা পেয়ে মা আমাকে বলেন, এটা তোর নাটকে ব্যবহার করতে পারবি। এমনকি নাটকে ব্যবহারের আগ পর্যন্ত শাড়ির ভাঁজ খোলেন না। আজকে আমি দুই সন্তানের মা হয়েছি, আমার সন্তানকে তিনি আগলে রাখেন। শুটিংয়ে যাই, তখন মায়ের কাছেই সন্তানদের রেখে যাই। তাই আমার জীবনের সব কিছুই আমার মায়ের। মা হতে চাওয়া বা না চাওয়া নারীর স্বাধীনতা আজমেরী হক বাঁধন একজন নারীর মা হওয়ার যেমন স্বাধীনতা আছে তেমনই যে মুহূর্তে পরিবার তাকে মা হতে বলছে সে পরিপ্রেক্ষিতে তখন মা হতে চান না এ কথাটা বলারও স্বাধীনতা আছে। কিন্তু আমাদের সমাজ বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন। নারীর কোনো ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে পাত্তা দেয়া হয় না। এছাড়া আমাদের সমাজে মা হওয়ার পর নারীদের কাজ করার পরিবেশ থাকে না। কর্মক্ষেত্রে ফিডিংয়ের ব্যবস্থা নেই, ডে কেয়ার নেই। এর বাইরে মাতৃত্বকালীন যে ছুটি, সেখানে ছুটিকালীন বেতন-ভাতার যে ব্যবস্থা রয়েছে তা নারীর জন্য যথেষ্ট কিনা সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া পরিবারে একজন নারী মা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘কাজ কেন করতে হবে?’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীকে এমন একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন করা হয় না। কেন? সন্তানকে লালন-পালনের দায়িত্ব মা-বাবা উভয়ের। অন্যদিকে প্রান্তিক নারীদের প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা হয় না। যার কারণে প্রসবকালে অনেক নারী মারা যান। নারীদের জন্য প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য কাজের পরিবেশ তৈরি করা যেমন জরুরি তেমনই পরিবারগুলোকেও নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা শিখতে হবে। যখন সম্পদ এবং সন্তানের অধিকার নিয়ে মা কথা বলেন তখন সমাজ এবং আইন মায়েদের বিপরীতে দাঁড়ায়। সমাজ ও আইনের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। একই সঙ্গে মা হতে চাওয়া বা না হতে চাওয়ার ইচ্ছে এবং স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নারীর, সেটা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করি। আর তখন মা দিবস, নারী দিবস এসবের সার্থকতা পরিলক্ষিত হবে। মায়ের কষ্টটা এখন খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি পূর্ণিমা মায়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। মায়েরই মেয়ে আমি নিজেও একজন মা। তাই মায়ের কষ্টটা এখন খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। মায়ের কোনো তুলনা হয় না। না জেনে না বুঝে মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আর কখনো মাকে কষ্ট দিতে চাই না। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আজকের অবস্থানের পেছনে আম্মুর অবদানই সবচেয়ে বেশি বুবলী সত্যি বলতে কী- মা এমন একজন মানুষ প্রতিটি মানুষ তার মনের ভেতরে শ্রদ্ধার স্থানে রেখে দেন। আমরা যখন শুধু তিন বোন ছিলাম, তখন সবার ছোট বলে আম্মু আমাকে মোহাম্মদ বলে ডাকতেন। আমাকে ছেলেদের পোশাক পরিয়ে রাখতেন। কিন্তু যখন আমি একটু বড় হতে লাগলাম, যখন বুঝতে শিখেছি যে মোহাম্মদ ছেলেদের নাম তখন আমার খুব অভিমান হতো, কেন আমাকে ছেলেদের নামে ডাকা হবে। যাই হোক পরবর্তীতে আম্মু আমাকে ভুবন বলে ডাকতে শুরু করেন। সেই যে আমাকে আম্মু ভুবন বলে ডাকতে শুরু করলেন, এখনো ভুবন বলেই ডাকেন। আমার আজকের অবস্থানের পেছনে আম্মুর অবদানই সবচেয়ে বেশি। আমার আম্মু ভীষণ পরিশ্রমী জাকিয়া বারী মম আমার জীবনে আমি যা কিছুই ভালো করেছি তার সবই আমার আম্মা-আব্বার অবদান। আর যা খারাপ করেছি সবই আমার। আম্মু আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি আমার আদর্শ। আমার আম্মু একজন অধ্যাপক। একজন মানুষ এত পরিশ্রমী হয় তা আম্মুকে না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব না। আব্বু আমাদের পরিবারের স্তম্ভ। আমার অনেক কিছুই নেই হয়তো; কিন্তু আমার শিক্ষিত মা এবং শিক্ষিত একটি পরিবার আছে। ভালো মানুষ আর শিক্ষিত মানুষ পাশে থাকার মতো খুঁটি আর কিছুই নেই জীবনে। প্রতি মুহূর্তেই মায়ের ভালোবাসা উপলব্ধি করি আঁখি আলমগীর আমি খুব ভাগ্যবান একজন সন্তান। আমার সংগীত জীবনের পথচলায় আমার বাবা-মা সবসময়ই আমার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন। আমার মায়ের লেখা অনেক গান আছে। মায়ের লেখা গান নিয়ে আমার গাওয়া এবং বিশিষ্ট শিল্পী যারা গেয়েছেন সেই হিট গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করছি। এটা আমার মায়ের প্রতি, মায়ের লেখা গানের প্রতি ভালো লাগা-ভালোবাসা থেকেই করব। মায়ের কারণেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা। মা যে কতটা আগলে রেখে আদর-ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বড় করেছেন নিজের সন্তানের প্রতি সেই ভালোবাসা উপলব্ধি করি প্রতি মুহূর্তে। আম্মু আমার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে ছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী আমার জীবনে চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মু আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। অভিনয় জীবনের আজকের সাফল্যের পেছনে আম্মু আমার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে ছিলেন। যে কারণেই কিন্তু আমি আজকের মেহজাবীন হতে পেরেছি। না জেনে না বুঝে আম্মুকে কষ্ট দিয়েছি। তবে তাকে অনেক বেশি কষ্ট দিইনি আমি। তারপরও আম্মুর কাছে সরি। আম্মু প্রায়ই তার শরীরের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তখন মনে হয় নিজের শরীরটা কেটে যদি আম্মুকে দিয়ে দিতে পারতাম, তাতেও যদি আম্মু পুরোপুরি সুস্থ থাকতেন আমি শান্তি পেতাম। :: মেলা প্রতিবেদক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App