×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

এই জনপদ

রেমালের আঘাতের পর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

জেলে পরিবারে নীরব কান্না

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জেলে পরিবারে নীরব কান্না

বাগেরহাট প্রতিনিধি : মোংলায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল কেড়ে নিয়েছে জেলেদের শেষ সম্বল জাল-নৌকা আর সরঞ্জামসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই। একদিকে ঝড়ের ক্ষত চিহ্ন অন্যদিকে মাছের প্রজনন মৌসুমে সরকারের চলমান ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বেকার হয়ে পড়েছে এ এলাকার ২৫-৩০ হাজার জেলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবন বাঁচাতে নতুন করে লড়াই করতে হবে এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের। জেলেদের চলমান এ সংঙ্কট মোকাবিলায় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে নদী ও খালের পরিমাণ ১৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনের পানির ভাগকে বলা হয় মৎস্য সম্পদের ভাণ্ডার। মোংলার উপকূলীয় এলাকায় কয়েক হাজার জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাগর ও সুন্দরবনের মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। বছরের পুরো সময়টাই কাটে তাদের সুন্দরবনের সাগর-নদী-খালে মাছ ধরে। আর এতে যতটুকুই রোজগার হয় তা দিয়েই চলে তাদের পরিবারের সংসার। গত ২৬ মে হঠাৎ শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডব। রাত-দিন এ তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এখানকার জেলে পল্লীতে। নদীর উপকূলে বসবাস করায় বন্যার পানি ভাসিয়ে নিয়েছে তাদের জাল-নৌকা ও সরঞ্জামসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই ঘর ও মালামাল। এতে বেশির ভাগ জেলে রাস্তায় আবার কেউ নদীর তীরে টং ঘর তৈরি করে বসবাস করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, এরই মধ্যে বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে মাছ আহরণ, পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটছে তাদের অর্ধাহারে-অনাহারে। তাই কুমিরের ভয়ের মধ্যেও নদীর পাড়ে নারীরা জাল টানছেন। এ উপকূলীয় এলাকায় জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত ২৫-৩০ হাজার। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার ৪০০। বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে সহায়তা পেয়ে থাকেন নিবন্ধিত জেলে। আর বাকি জেলেদের জীবন কাটে চরম কষ্টে। ঝড়ে সব কিছু হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে মোংলা উপকূলের কয়েক হাজার জেলে পরিবার। নিবন্ধিত জেলেরা সরকারের প্রণোদনা পেলেও বাকি জেলেদের কী হবে- তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছে এখানকার জেলে পরিবারগুলো। তাই বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না নিবন্ধিত জেলেদের পাশাপাশি অনিবন্ধিত জেলেদের তথ্য সংগ্রহ ও ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের এখানে জেলেদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এদের মধ্যে জয়মনির জেলেরা যারা কুঁড়েঘরে থাকে তাদের ক্ষতি বেশি হয়েছে। আমরা তাদের তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তাছাড়া আমরাও চেষ্টা করছি তারা যেন বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে কিছু পেতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App