×

এই জনপদ

শালিখায় হদিস নেই ভর্তুকির ৪ কৃষিযন্ত্রের

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দীপক চক্রবর্তী, মাগুরা থেকে : বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে যখন কৃষি শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে ঠিক সে সময়ে মাগুরার শালিখায় সরকারের ভর্তুকি দেয়া ধান কাটার ৪টি কৃষিযন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টারের কোনো হদিস মিলছে না। এদিকে কম্বাইন মেশিন প্রাপকরা বলছেন, যেদিন মেশিন পেয়েছি ওই দিনই আমরা কোম্পানির গাড়িতেই ভাড়ায় খাটানোর জন্য দিনাজপুর পাঠিয়েছি। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, মেশিনগুলো কোথায় তা আমাদের জানা নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ৫০% ভর্তুকিতে কেনা শালিখা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৪টি কম্বাইন হারভেস্টার অন্য জেলায় গোপনে বিক্রি হয়ে গেছে। ধান কাটার এই কৃষি যন্ত্র উপেজলার কোথাও নেই। যদিও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এসব কম্বাইন হারভেস্টার উপজেলায় ধান কাটার কাজে ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, কম্বাইন হারভেস্টার বেচাকেনায় কৃষি অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। তাদের যোগসাজশেই তালিকায় এখনো এসব কৃষি যন্ত্রের উপস্থিতি দেখানো হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সেগুলোর কোনো হদিস নেই।

উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর ও তার ভাইয়ের নামে একটি কম্বাইন হারভেস্টার বরাদ্দ হয়। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর জানান, তার কম্বাইন হারভেস্টার দিনাজপুর জেলায় ভাড়ায় চলছে। তবে এখনো শালিখায় কম্বাইন হারভেস্টারের তালিকায় তার নাম (তালিকা ক্রমিক নম্বর- ৩) রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জাহাঙ্গীর নিজেই। তিনি আরো জানান, কৃষি অফিস থেকে আমি একটি কম্বাইন হারভেস্টার সরকারের দেয়া ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভর্তুকিতে মোট ৩১ লাখ টাকায় কিনেছি।

অন্যদিকে উপজেলার ভাটোয়াইল গ্রামের আকবর হোসেন নামে এক ব্যক্তির নাম এ তালিকায় এক নাম্বারে থাকলেও হারভেস্টার মেশিনটি তার জামাই একই উপজেলার সর্বসাংদা গ্রামের জমজম বিশ্বাস কৃষি অফিস থেকে গ্রহণ করেছেন। কৃষি অফিসের রেজিস্টার বইতে জমজম নামের ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। ওই মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে জমজম ফোন রিসিভ করে বলেন, এ কম্বাইন মেশিন আমি নিয়েছি। রেজিস্টারে আকবর হোসেনের নাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবার তো এক নামে বরাদ্ধ দেয় না, তাই আমার শ্বশুরের নাম দিয়েছি। আমার মেশিন দিনাজপুরে ভাড়ায় খাটাচ্ছি। এ পর্যন্ত মোট ৩টা মেশিন নিয়েছেন বলেও জানান জমজম। আড়পাড়া ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার কৃষক কল্লোল শেখ জানান, আমার মেশিন বগুড়াতে ভাড়া খাটছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রিকীকরণের প্রকল্পের আওতায় শালিখা উপজেলায় ৫টি কম্বাইন হারভেস্টার বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে চারটি কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করেছি। আর আমরা এ কম্বাইন হারভেস্টারগুলো এমন সময় বিতরণ করেছি যখন শালিখা উপজেলায় ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অনুমতি সাপেক্ষে সেগুলো অন্য জেলায় ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও মেশিন ব্যবহারকারীরা আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হরেকৃষ্ণ অধিকারী জানান, এই এলাকার চাষিরা যেন আধুনিক কৃষিতে সম্পৃক্ত হয় সেজন্য কৃষি অধিদপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটা কম্বাইন হারভেস্টার ৫০ ভাগ ভর্তুকি দেয়া হয়। কম্বাইন হারভেস্টারগুলো যেহেতু শালিখাতে দেয়া হয়েছে, তাই সেগুলো শালিখাতে ব্যবহার হবে। কম্বাইন হারভেস্টার সরকারের ভর্তুকিতে দেয়া, তাই এগুলো বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App