×

এই জনপদ

বাউফলের কালাইয়া বাজার

পশু বেশি ক্রেতা কম, লোকসানে গৃহস্থরা

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পশু বেশি ক্রেতা  কম, লোকসানে  গৃহস্থরা

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) থেকে : বাউফলে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। দেশি প্রজাতির গরু-মহিষের জন্য বিখ্যাত বাউফলের কালাইয়া বাজার। উন্মূক্ত বিচরণক্ষেত্রে লালন-পালন করা গরু-মহিষের জন্য এ বাজারের সুনাম রয়েছে। ঈদুল আজহা কিংবা চাষাবাদের জন্য গরু-মহিষ কেনাবেচা করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত গৃহস্থ ও বেপারী এই বাজারে হাজির হন। কেনাবেচা হয় কোটি কোটি টাকার গরু, মহিষ ও ছাগল। তবে এ বছর বাজারে পশু বেশি থাকলেও তুলনামূলক বেচাকেনা কম বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম। যে কারণে চাহিদার তুলনায় পশু বেশি হওয়ায় দামও কম।

সরজমিন কালাইয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গরু-মহিষ ক্রয়ের জন্য বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, নোয়াখালী, ল²ীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, নওগা, ফরিদপুর এবং মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারীরা এসেছেন। স্থানীয় ও বাউফলের আশপাশের উপজেলার গৃহস্থ ও খামারিরা বিক্রির উদ্দেশে গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়া নিয়ে বাজারে এসেছেন। কুরবানিকে কেন্দ্র করে বাজারে স্বাভাবিকের চেয়ে পশুর আমদানি অনেক বেশি দেখা গেছে। একাধিক বিক্রেতা জানান, বাজারে প্রায় ১০ হাজার পশু উঠেছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম। এ কারণে পশুর দামও কম। বাজারে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। দামও তুলনামূলক ভালো।

একাধিক গরু-মহিষ ব্যবসায়ী জানান, কুরবানির এখনো এক সপ্তাহ বাকি আছে। এ কারণে স্থানীয়রা পশু কিনতে শুরু করেনি। তবে কম দামের সুযোগ নিচ্ছেন বেপারীরা। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কম দামে গরু কিনছেন। এর ফলে প্রকৃত গৃহস্থরা দাম পাচ্ছেন না। লালমোহন উপজেলার গরু ব্যবসায়ী মো. হারুন মাঝি জানান, তিনি ৩০টি গরু নিয়ে কালাইয়া বাজারে এসে ১৭টি বিক্রি করেছেন। বাজারে ক্রেতা কম, বেপারী বা পাইকার বেশি। বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আশানুরূপ লাভ হবে না।

রাঙ্গাবালী উপজেলার গরু ব্যবসায়ী সোহরাব দফাদার বলেন, রাঙ্গাবালী, গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গরু কিনেছি। বাজারে বিক্রি করতে এনে দেখি দাম কম। প্রতি গরুতে কেনা দামের চেয়েও ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।

বাউফলের চর কালাইয়া এলাকার কৃষক মো. সুজন ফকির বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক উপায়ে ৫৩টি গরু মোটাজাতা করেছি। এখন বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি না। তবে স্থানীয় গৃহস্থ বা খামারিদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ বেপারীরা। তাদের মতে, দেশে চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দাম কম। তাই তারাও কম দামে গরু কিনছেন।

লোকমান ফরাজী নামে ঢাকার এক বেপারী বলেন, গ্রাম-গঞ্জ থেকেও ঢাকায় গরু নিয়ে যাওয়া হয়। যার কারণে ঢাকায় গরুর চাপ বেশি, দাম কম। এ কারণে তারাও বেশি গরু কিনছেন না। লোকসান এড়াতে হিসাব করে পশু কিনছেন। সেলিম জোমাদ্দার নামে আরেক বেপারী জানান, ঢাকার বাজার ভালো না। তাই তারা বেশি পশু কিনছেন না।

একই অবস্থা ছাগলের বাজারেও। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজার দর খারাপ যাচ্ছে। কুরবানি উপলক্ষে বাজারে ছাগলের পরিমাণ বেশি। তবে ভালো দাম মিলছে না বলে জানান গৃহস্থরা।

কালাইয়া বাজার ইজারাদার ইউপি চেয়ারম্যান এস এম ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লা বলেন, কালাইয়া বাজার দেশের দক্ষিণাঞ্চরের বৃহত্তম বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া কেনাবেচা করতে এই বাজারে আসেন। তাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি হাট কমিটিও কাজ করছেন।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, থানা এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে কুরবানির জন্য পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। যার মধ্যে কালাইয়া বাজার বৃহত্তম। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের টহল টিম কাজ করছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশু বিক্রির জন্য বাউফলে আরো ৩০টি হাট বসেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App