×

এই জনপদ

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় নয়নের খাল

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, মুন্সীগঞ্জ থেকে : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজার-আদারিয়াতলা খালটির (নয়নের খাল নামে পরিচিত) প্রবেশ মুখ ধলেশ্বরী নদীর মালিপাথর এলাকায়। সেখান থেকে শুরু করে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ফিরিঙ্গিবাজার, আদারিয়াতলা হয়ে মিরকাদিম বিনোদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। খালটি খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বহু আগে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন দখল, দূষণসহ ময়লা ফেলে যে যার মতো করে খালটিকে দখল করে নিচ্ছে। খালের দুপাশে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট। প্রবেশ মুখের দুপাশে বালু ভরাট করে খালে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া ফিরিঙ্গিবাজার, আদারিয়াতলায় বেশিরভাগ জায়গায় গড়ে উঠেছে ৩০-৪০টিরও অধিক অবৈধ স্থাপনা।

এক সময় এ খালে চলাচল করত বড় বড় নৌকা, স্টিমার আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাল তোলা নৌকা। এখন আর চোখে পড়ে না সেসব। জানা গেছে, এই নয়নের খালটিতে অনেক আগে এসব নৌযান চলাচল করত। এখন যার যার ইচ্ছামতো দোকানপাট, ঘরবাড়ি, পাকা ভবন তুলে দখল করে নেয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় হাবিবুর রহমান, সুরুজ মিয়া, মোতালেব দেওয়ানসহ আরো অনেকে। পাশাপাশি ময়লা ফেলে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এছাড়া খালটির দুপাশের বাসিন্দারা সব ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। খালটিতে ভরা বর্ষায় প্রচুর পানি চলাচল করলেও এখন খালটির প্রবেশমুখে পলি জমার কারণে জোয়ার ভাটা ঘটছে না। তবে পুরো খালটিতে ফেলে দেয়া ময়লা আবর্জনার নিংড়ানো পানি, বিভিন্ন ফ্যাক্টরির বিষাক্ত পানি এই খালটিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। পানিগুলো সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে চলে যাচ্ছে।

সরজমিন গিয়ে নয়নের খালটির বেহাল দশা চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে খালের দুপাশে গড়ে উঠেছে গরু লালনপালনের খামার। গোমূত্রের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আদারিয়াতলাবাসী। নোংরা পরিবেশে জন্ম নিচ্ছে হাজারো প্রজাতির মশা মাছি।

জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কোনো প্রকার লিজ না নিয়েই চলছে এ অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম। অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হোক এমনটাই দাবি স্থানীয় জনসাধারণের।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন অফিস সূত্র জানান, নদী-খাল দখল ও দূষণে শাস্তি কঠোর করেছে সরকার। এজন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০২০ এর খসড়া করেছে কমিশন। খসড়া আইনে নদীর দখল ও দূষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নদী, খাল দখল-দূষণ রোধে বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ অন্যদের যে ক্ষমতা দেয়া আছে সেটা তারা ব্যবহার করবে। তবে দণ্ডবিধিতে নদী বা খালে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিফা খান বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App