×

মেলা

মায়েরাই যে সিনেমার ‘হিরো’

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মা; একটি বর্ণের একটি শব্দ। কিন্তু এই এক বর্ণের শব্দের মর্ম বিশাল। গভীরতাও অনেক। পৃথিবীর সব আবেগ, অনুভূতি, মমতা যেন এই একটি শব্দের মধ্যেই নিহিত আছে। কালে কালে মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র। মাকে নিয়ে যত আবেগ, তা ফুটিয়ে তুলতে চলচ্চিত্র সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বিভিন্ন সময়ে মাকে নিয়ে দেশে দেশে বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। মাকে নিয়ে নির্মিত কিছু বিখ্যাত সিনেমার খোঁজ দিচ্ছে মেলা মাদার এ সিনেমাটিকে ‘হারানো চলচ্চিত্র’ হিসেবে ধরা হয়। আমেরিকান নির্বাক স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্য চলচ্চিত্র এটি। যা প্রযোজনা করেছে থানহাউসার কোম্পানি। আবেগপ্রধান এ চলচ্চিত্রে উইল অ্যালেন নামের একটি ছেলে তার সৎ বাবার ভয়ানক অত্যাচারের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। আর তার মা একটি মোমবাতি জ¦ালিয়ে রাখে ছেলের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। ২০ বছর পর উইল বাড়ি ফিরে আসে একজন প্রখ্যাত উকিল হয়ে। কিন্তু সে তার বাবা-মাকে আর খুঁজে পায় না। পরবর্তী সময়ে উইল একজন মহিলার হয়ে মামলা লড়ে, যার বিপক্ষে ছিল একটি খরিদ্দার প্রতিষ্ঠান। সেই মহিলাকে উইল মা হিসেবে চিনতে পারে এবং এভাবে তাদের পুনর্মিলন হয়। চলচ্চিত্রটির মূল অভিনয়ে ছিলেন আনা রোসমন্ড, ফ্রাঙ্ক এইচ ক্রেন ও ক্যারি এল. হ্যাসিং। এটি ১৯১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়। টু উইমেন যুদ্ধের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া এক মা-মেয়ের করুণ গল্প নিয়ে ইতালীয় নির্মাতা ভিত্তোরিও ডি সিকা নির্মাণ করেছিলেন ‘টু উইমেন’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় কুঁকড়ে যাওয়া মানবতার করুণ গাথা এ সিনেমায় তুলে এনেছিলেন তিনি। আলবার্তো মোরাভিয়ার লেখা ‘টু উইমেন’ উপন্যাস থেকে নেয়া গল্প এটি। একদিকে প্রাণ হারানোর ভয়, আর অন্যদিকে শত্রæশিবিরের লালসা থেকে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের সংগ্রাম- এর সবকিছুই উঠে এসেছে ‘টু উইমেন’ সিনেমায়। কিংবদন্তি অভিনেত্রী সোফিয়া লোরেন এই সিনেমায় মা সেসিরার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এই চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় তাকে এনে দিয়েছিল অস্কারসহ মোট ২২টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। মামা রোমা সিনেমাটি ১৯৬২ সালে মুক্তি পায়। ইতালির এই সিনেমাটি সাবেক যৌনকর্মী ও তার ১৬ বছর বয়সি ছেলের কষ্টের জীবন নিয়ে গড়ে ওঠে। সংসার চালাতে গিয়ে মাকে যৌনকর্মী হতে হয়। তারপরও ছেলেকে সে মানুষের মতো মানুষ করে। যৌনকর্মী ও মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যানা মাগনানি। টার্মস অব এনডিয়ারমেন্ট মা-মেয়ের ৩০ বছরের গল্প নিয়ে ১৯৮৩ সালে মুক্তি পায় ‘টার্মস অব এনডিয়ারমেন্ট’। যে সিনেমার গল্পে দেখা যায়- বাবাহীন এমাকে আগলে রেখে অরোরা খুঁজে ফেরে সত্যিকারের ভালোবাসা। এদিকে এমাও বড় হয়ে জড়িয়ে পড়ে জটিল এক সম্পর্কে, নিজেও অর্জন করে মাতৃত্বের স্বাদ। তাদের চারপাশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে শুরু করলেও একান্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই মা-মেয়ে দুজনেই এগিয়ে আসে একে অপরের সাহায্যে। জুনো জ্যাসন রেইটম্যানের পরিচালনায় এ চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র জুনো নামের এক কিশোরী। দুর্ঘটনাবশত গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার পর মা হওয়ার প্রবল ইচ্ছা, সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতা এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে এগিয়ে চলা জুনোর গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এ চলচ্চিত্র। