×

এই জনপদ

বিয়ের প্রলোভনে সেবিকা ধর্ষণ

আমতলীতে স্কুলশিক্ষক গ্রেপ্তার

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকার একটি ধর্ষণ মামলায় তালতলী উপজেলার কচুপাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এ বি এম জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।

গত রবিবার গভীর রাতে উপজেলার পৌর এলাকায় একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার কচুপাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এ বি এম জাকারিয়া ঢাকার বারডেম হাসপাতালের এক সেবিকাকে বিয়ের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতে সেবিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ভ্রƒণ হত্যা করা হয়। এরপর সেবিকার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ রাখে জাকারিয়া। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৯ মে সেবিকা ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির মামলাটি আমলে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ মতে ওসি মামুনুর মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন।

রবিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান ও আমতলী থানা এসআই আশরাফ মিয়ার নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে জাকারিয়াকে আমতলী পৌর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল দুপুরে পুলিশ জাকারিয়াকে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়। আদালতের বিচারক শাহরিয়ার কবির আসামি জাকারিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধর্ষক জাকারিয়া উপজেলার হুলাটানা গ্রামের সেকান্দার আলী হাওলাদারের ছেলে।

ঢাকা বারডেম হাসপাতালের সেবিকা বলেন, এ বি এম জাকারিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। এতে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। পরে আমাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে ভ্রƒণ হত্যা করেছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি লম্পট এ বি এম জাকারিয়ার শাস্তি দাবি করছি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি এ বি এম জাকারিয়াকে আমতলী পৌর শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, ধর্ষণ মামলায় স্কুলশিক্ষক জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ বি এম জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। তিনিই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুকিত মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিবেদন পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App