×

এই জনপদ

মধ্যনগরের ৩৪ আড়তে জমে উঠেছে ধান বেচাকেনা

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যনগরের ৩৪ আড়তে জমে  উঠেছে ধান বেচাকেনা

রাসেল আহমদ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) থেকে : ধানের বড় মোকাম মধ্যনগর বাজার। এ বাজারে এপ্রিল-মে থেকে শুরু হয়ে নভেম্বর পর্যন্ত চলে ধান কেনাবেচা। চলতি মৌসুমে এই মোকামের আড়তগুলোতে ধান বেচাকেনা জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেপারিরা এসে ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন চাতালের জন্য। মধ্যনগর বাজারে বর্তমানে প্রায় ৩৪টি আড়তে প্রতিদিন শত শত মেট্রিক টন ধান কেনাবেচা হয়। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে ফড়িয়া বেপারিরা জমা করেন মধ্যনগর বাজারের বিভিন্ন আড়তে। ওই আড়তগুলো থেকে ধান নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ভৈরব, আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল, সিলেটের কালীঘাটসহ দেশের নানা প্রান্তে যায়। আর এই ধান পরিবহনে নৌপথই একমাত্র মাধ্যম।

মধ্যনগর বাজারে প্রায় ৫০ বছর আগে গড়ে ওঠা এই ধানের আড়তগুলোতে বছরে লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান কেনাবেচা হয়। আড়তদাররা ধান ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বড় ব্যবসায়ীদের কাছে কমিশনে ধান বিক্রি করেন। জেলার বৃহত্তম এই আড়তগুলোতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, গচি, টেপি, বিরইন, বিরই, কালিজিরাসহ বিভিন্ন জাতের ধান বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়তগুলোতে ধান কেনাবেচা হয়। তবে শনিবারের হাটবারে সবচেয়ে বেশি ধান আমদানি হয়। আড়তগুলোতে পাঁচশতাধিক শ্রমিক ধান লোড-আনলোড ও পরিমাপের কাজ করেন।

মধ্যনগরে ধান কেনাবেচায় নিয়োজিত রয়েছেন দেড়শতাধিক ফড়িয়া ব্যবসায়ী। তাদের একজন উপজেলার পাতকুড়া গ্রামের মো. আহিনুর মিয়া বলেন, তারা পাঁচজন পুঁজি বিনিয়োগ করে শেয়ারে ধানের ব্যবসা করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকের বাড়ি থেকে ধান কিনে মধ্যনগর বাজারের আড়তে বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে আশ্বিন-কার্তিক মাস পর্যন্ত তারা ব্যবসা করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, ধানের বেশি দাম পাওয়ার আশায় স্বচ্ছল কৃষকরা এখনো মোটা দাগে ধান বিক্রি করছেন না। এজন্য ধানের দাম একটু বেশি। বর্তমানে মণপ্রতি মোটা ধান ১ হাজার ৫০ টাকা ও চিকন ধানের মধ্যে ব্রি-২৯ ধান ১ হাজার ১৫০ টাকা ও ব্রি-২৮ ধান ১ হাজার ২৫০ টাকায় কিনছেন তারা। নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ আলাউদ্দিন অটো রাইস মিলের জন্য ধান কেনেন আনোয়ার হোসেন নামের একজন বেপারি। মধ্যনগর আড়ত থেকে ধান কিনেছেন তিনি। এই বেপারি জানালেন, মধ্যনগরের আড়তদারদের কাছ থেকেই মণপ্রতি ২৫ টাকা কমিশন দিয়ে ধান নেন তারা।

ধানের আড়তদার গোপেশ চন্দ্র দাস বলেন, ময়ালে (হাওর এলাকা) প্রচুর ধান আছে, মোকামেও ধান বেশি আসতেছে। চাতালের বেপারিরা যে দাম দিচ্ছে, আমরা সেই দামেই ধান ক্রয় করছি। তিনি জানান, মধ্যনগরের ধান আশুগঞ্জ, মদনগঞ্জ, কাঁচপুর এসব এলাকার চাতালে গিয়ে থাকে। চাতালের বেপারিরাই এখান থেকে ধান কিনে নেন।

মধ্যনগর আড়তদার সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বললেন, নদীতে পানি এলেও হাওরে এখনো পানি কম। তাই আড়তে ধানের ব্যবসা সে রকম জমে উঠছে না। এখন ধান আসছে মধ্যনগরের চারটি ইউনিয়ন এবং ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন থেকে। পানি বেড়ে হাওরে নৌকা চলাচল শুরু হলে সারা জেলা থেকে ধান আসা শুরু হবে এই মোকামে। মধ্যনগরের ৩৪ জন আড়তদার এখন গড়ে হাজার মণ ধান প্রতিদিন কিনছে। জমজমাট বেচাকেনা শুরু হলে প্রতিদিন আড়তগুলোতে পাঁচশ থেকে হাজার মেট্রিক টন ধানের আমদানি হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর এই আড়তগুলোতে কোটি কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়। বর্তমানে আমরা মোটা ধান মণপ্রতি ১১০০ টাকা চিকন ধান ১৩০০ টাকার মধ্যে ক্রয় করছি। তবে ধানের গুণাগুণ বিচারে দাম কিছুটা কমবেশি হয়।

মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না ভোরের কাগজকে বলেন, এ বছর মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ২৮৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮১ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ২২০ কোটি টাকার মতো। ধানের বর্তমান বাজার দরও যথেষ্ট সন্তোষজনক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App