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গর্ভবতী হওয়ার সমস্যাগুলোই উঠে এসেছে সিনেমাতে। কেন্দ্রীয় চরিত্র করেন এলেন পেজ। দ্য ব্লাইন্ড সাইড মার্কিন ফুটবল তারকা মাইকেল ওহার আর তার ‘মা’ লেই অ্যান টুওহির গল্প নিয়েই তৈরি সিনেমা ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’। রক্ত সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও দিশাহারা কৃষ্ণাঙ্গ এক কিশোরকে নিজের ছেলের মতো আগলে রাখা এক শ্বেতাঙ্গ নারীর এই গল্প বিখ্যাত সিনেমার তালিকায় রয়েছে। ২০০৯ সালে জন লি হ্যানক নির্মিত এই সিনেমাটিতে লেই অ্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেন স্যান্ড্রা বুলক। যা তাকে এনে দিয়েছিল সেরা অভিনেত্রীর অস্কার। মিন্ড্রেড পিয়ার্স মাইকেল কার্টিজের এই সিনেমাটি একজন গৃহিণীকে নিয়ে তৈরি যিনি একজন মা। তার স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার পরে তাকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে। বখাটে মেয়ের অতিরিক্ত খরচের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তাকে হোটেলের ওয়েট্রেদের চাকরি নিতে হয়। এরপর ধীরে ধীরে নিজের রেস্তোরাঁ গড়ে তোলেন তিনি। ছবিতে মা-মেয়ের দ্ব›দ্ব দেখানো হয়েছে। সেই সঙ্গে একজন মায়ের সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইমিটেশন অব লাইফ ডগলাস শির্কের এই সিনেমা দুই মায়ের গল্প নিয়ে। মেয়েদের সূত্রে দুজনের পরিচয়। গায়ের রং এবং সামাজিক মর্যাদার বাধা উপেক্ষা করে দুই মায়ের বন্ধুত্ব দিন দিন মজবুত হয়। অ্যালিস ডাজেন্ট লিভ হিয়ার এনিমোর মার্টিন স্করসিসের এই সিনেমাটির গল্প সদ্য বিধবা হওয়া এক নারীকে নিয়ে, যার ছেলে গায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চায়। এটি স্করসিসের একমাত্র নারীকেন্দ্রিক সিনেমা। গ্রে গার্ডেন্স বয়স্ক মা এবং মধ্যবয়সি মেয়ের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। গ্রে গার্ডেনের একটি জরাজীর্ণ বাড়িতে থাকেন তারা। মাম্মি ডিয়ারেস্ট মিল্ড্রেড পিয়ার্স ছবিতে মমতাময় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে অস্কার জিতেছিলেন মার্কিন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী জোন ক্রফোর্ড। কিন্তু বাস্তব জীবনে দত্তক নেয়া সন্তান ক্রিস্টিনা ও ক্রিস্টফারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল রুক্ষ। ক্রফোর্ড তাদের দুজনকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। ক্রফোর্ডের মৃত্যুর পর ক্রিস্টিনা মাম্মি ডিয়ারেস্ট (১৯৭৮) শিরোনামে একটি স্মৃতিকথা লেখেন। এই স্মৃতিকথা অবলম্বেই তৈরি হয়েছে ‘মাম্মি ডিয়ারেস্ট’ সিনেমাটি। ইভস বেয়ু বাবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানার পর মেয়ের মনের ওপর সেটার প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। স্যাভেজ গ্রেস ১৯৭২ সালের নভেম্বরে লন্ডনের এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে খুন হয়েছিলেন বারবারা ডালি বাইকেল্যান্ড। খুনের সেই ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। মাম্মি এক বিধবা নারীর গল্প দেখানো হয়েছে সিনেমায়, যিনি একজন অবাধ্য ছেলের মা। রহস্যময় এক প্রতিবেশীর কারণে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দ্য সেকেন্ড মাদার স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে থাকেন। স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে জন্ম নেয়া মেয়ে একদিন সেই নারীর কাছে আসেন। হঠাৎ করেই সব বাধা অদৃশ্য হয়ে যায়। তিনি হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় মা। হাজার চৌরাসি কা মা নকশালবাড়ি আন্দোলনে ছেলে হারানো এক মায়ের মর্মস্পর্শী গল্প নিয়ে নির্মিত ‘হাজার চৌরাসি কা মা’। মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ উপন্যাস অবলম্বনে এটি নির্মিত। সেই গল্প থেকেই ভারতে ১৯৯৮ সালে নির্মিত হয় ‘হাজার চৌরাসি কা মা’। প্রায় ১৮ বছর পর সেলুলয়েডের জগতে ফিরে শোকাহত সেই মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন জয়া বচ্চন। উত্তর ফাল্গুনী নির্মাতা অসিত রায়ের সিনেমা ‘উত্তর ফাল্গুনী’। শ্রেণিবৈষম্য এবং সংগ্রামের এক করুণ চলচ্চিত্র এটি। এই সিনেমাতে অভিনয় করেছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। দ্বৈত চরিত্রে ওই সিনেমায় তিনি ছিলেন একজন মা, আবার একই সঙ্গে সেই মায়ের সন্তানও। :: মেলা ডেস্ক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App