×

এই জনপদ

দুশ্চিন্তায় তিস্তা পাড়ের কয়েক লাখ পরিবার

উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি

শেখ জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট থেকে : তিস্তা নদীর উজানে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তিস্তা পাড়ের কয়েক লাখ পরিবার। ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর অববাহিকায় চরাঞ্চলের ফসলের মাঠগুলো তলিয়ে গেছে। লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের উজানের নদীর পানি প্রত্যাহার করতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটের মধ্যে ৪৪টি খুলে দিয়েছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের দোয়ানী পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় ৫০.৬৭ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে। পানি হু হু করে বাড়ছে। দিনের চেয়ে রাতে পানি বাড়তে পারে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার। বিপৎসীমা ৫২.১৫ সেন্টিমিটার।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজিক বিভাগের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গভীর রাত পর্যন্ত তিস্তার পানি বেড়ে গিয়েছিল। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টার পর কমতে শুরু করে। আবার রাতে পানি বাড়তে পারে। সাধারণত রাতের বেলায় পানি উজান থেকে ছেড়ে দেয়। কারণ রাতে নদীতে ছোট নৌকা, মাছ ধরার নৌকা থাকে না। ২৪ ঘণ্টায় এক মিটারের মতো পানি বাড়তে পারে।

এদিকে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়ায় লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। বিশেষ করে হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ৮-১০টি চর, কালীগঞ্জ উপজেলার সির্ন্দুনাসহ ১০টি চর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচার ১৫টি চর ও লালমনিরহাট সদরের খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা ইউনিয়নের ২০টি চর পানিতে তলিয়ে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান জানান, তিস্তার উজানে ভারতের ৬টি রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই পানি তিস্তা নদীতে নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী অববাহিকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত বছরের ৪ অক্টোবর ঘটেছিল ভয়াবহ বিপর্যয়। সেই স্মৃতি মানুষ এখনো ভোলেনি। তিস্তার পানি বাড়লে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর উজানের পাহাড়ে বৃষ্টির প্রভাবে নদীর পানি বেড়েছে। লালমনিরহাটের মহিষখোচা, নীলফামারীর জলঢাকা, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। মহিষখোচা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল আলম জানান, তিস্তা নদীপাড়ের বাঁধসংলগ্ন বামতীরে গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর থেকে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী পাড়ের মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে। বন্যা তথ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ৬টি রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি তিস্তা দিয়ে গড়িয়ে ব্রহ্মপুত্রে পড়ছে। তাই হঠাৎ করে তিস্তার পানি বেড়েছে। এমনিতে তিস্তা নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ভারতের নদী গবেষণাকেন্দ্র জরিপে জানা গেছে, তিস্তায় গত বছর বন্যায় প্রায় দেড় মিটার পলি জমেছে। তিস্তার আগের একটি মূলধারা এখন নেই। তিস্তা এখন একাধিক ধারায় প্রবাহিত হয়। ভাঙন ও পলি জমে এমনটি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে তিস্তায় এখন পানি বাড়ে। এই কারণে তিস্তা অববাহিকার মানুষ বন্যার আশঙ্কা করছে। এরই মধ্যে দ্বীপ চরাঞ্চলের বেশ কিছু বসতভিটা, গ্রামের রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানি বাড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষ। দুই দিন আগেও তিস্তা নদী ছিল পানিশূন্য। ছিল চরে চরে ফসলের মাঠ। এখন চরের বেশির ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে বইছে পানির স্রোতধারা।

ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আসাফউদদৌলা বলেন, ১৯৯০ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্প চালু করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ বছরে তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে কোথাও দুই মিটার কোথাও আড়াই মিটার উঁচু হয়েছে। ফলে উজানের ঢলে বা সামান্য বৃষ্টিতেই প্রবল বন্যা দেখা দিচ্ছে। নদীতে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখানে বন্যার পানি প্রবাহের বিপৎসীমা নির্দেশক বাড়িয়ে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App