×

এই জনপদ

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেলান্দহ (জামালপুর) প্রতিনিধি : মেলান্দহের ঝাউগড়া ইউনিয়নে ৫০০ মিটার পাকা সড়ক নির্মাণে নি¤œমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি পাকাকরণের কাজ পায় মেসার্স বাংলাদেশ বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি বিক্রি করে দিয়েছেন ঝাউগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশোর কাছে। ওই আওয়ামী নেতাই এখন সড়ক নির্মাণের কাজ করেছেন। তবে সড়ক নির্মাণে নি¤œমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি বলে জানান ওই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে সড়ক পাকা করার কাজ একেবারেই নি¤œমানের ও দায়সারাভাবে করা হচ্ছে। সবাই দেখেও কেউ কিছু বলছে না বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম ঝাউগড়া পইরবাড়ি থেকে কিফায়াত শেখের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক পাকা করার কাজ চলছে। সড়ক নির্মাণে নি¤œমানের খোয়া ব্যবহার করছেন ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু কথা বলতে সাহস পায় না। সড়কে কাজ আরো খারাপ করলেও স্থানীয় লোকজন কেউ কোনো কথা বলবে না।

উপজেলার এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝাউগড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাউগড়া পইরবাড়ি জিপিএস থেকে কিফায়াত শেখের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা পাকা করার কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৪ টাকা টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স বাংলাদেশ বিল্ডার্সকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। তবে কাজটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশো কাছে বিক্রি করে দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি শেষ করার জন্য চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কে বালি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সড়কের সাববেজের (নিচের স্তর) কাজ চলছে। সড়কের পাশের মাটি ভরাটও করা হয়েছে। পুরো সাববেজের জন্য ব্যবহৃত করা হয়েছে নি¤œমানের ইটের খোয়া। স্থানীয়ভাবে যা রাবিশ বলে পরিচিত। ইটের গুঁড়া মিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া রাস্তায় বিছানো হয়েছে। এর ওপর দিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, নি¤œমানের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আরো যদি নি¤œমানের কাজ হয় তাও স্থানীয়রা কিছু বলতে পারবে না। উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।

এ বিষয়ে মেসার্স বাংলাদেশ বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, কাজটি আমি বিক্রি করে দিয়েছি। যিনি কাজ করছেন তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। কাজের মান নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলব। সঠিকভাবে কাজ করতে বলে দেব। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশো বলেন, রাস্তায় কোনো ধরনের নি¤œমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। নি¤œমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগটি মিথ্যা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবা হক ভোরের কাগজকে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে জানাব। প্রয়োজনে নিজে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল ত্রিপুরা বলেন, বিষয়টা আমার নলেজে আছে। কাজটি দেখার জন্য টিম করে দেয়া হয়েছে। তারা কাজটি দেখবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App