×

এই জনপদ

রামুতে আনসার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কামাল হোসেন, রামু (কক্সবাজার) থেকে : রামু উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী আনসার ভিডিপি সদস্যদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উপজেলা আনসার ভিডিপির এই কর্মকর্তা। শুধু অর্থ আত্মসাৎ নয়, নির্বাচনে আনসার বাহিনীর দায়িত্ব পালনেও ছিল নানা অনিয়ম।

অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একই নাম একাধিক কেন্দ্রের তালিকায় দেয়া হয়েছে। টাকা না দেয়ায় দায়িত্ব পাননি শত শত আনসার ভিডিপি সদস্য। টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছে ভিন্ন উপজেলার নারী-পুরুষ। বিভিন্ন কেন্দ্রে তালিকার চেয়ে কম সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রশিক্ষণবিহীন, অসুস্থ ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে।

এ ঘটনায় সর্বত্র চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এমনকি খোদ আনসার ভিডিপি সদস্যরা এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বাসিন্দা দলনেতা শাহজাহান ৫টি গ্রুপ দিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ সদস্যের প্রতিটি গ্রুপের জন্য আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আমান উল্লাহকে ৬ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। আবার শাহজাহান প্রতিজন সদস্যের কাছ থেকে এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এ ৫টি গ্রুপে যারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছে তাদের অধিকাংশ আনসার ভিডিপি সদস্য নয়।

রাজারকুল ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার আলম শাইর জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার ভাই আনসার ভিডিপি সদস্য মোহাম্মদ আলম একটি গ্রুপ দিয়েছেন। এ জন্য আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আমান উল্লাহ তার ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। পরে অপর একটি গ্রুপ ১০ হাজার টাকা দেয়ায় তার ভাইয়ের গ্রুপ বাদ দেয়া হয়। পরে তিনি মেম্বার পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করলে তার ভাইয়ের গ্রুপটিও নেয়া হয়। তবে এজন্য ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়েছেন ৬ হাজার টাকা। অন্যান্য গ্রুপ থেকে ওই কর্মকর্তা ১০/১৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

জিহাদুল ইসলাম (পিতা মোস্তাক আহমদ) নামের এক আনসার সদস্যের নাম রয়েছে ৩টি কেন্দ্রের তালিকায়। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ চাকমারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ক্রমিক নং ৩), চেইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ক্রমিক নং ৯) ও রামকোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ক্রমিক নং ৮)। তবে মোবাইল নম্বর দেয়া হচ্ছে ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আমান উল্লাহ অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এভাবে একটি নাম তিনটি কেন্দ্রের তালিকায় দিয়েছেন।

নানা অনিয়মে ক্ষুব্ধ আনসার ভিডিপি সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি নির্বাচনের আগে আনসার ভিডিপি সদস্যদের যোগ্যতা দেখে বাছাই করে তালিকা করা হয়। এবার বাছাইয়ের শুরুতে শুধু টাকা নিয়ে তালিকা করা হয়। এজন্য বাছাইয়ের দিন অনেক আনসার ভিডিপি সদস্য আসেননি। এ কারণে এবার দুদিন যাছাই-বাছাই করা হয়। কিন্তু এতে কেবল যারা টাকা দিয়েছে তাদের তালিকায় ঠাঁই হয়েছে। আনসার ভিডিপির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যাচাই-বাছাই কমিটির সংশ্লিষ্টরা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এতবড় অনিয়ম রামুতে ইতোপূর্বে কখনো হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামু উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা প্রশিক্ষক (টিআই) আমান উল্লাহ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রশিক্ষণবিহীন বা অযোগ্য কাউকে অস্ত্র না দেয়ার জন্য অস্ত্র বিতরণে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া পর্যাপ্ত না থাকায় সব সদস্যদের পরিচয়পত্র দেয়া হয়নি।

আনসার ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট অমøান জ্যোতি নাগ জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাচনের মতো এক রাষ্ট্রীয় কাজে এমন অনিয়ম দুঃখজনক। এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনিয়মের প্রমাণ হাতে পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App