×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

এই জনপদ

মুরাদনগরের শতবর্ষী কোষা নৌকার হাট জমে উঠেছে

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মুরাদনগরের শতবর্ষী কোষা  নৌকার হাট জমে উঠেছে

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে : মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারে শত বছরের পুরনো কোষা নৌকার হাট জমে উঠেছে। কালের বির্বতনে রাস্তা-ঘাট ব্রিজ কালভার্ট তৈরি হওয়ায় ডিঙি, ডোঙা, সাম্পান, বজরা, গয়না, বাইচের, বাতনাই, বাচারি, ময়ূরপঙ্খী, বালার, পানসী, পাতম, একমালাই, মলার, ইলশা ও সওদাগরী নৌকা বড় বড় পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটলেও শতবর্ষী রামচন্দ্রপুর বাজারে কোষা নৌকার হাট এখনো টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। চলছে বর্ষার মৌসুম। ভারি বর্ষণে নদ-নদীতে থৈ থৈ পানি হওয়ায় এই হাটে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা, নরসিংদীর মাদবদী উপজেলা, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবা, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এবং কুমিল্লার হোমনা, তিতাস ও মুরাদনগর উপজেলার শত শত মানুষ নৌকা কিনতে ও বিক্রি করতে আসছে। মুরাদনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৭১টি নদ-নদীর মধ্যে তিতাস, গোমতী, আরচি ও বুড়ি নদী এবং অদের খাল, নিমাইজুড়ি খাল, বিল, হাওর-বাওরে প্রতিটি জনপদে বাড়ছে পানি। এতে কদর বেড়েছে ছোট ছোট নৌকার। সরজমিন রামচন্দ্রপুর নৌকার হাটে দেখা গেছে, প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটে রামচন্দ্রপুর বাজার বসে টার্মিনাল ও কাচারি বাজারে এলাকাজুড়ে নানা রকমের ছোট ছোট নৌকা। পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন করেছে সারিবদ্ধভাবে রাখা শত শত কোষা নৌকা। ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে হাট। এখানে সাধ্যের মধ্যে সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য পাওয়া যাচ্ছে নানা মাপের নৌকা। কাঠ মিস্ত্রিরিরা এমনিতে নৌকা প্রস্তুত করে রাখে। ভাটি অঞ্চলের মানুষ রামচন্দ্রপুর বাজার ও ডুমুরিয়া বাজার হাট থেকে নৌকা কেনে।

কৈজুরি গ্রামের নৌকার কারিগর রামপ্রসাদ সরকার ও বিক্রেতা বিমল সরকার বলেন, প্রতি সপ্তাহে কারিগররা ১০ থেকে ১২টি নৌকা তৈরি করে হাটে নিয়ে আসে। বর্তমানে কাঠ লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। আমরা জামরুল, রেইনটি, আম, কদম ও শিমুল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করি। নৌকা কিনতে এসেছেন, নবীনগর উপজেলা রতনপুর ইউনিয়নের বাজে বিশাড়া গ্রামের মাহমুদুর রহমান সুমন। তিনি বলেন, আমার মাছের প্রজেক্ট আছে। আমাদের গ্রামটি ছোট। খুবই নিচু এলাকা। সামান্য বর্ষাতে রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা।

নৌকা ঘাটের ইজারাদার মুর্শিদ মিয়া বলেন, এখানে নামমাত্র নৌকার টেক্স নেয়া হয়। এসবের মধ্যে হাতে বাওয়া নৌকা যেমন রয়েছে তেমনি আছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ছোট নৌকা ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা, মাঝারি নৌকা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং বড় নৌকা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আমিননগর গ্রামের ইউপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন ও স্থায়ী বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বছরে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলের কোষা নৌকার সবচেয়ে বড় হাট বসে। এই সময় বর্ষা দেখা দেয়। রামচন্দ্রপুর নৌকার হাটে এ সময় ভিড় লেগেই থাকে। নৌকা তৈরির কারিগররা দিন-রাত ধরে নৌকা তৈরি করছেন। এখন তাদের ব্যস্ত সময়, আয়ের সময়।

রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, রামচন্দ্রপুর বাজারের আশপাশের উপজেলা সবকটি ইউনিয়নে বর্ষা আসলেই নৌকা কিনতে আসে। প্রতি মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০ নৌকা বেচাকেনা হয়। এ অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের নৌকা পাওয়া যায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর বলেন, তিতাস নদীর পাড়ে রামচন্দ্রপুর বাজারটি আমার ইউনিয়নে পড়েছে। রামচন্দ্রপুর বাজার নৌকা হাটটি কুমিল্লা জেলা ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলে মিশে আছে। মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা জল ও স্থল পথে রয়েছে। ঐতিহাসিক রামচন্দ্রপুর বাজার সাপ্তাহিক হাটের সুনাম রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, বাবুর হাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাটে নৌকা কিনতে আসে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। রামচন্দ্রপুর বাজারে নৌকার ঘাটেই এখন ক্রেতার ভিড় থাকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App