×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

এই জনপদ

জীবিকাবঞ্চিত জেলেরা

মেঘনায় নদীতে অবৈধ ঝোপ বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি মাছ

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. ইব্রাহীম খলিল মোল্লা, মেঘনা (কুমিল্লা) থেকে : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মেঘনা নদী এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর ছোট-বড় শাখা নদীগুলোতে ঝোপ পাতার ফলে দেশি মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছে নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ থেকে। দেশি মাছে আকাল দেখা যাচ্ছে উপজেলার বাজারগুলোতে।

জানা যায়, মেঘনা উপজেলায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীতে বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে স্থাপন করে জাগ বা ঝোপ। কিছুদিন পর ঝোপের চারপাশে জালের বেষ্টনী দিয়ে মাছ নিধনের মহোৎসবে লিপ্ত হয়। নদীঘেরা উপজেলাগুলোর প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে যত্রতত্র এই ঝোপ দিয়ে মাছ ধরার সাহস পাচ্ছে। ফলে নদীতে তলবাসী মাছ- বোয়াল, আইড়, রিটা, গুজি আইড়, চিতল, গজার, শোল, মহাশোল, ঘনিয়া, কালিবাউশ ইত্যাদি আজ বিলুপ্তির পথে। এছাড়া পাবদা, গুলশা, রাজপুঁটি, মেনি, ট্যাংরা, ফলি, শিং, গুতুম, মাগুর, বৈড়ালি, কুচিয়া, ভাগনা, খলিশা, কৈ, বাটা, সরপুঁটি, গনিয়া, জাইতপুঁটি, পিয়ালি, বাতাসি, রানী, ঢেলা ও কাকিলাসহ ৩১ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। ইতোমধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ৮৮টি প্রজাতির মাছ। নদীতে অবৈধভাবে যত্রতত্র ঝোপ দেয়ার কারণে পানিপ্রবাহে বিঘœ, পলি জমে নদী অগভীর হয়ে যাওয়া, মাছের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া ও প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট হওয়াই এর অন্যতম কারণ। এছাড়া ঝোপের কারণে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়াসহ হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তলদেশের জীববৈচিত্র্য।

মেঘনা নদীর সঙ্গে মিশেছে গোমতী নদীসহ জেলার উত্তরাঞ্চলের তিতাস নদী, কাঁঠালিয়া নদী, দাউদকান্দি, মেঘনা, তিতাস ও হোমনা উপজেলার অভ্যন্তরের ছোট-বড় শতাধিক শাখা নদী। মেঘনা নদীসহ এসব শাখা নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য দুই শতাধিক ঝোপ রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝনদীতে ঝোপ দিয়ে চলছে মৎস্য শিকারের মহোৎসব। ঝোপ তৈরির শুরুতে নদীতে গাছের ডালপালা ফেলে চারদিকে বাঁশের বেড়া, ঝাটা ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা হয় মাছের অভয়াশ্রম নামীয় ফাঁদ। তারপর ঝোপের ভেতরে ঘ্রাণযুক্ত খাবার দিয়ে আকৃষ্ট করা হয় মাছকে। নিরাপদ আশ্রয় ভেবে মাছরা এখানেই আশ্রয় নেয়। কিছুদিন পর চারদিকে সু² জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে নিধন করা হয় নানা প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা ও লার্ভা। একটি বড় ঝোপ থেকে এক কাটাইয়ে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মাছ শিকার করা হয়। আর এটা সম্ভব হয় অবৈধ ঝোপঝাড়ের সঙ্গে জড়িত এলাকার প্রভাবশালীদের কারণে।

এদিকে ঝোপের কারণে উপজেলায় দুই হাজার নিবন্ধিত সাধারণ জেলে আজ ভাগ্যবিড়ম্বিত। সাধারণ জেলেদের নেই কোনো অভিযোগ দেয়ার জায়গা। অভিযোগ দিলেও এতে কর্ণপাত করার নেই কেউ। কারণ নদীর ঝোপের বড় সুস্বাদু মাছ যায় বড় বড় কর্তা ব্যক্তিদের বাসায়। শুধু মাছ নয়, সঙ্গে টাকার বান্ডিলও যায়। এসব অন্যায় দেখার কেউ না থাকায় মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন বিঘিœত হয়ে উপজেলার মৎস্যসম্পদ আজ হুমকির মুখে। ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্যও।

এছাড়া নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কর্তা ব্যক্তিদের যোগসাজশে যত্র-তত্র অপরিকল্পিত ঝোপের কারণে নদীতে পানির গতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি পণ্যবাহী নৌকা, ট্রলার, জাহাজ, বালুবাহী ভলগেট চলাচলেও মারাত্মক অসুবিধা ভোগ করতে হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার কেউ না থাকার কারণে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতি মাসেই নদী রক্ষা কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হলেও নেই কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা।

উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৩ বছর ধরে নেই অফিস সহায়ক। উপরন্ত ১০ বছর ধরে এই অফিসের অফিস সহকারী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিযুক্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে একাধিক উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে বলেন, নদী দখলমুক্ত করতে মোবাইলকোর্ট পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনসহ নদীরক্ষা কমিশনের নির্দেশনা থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবল ও অর্থ সংকটের কারণে তা হয়ে উঠছে না। প্রভাবশালীদের অবৈধ দাপট প্রতিহত করে অভিযান পরিচালনার জন্য মৎস্য বিভাগের লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় অন্যের উপর ভর করে নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে মৎস্য বিভাগকে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

মেঘনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধা বলেন, আমরা প্রায়ই অভিযান করে থাকি। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা না হওয়ায় ঝোপ মালিকরা পুনরায় ঝোপ বসায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App