×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

এই জনপদ

সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ডাক্তার আছে কাগজে-কলমে মিলছে না কোনো সেবা

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

  ডাক্তার আছে কাগজে-কলমে মিলছে না কোনো সেবা

মো. হোসেন জয়, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) থেকে : সাটুরিয়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার জন্য কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে। কয়েকটি নতুন তিনতলা ভবনও হয়েছে। চিকিৎসকদের রাতে থাকার দুটি ভবনও আছে। নেই শুধু ডাক্তার ও যন্ত্রপাতি চালানোর টেকনিশিয়ান। কাগজে-কলমে ডাক্তার থাকলেও বাস্তবে মিলছে না। নতুন নতুন যন্ত্রপাতি না চালানোর কারণে কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

সাটুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ঝুঁকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে সাটুরিয়ার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

সাটুরিয়া হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু যেসব ডাক্তার আছেন তারা ঢাকা থেকে আসেন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। এসে তড়িঘড়ি করে কিছু রোগী দেখে ১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রাইভেট ক্লিনিকে চলে যান। এসব ডাক্তাররা রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্রে টেস্ট দেন। কিন্তু হাসপাতালে পরীক্ষা করার যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীদের পরীক্ষা করাতে হয় হাসপাতালের আশপাশের কয়েকটি ক্লিনিকে। এমন অভিযোগ করেন হাসপাতালে আসা রোগীরা। রোগীর আত্মীয়স্বজনরা জানান, ডাক্তার না থাকার ফলে যে রোগীই আসে তাদের রেফার করা হয় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও কর্নেল মালেক মেডিকেলে কলেজে।

সাটুরিয়া উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাটুরিয়া হাসপাতালে বেশির ভাগ বহিঃবিভাগে ডাক্তার আছে। সব মিলিয়ে ২২ জন ডাক্তার রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৪ জন করে ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু তারা অনিয়মিতভাবে আসেন। ফলে বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দিয়ে প্রতিদিন রোগী দেখানো হচ্ছে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ.খ.ম. নুরুল হক বলেন, সাটুরিয়া হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা নেই। এখানে কোনো ডাক্তার নেই। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দিয়ে সেবা চলে। যেসব এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা কেউ যথাসময়ে আসেন না।

তিনি আরো বলেন, আমি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে আসি। এসে দেখি একজন ডাক্তারও নেই। যেখানে রোগীরা ডাক্তার পাচ্ছে না, ওষুধ পাচ্ছে না সেখানে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বসার রুম ও সভাকক্ষ এসি ও ডেকোরেশন সাজাতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন। আগে রোগীদের সব ধরনের ওষুধ দেয়া হতো। এখন রোগীদের ওষুধের পাতা কেটে অর্ধেক ওষুধ দেয়া হয়।

কথা হয় কয়েকটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের সঙ্গে। তারা জানান, প্রতিটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেয়া আছে। তারা মাসে এক দিন বা দুদিন আসেন। অনেক সময় আসেন না। রোগী দেখতে হয় আমাদের। আবার আমাদের হাসপাতালে বসে রোগী দেখতে হয়। তাহলে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র কীভাবে চলে। আমরা যখন হাসপাতালে ডিউটি করি তখন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্টরা রোগী দেখে ওষুধ দিয়ে থাকেন।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুন উর রশিদের সঙ্গে কথা হলে তিনি ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সাটুরিয়া হাসপাতালে যেসব ডাক্তার দেয়া হয়েছে বেশির ভাগ ডাক্তারই নারী। এদের মধ্যে অনেকে প্রসূতি। তারা মাতৃকালীন ছুটিতে আছেন। অনেকে ডেপুটেশনে রয়েছেন। যে কারণে ডাক্তার সংকট দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়, পরীক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি থাকলেও রোগীরা কেন বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে পরীক্ষা করাচ্ছে। তিনি বলেন, টেকনিশিয়ান না দেয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App