×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

এই জনপদ

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

মেঝেতে চলছে ডায়রিয়া আক্রান্তদের চিকিৎসা

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 মেঝেতে চলছে ডায়রিয়া  আক্রান্তদের চিকিৎসা

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জে একদিকে ধীরে ধীরে কমছে বন্যার পানি অন্যদিকে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া ও জ¦রে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সব বয়সি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে। সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্তদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বন্যায় পানিবাহিত রোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়া। তবে অন্যবারের চেয়ে এবার রোগীর চাপ কম বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে গতকাল বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে সরজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগে রোগী স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত রোগী রয়েছে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে। এ ওয়ার্ডে মোট শয্যা সংখ্যা ৪৭টি এর মধ্যে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ১৪টি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডায়রিয়ায় ৩৩টি শয্যার বিপরীতে ওয়ার্র্ডে রোগীর সংখ্যা ৭৩ জন। বাকি রোগীরা শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেককে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর মেঝে না পেয়ে বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের উপরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের বেডে থাকা রোগী সদর উপজেলার কলাইয়া গ্রামের ফাহিমা বেগম বলেন, ঘরে পানি উঠে নাই, তবে বাড়ির আঙিনায় পানি ছিল। তাদের টিউবওয়েলের উপরিভাগ ভাসা ছিল তাই পানির অভাব হয়নি। এ টিউবওয়েল থেকেই পানি পান করেছেন তারা।

শান্তিগঞ্জের পাগলার ঝর্ণা বেগম শিশু সন্তানকে ভর্তি করেছেন হাসপাতালে। তাদের টিউবওয়েল বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। পাশের বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি এনে খেয়েছেন। বন্যার পানি পান করেননি কিন্তু তারপরও তার সন্তানের ডায়রিয়া হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা সিনিয়র স্টাফ নার্স দোলন আক্তার বলেন, বন্যার পর রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিন বেডের তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে।

তবে অন্যবারের বন্যার তুলনায় এবার পানিবাহিত রোগের প্রকোপ কম বলছেন চিকিৎসকরা। বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে চিকিৎসকদের নেতৃত্বে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম গঠন করেছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যা হলে চর্ম রোগ, জ¦র ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সে তুলনায় এবার তা খুবই কম। তারপরও যারা এসেছেন আমরা যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছি।

আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, এবার যা রোগী আসছে বন্যার পরে তা আমাদের স্বাভাবিক সময়ের রোগীর সমান।

এদিকে বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’। গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App