×

এই জনপদ

ফটিকছড়ি

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নাজিরহাটের মরা খাল

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে নাজিরহাটের মরা খাল

মুহাম্মদ দৌলত, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে : দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এক সময়ের খরস্রোতা নাজিরহাট খাল। বর্তমানে খালটি মরা খাল নামে পরিচিত। উত্তর চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক জনপদ নাজিরহাট বাজারের পানি নিষ্কাশন ছাড়াও এলাকায় চাষাবাদে ব্যাপক অবদান রেখে আসছিল খালটি। অথচ দখল আর দূষণের কবলে এটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নাজিরহাট বাজারের ময়লা-আবর্জনা খালের পানিতে ফেলায় এটির দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খালের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খালটির নাজিরবাজার অংশের মধ্যখান থেকে পূর্বদিকে অন্তত এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এর মধ্যে মাইজভান্ডার সড়কের গুল মোহাম্মদ তালুকদার মসজিদের উত্তর অংশ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনের অংশ, নেজাম বোর্ডিংয়ের পেছনের দিক এবং ঝংকার এলাকায় খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জনবহুল স্থান হিসেবে পরিচিত ঝংকার মোড়ে পাবলিক টয়লেটের আড়ালে খালের জায়গায় অবৈধ দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে পৌর যুবলীগের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে। অনেকে কৌশল হিসেবে খালের জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেছে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, একসময় এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের জমিতে চাষাবাদ হতো। এমনকি অনেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। তারা আরো বলেন, প্রথমে খালের পানিতে আবর্জনা ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করে বেড়া দিয়ে নিজেদের দখলে নেয়া হয়।

জানতে চাইলে নাজিরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, বেদখল হওয়া জায়গার মধ্যে কিছু অংশ বাদ দিলে পুরোটাই খাল। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে পূর্বের অবস্থায় চলে যায়।

নাজিরহাট পৌর মেয়র এ কে জাহেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘকাল ধরে দেখে আসছি নাজিরহাট বাজারের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম এটি। এক সময় খালটি খরস্রোতা ছিল। তবে দখল-দূষণের কবলে এটি এখন মৃত। অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে খালটি উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মেয়র।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফেরাতে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি দখল-দূষণের সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়াসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App