×

এই জনপদ

কোটচাঁদপুর কুশনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কোটচাঁদপুর কুশনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি নিয়োগ বাণিজ্য চালাতে গিয়ে চাকরিবঞ্চিত প্রার্থী ও স্বজনদের হাতে মারপিটের শিকারও হয়েছেন।

গত শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক ৩টি অভিযোগ করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষে অভিযোগ তিনটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাকরি বঞ্চিতরা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, গত শুক্রবার কুশনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগের বোর্ড বসে।

প্রধান শিক্ষকের দাবি নিয়ম অনুসারে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ৫টি পদের বিপরীতে মোট ৪২ জন প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পদ ৫টি হলো অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী, অফিস সহায়ক, নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া। ৫টি পদের প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে নিয়োগ দেয়া হয়।

নিয়োগ বোর্ডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চাকরিপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ চাকরি বঞ্চিত ও স্বজনরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে মারপিট শুরু করে। মারপিটের ভিডিও ফুটেজটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

চাকরিবঞ্চিতরা বলেন, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৫টি পদে মোট ৭৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪২ জন প্রার্থী। তাদের অভিযোগ নিয়োগ বোর্ড বসার আগেই সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে একই পদে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। যে প্রার্থী বেশি টাকা দিয়েছেন তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যদের করা হয়েছে বঞ্চিত।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, তার ছেলে পলাশকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি নিতে আব্দুর রশিদকে ৭ লাখ টাকা দেয়া হয়। একই পদে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সেলিম রেজার কাছ থেকে নেয়া হয় ৫ লাখ টাকা। নৈশপ্রহরী পদে রোকন হোসেনের কাছ থেকে ৮ লাখ একই পদে সিহাব নামে অন্য প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়া হয়। আয়া পদে উর্মি নামে এক প্রার্থীর কাছ থেকেও ১০ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে সেলিম রেজা ও রোকনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকরি না দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাত ১০টায় সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার নামে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ওই রাতেই সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া তাকে মারপিট ও মানহানি করার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রাণভয়ে রয়েছি। যে কারণে আপনার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক অনুরোধের একপর্যায়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমি নিয়োগ বোর্ডের কেউ না। নিয়োগ বোর্ডকে সহযোগিতা করেছি মাত্র। তাকে জড়িয়ে কিছু না লেখার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, পূর্ব শত্রæতার কারণে আমাকে মারপিট করা হয়েছে। কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ বোর্ডের কোনো সদস্যকেও কোনো সম্মানি দেয়া হয়নি।

এদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলছেন, আব্দুর রশিদ স্কুলের কর্মচারী নিয়োগে চাকরিপ্রাপ্ত ও চাকরিবঞ্চিত প্রার্থীদের কাছ থেকে ১ কোটি ৬ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App