×

এই জনপদ

মিরসরাইয়ে ১৩ দিন ধরে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মিরসরাইয়ে ১৩ দিন ধরে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের সরকারতালুক-ছত্তরুয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার গত ১৩ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এতে বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন এখানকার লোকজন। দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, পানি পার হয়ে যেতে হচ্ছে স্কুলে। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বৃষ্টির পানিতে এমন জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সরকারতালুক-ছত্তরুয়া গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য যে খাল রয়েছে সেগুলো দখল ও দূষণে আক্রান্ত। বারইয়ারহাট-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের জন্য সড়ক উঁচু করতে হচ্ছে। সরকারতালুক গ্রামের উত্তর পাশে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের একটি কালভার্ট ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু প্রশস্তকরণ নকশায় ওই কালভার্ট না থাকায় সেটি নির্মাণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে বসতঘরে পানিবন্দি হয়ে আছি আমরা। বাচ্চারা পানিতে পড়ে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি রান্না করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া শিশুদের শরীরের এসব নোংরা পানির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। রাতে সাপের আতঙ্কে বসবাস করছেন তারা। শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

ফার্মেসি ব্যবসায়ী অঞ্জন বণিক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর থেকে এখানে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, এতে আমাদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। মাঝেমধ্যে গাড়ি যাওয়ার সময় ঢেউয়ে দোকানের মধ্যে পানি ডুকে যায়। আমরা চাই দ্রুত এর সমাধান করা হোক।

গ্যারেজ মালিক মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমার গ্যারেজটি পানির মধ্যে ডুবে আছে। পানির কারণে আমার গ্যারেজের ভেতরের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামনে ঈদ আসছে, এখন পর্যন্ত গ্যারেজ খুলতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে পারিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, এখানে দুটি কালভার্ট ছিল। বারইয়ারহাট-রামগড় স্থলবন্দরে রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা নিয়োজিত ছিল, তাদের আমি ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবস্থায় বলেছি, এই কালভার্ট দুটি দিয়ে এখানকার পানি নিষ্কাশন করা হয়। কালভার্টগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্থানীয়দের পরামর্শ দিয়েছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার জন্য। যদি তা না হয়, আমরা পাম মেশিন দিয়ে পানিগুলো নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা করব।

মিরসরাই উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা জেরিন বলেন, দুর্ভোগের কথা শুনে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে ড্রেনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। এখানকার অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দীন খালেদ চৌধুরী বলেন, বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের প্রশস্থকরণের নকশায় সরকারতালুক এলাকায় কোনো কালভার্ট না থাকায় নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। আগে পাইপ দিয়ে এখানকার পানি নিষ্কাশন হতো। নতুন করে আমরা আরসিসি ড্রেনেজ করে দিচ্ছি। পানি ড্রেনের মাধ্যমে একটু দূরে অবস্থিত ব্রিজ দিয়ে চলে যাবে। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে ড্রেনের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App