×

এই জনপদ

আঙ্গুটিয়াচালা প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটে ক্লাস নেন দপ্তরি, কমছে শিক্ষার্থী

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে : গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার আঙ্গুটিয়া চালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। এতে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক সংকটের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।

গত রবিবার সকালে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, দপ্তরি মো. সুমন হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলের দুই শিফটের প্রতি শিফটে একসঙ্গে তিনটি করে ক্লাস হয়। স্কুলে বর্তমানে চারজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন প্রশিক্ষণে আছেন। প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া ঈদের ছুটির আগে ১৩ জুন থেকে গাজীপুরের চাপুলিয়া এলাকায় লিডারশিপ ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। তার ট্রেনিং চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। এমতাবস্থায় সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানাকে এ বছরের ১ জুলাই থেকে গাজীপুর শহরের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ১০ মাসের প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। এতে স্কুলে থাকা দুইজন শিক্ষকের পক্ষে একই সঙ্গে তিনটি ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। তাই তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন বলেন জানিয়েছেন। যখনই কোনো শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন তখনই তিনি ক্লাস নিয়ে থাকেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশেই তিনি ক্লাসে যান বলে জানান।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার বলেন, তাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া এবং সহকারী শিক্ষক নিগার সুলতানা ট্রেনিংয়ে আছেন। এ অবস্থায় সহকারী শিক্ষক হাবিবা আক্তার ও ফরিদা ইয়াছমিনকে প্রথম শিফটে ও দ্বিতীয় শিফটের ৬টি ক্লাস নিতে হচ্ছে। একই শিফটে একসঙ্গে তিনটি করে ক্লাস হয়। কোনো কোনো সময় শিশু শ্রেণির ক্লাসটি অর্ধেক সময় নিয়ে বাকি সময়ে অন্য দুই ক্লাস নিতে হয়। তবে দুই শিক্ষকের পক্ষে একই সঙ্গে তিনটি ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না বলে অনেক সময় দপ্তরি সুমন হোসেনও ক্লাস নিয়ে থাকেন।

প্রধান শিক্ষক মাসুদ মিয়া দপ্তরিকে ক্লাস নেয়ার কোনো অনুমতি দেননি বলে জানিয়েছেন। বলেন, যদি অনুমতির কথা বলে থাকে তা হবে সম্পূর্ণ মিথ্যা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দিলারা রহমান বলেন, মির্জাপুর ক্লাস্টারে শিক্ষক সংকটের চাহিদা দেয়া হয়েছে। অতিদ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা শেষ হলে শূন্যস্থানগুলো করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App