×

এই জনপদ

সিরাজদিখান প্রাণিসম্পদ অফিস

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজদিখানে প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিনামূল্যের পশু চিকিৎসায় টাকা নেয়া, সরবরাহ থাকার পরও বাইরে থেকে কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া গ্রামে এক খামারির ছাগল মারা যায়। এছাড়া আরো ১৭-১৮টি ছাগল অসুস্থ হলেও সময় মতো চিকিৎসা পায়নি ওই খামারি। এমন অভিযোগসহ অসংখ্য অভিযোগ করেন খামারিরা। তারা জানান, বিনামূল্যের পশু চিকিৎসায় টাকা নেয়া, সরবরাহ থাকার পরও বাইরে থেকে কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য করা, মাঠ পর্যায়ে প্রজনন কর্মী ও ভিএফএদের (ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট) টাকা নেয়সহ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।

খামারিরা আরো জানান, খামারে কোনো রোগের উপদ্রব হলে প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে টিকা ছাড়া আর কোনো ওষুধ কিংবা চিকিৎসাসেবা সময় মতো পান না তারা। স্বেচ্ছায় কোনো কর্মকর্তা খামার পরিদর্শন করেন না। প্রয়োজনে একাধিকবার ফোন করলেও একবার আসেন। আবার এলেও প্রতিবার ভিজিট দিতে হয় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

মধ্যপাড়া ইউনিয়নের উন্নত প্রজাতির ছাগল পালনকারী মো. জহির নামের এক খামারি অভিযোগ করে বলেন, ইতোমধ্যে আমার খামারের বেশ কয়েকটি ছাগল মারা গেছে। কিছুদিন আগে আমার একটি উন্নত জাতের ছাগল অসুস্থ হয়। বিকাল ৫টার দিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও এআইটি মো. আল রাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পিপিআই ভ্যাকসিন ৪-৫ দিন পরে আসবে বলে জানান। আর তিনি পরের দিন সকালে আসবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু রাতে ছাগলটি মারা যায়। যার বাজারমূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা। মালপদিয়া গ্রামের হাবিব বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে মৌখিকভাবে একাধিকবার জানালেও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এখন পর্যন্ত খামারটি পরিদর্শন করেননি। বিভিন্ন সময় সমস্যার কথা তাদের বললে মৌখিকভাবে সমাধান দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে পশু মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করেন না তারা। এছাড়া গৃহপালিত বা খামারের গাভী অসুস্থ হলে নির্ধারিত অঙ্কের ভিজিট দিয়ে বাড়ি আনতে হয় উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের। সরকারি বরাদ্দ করা ওষুধ প্রয়োগ করেও তারা টাকা আদায় করেন। করারবাগ গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ভিএফএদের ফোন দিলে অনেক সময় ধরে না। আবার যদিও কখনো ধরে ৩-৪ বার অনুরোধ করার পর আসে। আর এলেও প্রতিবার ৫শ থেকে ১ হাজার টাকার নিচে দিলে রাগ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আর আসে না। শুধু তাই নয়, সরকারি বিড়ালের র‌্যাবিস ভ্যাকসিনও হাসপাতালেই বিক্রি করে ৩২০ টাকায়। যদি বাড়তি টাকা দেই তাহলে বের করে দেয়। আর টাকা না দিলে বলে সাপ্লাই নেই। সরকার না দিলে আমরা পামু কই।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শবনম সুলতানা বলেন, আমাদের লোকবল কম আছে। যে কারণে কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে খামারিরা ফোন করলে তারা মাঠ পর্যায়ে চলে যান। আবার যে পশুটি হাসপাতালে আনা সম্ভব হয় না সেখানেও তারা যান। তিনি আরো বলেন, এই উপজেলায় ভিএস বা জরুরি সেবা না থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে আমরা খামারিদের আশানুরূপ সেবা দিতে পারছি না। এর পরেও এখন থেকে খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App